বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
মোস্টওয়ান্টেড ভগ্নিপতিসহ আটক ২
মসজিদে পালিয়েও রক্ষা পাননি মান্নাত সাবেক স্ত্রী সুমিকে খুঁজছে পুলিশ
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Tuesday, 27 October, 2020 at 9:16 PM
মসজিদে পালিয়েও রক্ষা পাননি মান্নাত সাবেক স্ত্রী সুমিকে খুঁজছে পুলিশপরকীয়া সংক্রান্ত শত্রুতায় স্কেভেটর চালক ইসরাফিল হোসেন মান্নাত (৪২) খুন হওয়ার ঘটনায় আসছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার রাতে প্রাণ বাঁচাতে মান্নাত পালিয়ে একটি মসজিদে উঠলেও রক্ষা পাননি তিনি। ভগ্নিপতি শাহ আলমের ভাগ্নে শামীম ইট দিয়ে নির্মমতা চালিয়ে হত্যা করে তাকে।
কয়েকবার ফিরিয়ে আনার পরও ভগ্নিপতির সাথে পরকীয়া অব্যাহত রাখায় স্ত্রী সুুমির সাথে ছাড়াছাড়ি হয় মান্নাতের। এদিকে ২৬ অক্টোবর গভীর রাতে হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী মোস্টওয়ান্টেড শাহ আলী মৃধা ওরফে শাহ আলমসহ দু’জনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। এছাড়া অন্যতম আসামি মান্নাতের সাবেক স্ত্রী সুমিকে খুঁজছে পুলিশ।
২৩ অক্টোবর রাতে যশোর শহরের কারবালা সিএন্ডবি রোডের পাশে হত্যা করা হয় মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমানের ছেলে মান্নাতকে। তিনি যশোরের বকচর বিহারী কলোনীর গোলাম মোস্তফার বাড়ি ভাড়া থাকতেন। ২৪ অক্টোবর তার মা আনোয়ারা বেগম কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এতে ৫ জনকে আসামি করা হয়।
এদিকে, মামলাটি ক্লুলেস ও স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই শামীম এসআই মফিজুল ইসলাম পিপিএম, নূর হোসেনসহ আরও কয়েক অফিসারকে সাথে নিয়ে তদন্ত ও আটক অভিযান শুরু করেন।  তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ পরিস্কার হয় নিহত মান্নাতের স্ত্রী শারমিন সুলতানা সুমির সাথে ভগ্নিপতি শাহ আলমের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে গোলযোগের জের ধরে শাহ আলম তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ওই হত্যায় শাহ আলমসহ ৯ জন জড়িত বলে তদন্তে তথ্য পায় পুলিশ। ২৪ ও ২৫ অক্টোবর অভিযান চালিয়ে  আটক করা হয় মাহিদিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আল আমিন, পুরাতনকসবা কাঁঠালতলা নান্টুর বাগান এলাকার আবু তাহেরের ছেলে রিফাত, সুজলপুরের আব্দুর রশিদের ছেলে রায়হান শেখ ও শফিকুল ইসলামের ছেলে নয়ন হোসেনকে। তারা হত্যা মিশনে জড়িত স্বীকার করে নানা তথ্য দেন। এরপর ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাত ১ টা ৩৫ মিনিটে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় হাশিমপুর থেকে আটক করা হয় শাহ আলমকে। তিনি শহরের পুরাতনকসবা কাজীপাড়া মানিকতলার শফিয়ার রহমানের ছেলে। ওই রাতে আটক করা হত্যা মিশনের আরেক সদস্য আল আমিনকে। তিনি রামনগর খাঁ পাড়ার ছমেদ আলীর ছেলে। ২৭ অক্টোবর আদালতে স¦ীকারোক্তি দিয়েছেন শাহ আলম ও আল আমিন। তারা জানান, মান্নাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে কৌশলে কারবালা রোডে নিয়ে গেলে মান্নাত টের পেয়ে যায়। হত্যাকারী শামীমকে ছায়ার মত দেখতে পেয়ে একটি মসজিদে ঢুকে পড়েন মান্নাত। পরে তাকে অভয় দিয়ে ড্রাইভার আল আমিন ফোন করে ডেকে আনেন। এরপর তাকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন শাহ আলমের ভাগ্নে শামীম ও তার সহযোগীরা।
শাহ আলম শ্যালক মান্নাতের স্ত্রী শারমিন সুলতানা সুমির সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। তাদেরকে খোঁজে পেয়ে কোটচাঁদপুর এলাকার স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলরের মাধ্যমে তালাক করাতে বাধ্য করেন মান্নাত। ওই সময় ভগ্নিপতি শাহ আলমকে মারপিট করা হয়। এরপর মান্নাত ও সুমির মধ্যেও ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। মান্নাত বোনের শান্তির জন্য খোঁজ নিতে শাহ আলম আবারো সুমির কছে যান কিনা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শাহ আলমের পিছু নেন মান্নাত। এতে ক্ষুব্ধ হন তিনি। ওই আক্রোশে শাহ আলম তার ভাগ্নে শামীম ও তার পরিচিত উঠতি দুর্বৃত্তদের মাধ্যমে হত্যা করেন।  
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, মান্নাতের মা ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ডিবি তদন্তে ঘটনায় ৯ জন জড়িত বলে তথ্য মিলেছে। মূল পরিকল্পনাকারী শাহ আলমসহ ৬ জন আটক হয়েছে। তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এছাড়া খোঁজা হচ্ছে মান্নাতের সাবেক স্ত্রী সুমিকে। খোঁজা হচ্ছে ভাগে শামীমকে। দ্রুতই তারা আটক হবে।  





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft