রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কলকাটি নাড়ছেন আট মামলার আসামি জামায়াত নেতা রওশন আলম
যশোরে মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ বন্ধের দাবি সভাপতি-অধ্যক্ষের
কাগজ সংবাদ
Published : Tuesday, 27 October, 2020 at 8:42 PM

যশোরে মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ বন্ধের দাবি সভাপতি-অধ্যক্ষেরএবার কচুয়া ইউনিয়নের ঘোপ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল কলেজ অবৈধ আখ্যা দিয়ে বন্ধের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোরের মুক্তিযোদ্ধা নেতারা। গত ১৮ অক্টোবর গ্রামের কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছেন তারা। যাদের হাত দিয়ে কলেজটি উদ্বোধন হয়েছিল তারাই সংবাদ সম্মেলন করে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, উদ্যোগটি ভালো ভেবে তারা যান। পরে জানতে পারেন এটি প্রতারণা হচ্ছে।
প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহম্মেদ। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে একটি চক্র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নামে সারাদেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে টাকা হাতানো শুরু করেছে। তার প্রধান হোতা প্রতিষ্ঠান পরিচালক মান্নান। বগুড়া থেকে তিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। অবৈধ টাকার একটি অংশ চলে যাচ্ছে তার কাছে। শুধু যশোর না, সারাদেশে এ ধরনের কর্মকান্ড চলছে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
লিখিত বক্তব্যে রাজেক আহম্মেদ বলেন, যশোর সদর উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান প্রধান বগুড়ার আব্দুল মান্নান বিভিন্ন উপজেলায় নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে মান্নান স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের একজনকে রাখছেন উঁচুপদে। তবে,কর্তৃত্ব থাকছে তার পছন্দের কয়েকজনের হাতে। ঠিক তেমনটিই হয়েছে যশোরের ক্ষেত্রেও। যশোর মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল কলেজের সভাপতি করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হককে। এরপর প্রতারক মান্নান খুলনা বিভাগীয় কোঅর্ডিনেটর বানিয়েছেন জামায়াত নেতা রওশন আলম নামে একজনকে। এই রওশনই এ অঞ্চলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নড়াইলের তুলরামপুরের আশার আলো কলেজের অধ্যক্ষ। তার নামে নাশকতাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। জেলও খেটেছেন এই রওশন। আর তার খালাতো ভাই বহুল বিতর্কিত ইদ্রিস আলমকে পরিচালনা কমিটির সদস্য বানানো হয়েছে। মূলত ইদ্রিস আলমই নিয়োগের নামে অর্থবাণিজ্যে নেমেছেন। ইতিমধ্যে তিনি অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একইসাথে উপাধ্যক্ষ সুজয় কুমার সুরের কাছ থেকে পাঁচ লাখ ও প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নুরমোহাম্মদের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঘোপের হামিমের কাছ থেকে দেড় লাখ, কচুয়ার নিপুর কাছ থেকে তিন লাখ, একই এলাকার তবিবুর রহমানের কাছ থেকে তিন লাখ, রসুলকাটির গনেশ পালের কাছ থেকে পাঁচলাখ, ঘোপের কামাল ডাক্তারের কাছ থেকে তিন লাখ, দিয়াপাড়ার আব্দুল্লাহর কাছ থেকে দেড়লাখ, একই এলাকার জহিরের কাছ থেকে একলাখ ও ইব্রাহিম মাস্টারের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। সদর উপজেলার বাইরে মণিরামপুরেও একই অবস্থা। সেখানে অধ্যক্ষ করা হয়েছে বড় ভাইকে। আর ছোট ভাইকে করা হয়েছে উপাধ্যক্ষ। তারা নিয়োগের নামে অর্থ হাতাচ্ছেন। বাঘারপাড়ায়ও একইভাবে নিয়োগ বাণিজ্যে নেমেছে এই চক্র। অভিযোগ রাজেক আহম্মেদের। তিনি জানান, যশোর সদর উপজেলায় ইদ্রিস আলমের সাথে ওই এলাকার লাভলু লস্কর,আব্দুল হামিদ, মহসিন আলী ও তোফায়েল আহম্মেদ এ নিয়োগ বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হক বলেন, সভাপতির প্রস্তাব পাওয়ার পর ভালো উদ্যোগ হিসেবে তিনি সম্মতি দেন। এরপর মান্নান সরকারের আহ্বানে বগুড়ায় গেলে তিনি কমিটি করে দেন। মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হক আরও বলেন, কলেজ উদ্বোধনের পর তাদের প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাদের জানান। এরপর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ  নুরমোহাম্মাদ বলেন, চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তাই টাকা দিয়ে চাকরি নিয়েছেন। তাছাড়া, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিষ্ঠান ভালো হবে বলে বিশ্বাস ছিল। কিন্তু পরে জানতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন মনি, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন  দোদুল,মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম,নুর মোহাম্মদ কুটি প্রমুখ।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft