বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১
ওপার বাংলা
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রীর পুত্রবধূ থেকে ফেইসবুকের শীর্ষে আঁখি দাস
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 29 October, 2020 at 4:01 PM
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রীর পুত্রবধূ থেকে ফেইসবুকের শীর্ষে আঁখি দাসমুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠে ফেইসবুকের বিরুদ্ধে। যার জেরে পদত্যাগ করতে হলো দেশটিতে ফেসবুকের পাবলিক পলিসি প্রধান আঁখি দাসকে। তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ফেইসবুকের পাবলিক পলিসির দায়িত্বেও ছিলেন।
কে এই আঁখি দাস? কীভাবে তিনি উঠে এলেন বিশ্বসেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানির শীর্ষে? আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে তার ব্যক্তিজীবন তুলে এনেছে।  
নামী বহুজাতিক কোম্পানিতে দীর্ঘ দিন উঁচু পদে চাকরি করা মুষ্টিমেয় বাঙালি মেয়েদের মধ্যে আঁখি দাস একজন। ব্যক্তিগত জীবন প্রচারের আড়ালে রাখতেই ভালোবাসেন তিনি। তার ছাত্রজীবনের প্রথমার্ধ কেটেছে কলকাতায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক স্তর সম্পূর্ণ করে লোরেটো কলেজের ছাত্রী আঁখি চলে যান দিল্লি। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেন।
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী ও দুইবারের বিধায়ক, বর্ধমানের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ তিনি। স্বামী সৌম্য চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিল্লিতেই থাকেন আঁখি। প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সৌম্যও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত ছিলেন বিজেপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন এবিভিপি'র সঙ্গে। আঁখির বোন রশ্মি দাস ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপির সভানেত্রী।
দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ভারতের ফেইসবুক কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। করপোরেট উচ্চপদস্থ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা দেড় দশকের। ফেসবুকের আগে আঁখি ছিলেন মাইক্রোসফট ইন্ডিয়ায়। সেখানে তিনি পাবলিক পলিসি, লিগ্যাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত আগস্ট মাসে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসে আঁখির নাম। অভিযোগ ওঠে, ফেইসবুকে বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতা-নেত্রীদের ঘৃণাবাচক মন্তব্য দেখেও কোম্পানির নীতি অনুসারে পদক্ষেপ নেয়া হতো না।
বিষয়টি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রথম বেরিয়ে আসে। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ তোলা হয়, বহু বিজেপি নেতা এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা-নেত্রীর ‘উসকানিমূলক’ বা হিংসা ছড়ানোর মতো মন্তব্য এবং পোস্ট ফেইসবুক থেকে সরানোর বিরোধী ছিলেন আঁখি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ফেইসবুকের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি ইমেইল প্রকাশ করে। তার ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিজেপি নেতা টি রাজা সিংহের পোস্ট করা ‘উসকানিমূলক’ মন্তব্য সরানোর বিরোধিতার পাশাপাশি আঁখি ওই বিজেপি নেতাকে ‘বিপজ্জনক’ বলে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও বিরোধিতা করেছিলেন।
আঁখির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য প্রচার এবং ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ছত্তিশগড় পুলিশ মামলা দায়েরও করে একটি। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনার তদন্ত চেয়ে ফেইসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। ছত্তিশগড় পুলিশ সূত্রের খবর, আবেশ তিওয়ারি নামে এক সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতেই আঁখির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। অন্যদিকে অনলাইন ও অফলাইনে তাকে শারীরিক আক্রমণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দিল্লি পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখায় আবেশসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন আঁখি।
ফেইসবুকে যার উসকানিমূলক বার্তা নিয়ে এত বিতর্কের জলঘোলা হয়, তেলেঙ্গানার সেই নেতা হলেন টি রাজা সিংহ। এই বিজেপি বিধায়ক মুসলিম বিক্ষোভকারীদের গুলি করে মারতে উসকানি দিয়েছিলেন ফেইসবুকের পোস্টে।
ফেইসবুকের নীতিমালা অনুযায়ী রাজাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার জন্য সুপারিশ করেছিলেন কোম্পানিটির ভারতীয় শাখার কয়েকজন কর্মী। কিন্তু আঁখি নাকি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপি নেতাদের আইনভঙ্গকারী হিসেবে শাস্তি দিলে ভারতে ফেইসবুকের ব্যবসায়িক ক্ষতি হতে পারে।
যদিও মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসলে রাজার পোস্টগুলো সরিয়ে নেয়া হয়। বিরোধী দল ও মানবাধিকার কর্মীরা এ নিয়ে সোচ্চার হলে বিজেপি নেতার অ্যাকাউন্টও মুছে দেয়া হয়।
তবে আঁখির বোন রশ্মি দাস জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপির সভানেত্রী ছিলেন, সেই তথ্য সামনে আসায় পুরো বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছিল। বিতর্কের আড়াই মাসের মধ্যে ফেসবুক থেকে পদত্যাগ করেন আঁখি। ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ তার পদত্যাগের কথা স্বীকার করেছে।
বিতর্ক শুরু হওয়ার পরেই কোম্পানির ভেতরে-বাইরে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে আঁখিকে। ওই অভিযোগ ওঠার পর সংসদীয় কমিটির সামনেও হাজিরা দিতে হয়েছিল আঁখিকে।
আরও জানা যায়, ২০১১ সালে ফেইসবুকের ভারতীয় শাখায় যোগ দেওয়া আঁখির অন্যতম কাজই ছিল সরকারের সঙ্গে সংস্থার সম্পর্ক মসৃণ রাখা। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি লোকসভা ভোটে জেতার পরে উচ্ছ্বসিত আঁখি কর্মীদের ই-মেইলে লিখেছিলেন, ‘আমরা তার (মোদি) সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার দাবানলের মতো ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। বাকিটা ইতিহাস।’ ২০১২ সালে গুজরাটের বিধানসভা ভোটের সময়েও নাকি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির প্রচারণায় ভূমিকা ছিল আঁখি দাসের।
কংগ্রেস, তৃণমূলসহ বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের বিদ্বেষমূলক লেখা-ছবি-ভিডিও (কনটেন্ট) সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখাতেন আঁখি। রেখে দেওয়া হতো বহু উসকানিমূলক কথাবার্তা। একই নীতি নেওয়া হতো তাদের হোয়াটসঅ্যাপের বেলায়।
তবে শুরু থেকে পুত্রবধূর পাশে ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী রবিরঞ্জন। তিনি বলেন, ‘তার পুত্রবধূ বুদ্ধিমতী। সে অনৈতিক কিছু করতে পারেন না। আঁখিকে ঘিরে ষড়যন্ত্র তৈরি হয়েছে।’



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft