রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০
অর্থকড়ি
বিষমুক্ত সবজি চাষের মডেল যশোরের লেবুতলা
৮০ শতাংশ চাষি এখন বিষ ব্যবহার করে না
এম.আইউব
Published : Wednesday, 28 October, 2020 at 10:03 PM
বিষমুক্ত সবজি চাষের মডেল যশোরের লেবুতলাপারভীনা আক্তার। বাড়ি লেবুতলা ইউনিয়নের বীরনারায়নপুর গ্রামে। পুরোদস্তুর কৃষানি। সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে সংসার চলে তার। বর্তমানে অন্যান্য সবজির সাথে পাঁচ শতক জমির ওপর পটল চাষ রয়েছে। তার পটল খেতে রয়েছে আটটি ফেরোমন ফাঁদ। ক্ষতিকর পোকা দমন করতে ব্যবহার হচ্ছে এটি। পোকা দমনে তিনি এখন আর কীটনাশক ব্যবহার করেন না। কেবল পারভীনা নন, এখানকার ৮০ শতাংশ চাষি কীটনাশককে ইতিমধ্যে ‘গুডবাই’ জানিয়েছেন। আর এ কারণে আইপিএম (সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা)-এ মডেল হয়েছে যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়ন।
পারভীনা কেবল সাধারণ কৃষানি না। তিনি আইপিএম গ্রুপের একজন তালিকাভুক্ত সদস্যও। এই গ্রুপের সভাপতি মনিরুজ্জামান। সভাপতি জানান, সারা বছর সবজি চাষ করেন পারভীনা। তিনি তার সবজিতে বিষ ব্যবহার না করার চেষ্টা করেন। গ্রুপের মাধ্যমে আইপিএম প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এই নারী।
লেবুতলা ইউনিয়নের আরেক চাষি জামাল হোসেন। বর্তমানে ২৮ শতক জমিতে তার লাউ রয়েছে। পোকার হাত থেকে লাউ রক্ষা করতে তিনি জমিতে ছয়টি ফেরোমন ফাঁদ স্থাপন করেছেন। আগের মতো এখন আর কীটনাশক ব্যবহার করেন না তিনি। জামাল হোসেন জানান,‘বিষমুক্ত সবজি চাষ করছি। তবে, কখনো কখনো ফেরোমনের পাশাপাশি সামান্য পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করি। মাঝে মাঝে ডেসিস নামে একটি কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে পোকার বড় ধরনের আক্রমণ থেকে লাউ রক্ষা করতে।’
পারভীনা ও জামাল হোসেনের মতো এই ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ কৃষক আইপিএমে অভ্যস্ত হয়েছেন। কেবল আইপিএম বললে ভুল হবে। এখানকার এক হাজারের বেশি চাষি ভার্মি কম্পোস্ট  (কেঁচো সার) তৈরি করছেন বাণিজ্যিকভাবে। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে এটি। তবে, যাতায়াত ব্যবস্থা ঠিকমতো না থাকায় কৃষকের কষ্টের এই ভার্মি কম্পোস্ট ঠিকমতো বাজারজাত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা।
লেবুতলায় আইপিএম আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব ইউপি মেম্বার মোহন ঘোষ বলেন,‘এখানকার ৮০ শতাংশ কৃষককে আইপিএম প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১২শ’র মতো কৃষক ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করেন। যা অন্য কোনো ইউনিয়নে নেই।’
আইপিএম মডেল এসব চাষিকে নিয়ে বুধবার প্রদর্শনীর উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম করে যশোর সদর উপজেলা কৃষি অফিস। পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় লেবুতলা ইউনিয়নের কোদালিয়া বাজারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরাঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক পার্থ প্রতীম সাহা। সভাপতিত্ব করেন যশোরের  উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস। স্বাগত বক্তৃতা করেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন। এ সময় লেবুতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলিমুজ্জামান মিলনও বক্তৃতা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, প্রদর্শনীর সাইনবোর্ড অনেক কৃষক তাদের বাড়িতে রাখেন। এটি ঠিক না। এই সাইনবোর্ড ফসলি জমিতে স্থাপন করতে হবে। যাতে করে অন্যরা চাষ সম্পর্কে জানতে পারে। তিনি বলেন, যাদের দেশাত্মবোধ নেই তারাই ভেজাল সার তৈরি করে। কৃষকের বড় কোনো চাহিদা থাকেনা। চলার মতো মূল্য পেলেই তারা খুশি। বিষ বেশি দেওয়ার কারণে ফসলে রোগ বালাই বাড়ছে বলে জানান তিনি। 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত চাষিরা সার সংকটের কথা বলেন। তারা জানান, অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে তাদের। বিষয়টি দেখার জন্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কৃষক-কৃষানি।
কৃষকের এ ধরনের বক্তব্যের জবাবে উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন,‘সরকার সারের দাম বাড়ায়নি। কৃষকের স্বার্থে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না। সারের ঘাটতি নেই। বরং চাহিদার তুলনায় বেশি রয়েছে। অতিরিক্ত দাম এবং ভেজাল সার চিরতরে বন্ধ করতে হবে।’
এদিন উপস্থিত দেড় শতাধিক কৃষক-কৃষানিকে আইপিএমের নানা ধরনের উপকরণ প্রদান করা হয়। অতিরিক্ত পরিচালক পার্থ প্রতীম সাহা ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন এসব উপকরণ হস্তান্তর করেন।   




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft