বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০
মতামত
আঁধারে তাই বিষম প্রকট
মাহমুদা রিনি
Published : Saturday, 31 October, 2020 at 9:25 PM
আঁধারে তাই বিষম প্রকট আলোতে যা যায়না দেখা আঁধারে তাই বিষম প্রকট ঘুরে মরে আঁধার ঘোরে জানি না এ কি সংকট---? প্রত্যেক মানুষের মনের গভীরে একটা ব্লাকহোল থাকে। গাঢ় অন্ধকার সুতীব্র আকর্ষণে টানতে থাকে সমস্ত আলো! সেই আকর্ষণে মানুষের সমস্ত কুপ্রবৃত্তি গুলো সচল হয়ে ওঠে। আলো থেকে ক্রমশ অন্ধকারে ধাবিত হয়। যে সেই অন্ধকারের টান অতিক্রম করতে পারে সে আলোকিত মানুষ। আলো প্রকাশ্য শক্তি। জগতের যা কিছু স্বচ্ছ, সহজ ও পরিষ্কার সেখানেই আলোর প্রকাশ, তা সে হোক অন্তরে অথবা বাইরে। সৃষ্টিশীল, সৃজনশীল শক্তির উৎসই আলো। কিন্তু অন্তরের এই ব্লাকহোল এতটাই প্রচন্ড চৌম্বক শক্তির আধার যে মানুষের সুপ্রবৃত্তি গুলো অনেক সময় আলোর বিপরীতে আত্মসমর্পণ করে। তাই হয়তো সৃষ্টির শুরু থেকেই আলো-আঁধার, ভালো- মন্দ সমান্তরাল ভাবে চলে আসছে। একসময় খুব মনে হতো আঁধারের মানুষ কারা! যারা অন্যায় করে, খুন খারাবি, চুরি ডাকাতি, মানুষকে অপমানের মতো কাজ করে! তাহলে তারা এক প্রজন্মেই শেষ হয়ে যায় না কেন! সৃষ্টির শুরু থেকেই আজ পর্যন্ত দিন রাত্রির আলো আঁধারের মতোই ভালো মন্দ মানুষ সমান ভাবে কেন জন্ম নিচ্ছে? এখন মনে হয় এটাই সৃষ্টির আদি রহস্য। ভালো মন্দ মিলিয়েই একটা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে প্রকৃতিও। একদিক অপরূপ তো আরেক দিকে ভয়ংকর। অর্থাৎ এই সহাবস্থান থাকবেই। প্রকৃতি বা অন্য সব জীবের কথা বাদ দিয়ে শুধু মানুষের কথা যদি ভাবি, মানুষেরই আছে সেই ক্ষমতা তার সহজাত প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার। ভালো মন্দ উভয় প্রবৃত্তি নিয়েই মানুষ জন্ম নেয়। আবার মানুষই নিয়ন্ত্রণ করে তার অপরিমিত ইচ্ছাকে। যেমন কিছু মানুষ জৈবিক চাহিদার কাছে আত্মসমর্পণ করে নানান ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ করে। বিভিন্ন কুপ্রবৃত্তি জাতীয় চাহিদার কারণে হাজারটা জীবন, সংসার ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ জৈবিক চাহিদা সব মানুষেরই আছে। অধিকাংশ মানুষই সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করে পরিশীলিত নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসে। সব রকম অস্বাভাবিক কাজ থেকে বিরত থাকার ক্ষমতা যখন মানুষের আছে তখন মানুষ বিপথে যায় কেন? এই অমীমাংসিত প্রশ্নটা কেবলই মাথায় ঘুরপাক খায়! সে কি পারিবারিক বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাবে নাকি জিনগত প্রভাবেই কিছু মানুষ অনিয়ন্ত্রিত থাকবেই সবসময়! তা নাহলে যুগ যুগ ধরে একই ধরনের অপরাধ বা অসংগতি গুলো টিকে থাকবে কেন! সবসময়ই মানুষ পিছনের সময় থেকে সামনে এগিয়েছে। শিক্ষা দীক্ষা, সংস্কৃতির উন্নতি হয়েছে কিন্তু অপরাধ প্রবণতা সাথে রয়েই গেছে। শুধু অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের ধরণ চেঞ্জ হয়েছে মাত্র। এই জায়গায় এসে মনে হয় মানুষ ন্যায়-অন্যায় প্রবণতা নিয়েই জন্মায়। জন্মের পর চারপাশের পরিবেশ, শিক্ষা, সামাজিক অবকাঠামো থেকে ঠিক বেঠিক স্বত্বা গুলো পরিবেশ অনুযায়ী বিকাশ লাভ করে। এই বিকাশের প্রথম ধাপেই যদি কুপ্রবৃ্তেিক ধ্বংস করা যায় তাহলে হয়তো তা রোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে শিশুদের মনোজগতের প্রতি যদি বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করে সঠিক নিয়মে তাদেরকে আগামী দিনের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা যায় তাহলেই দুর্নীতি, সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা যেতে পারে। ‘বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করা’র কথা এইজন্য বলছি যে একটি শিশু যদি জন্ম থেকে বাবা-মাকে শান্তিপূর্ণ এবং সঠিক ভাবে পায়, সে যদি কোন অনিয়ম, অসঙ্গতির মধ্যে বড় না হয়,তার বড় হয়ে ওঠা জগতটা ন্যায় পরায়ণ ও সততার মধ্য দিয়ে হয় তাহলে তার ভিতরের অন্ধকার দিকগুলো কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে না। আশা করতে দোষ নেই যে আগামী প্রজন্মকে সুন্দর, বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে আমরা সবাই চাই। তাহলে আজ থেকে যে শিশুটি এখনো জন্মায়নি সেই অনাগত শিশুর ভবিষ্যতের ভাবনা আমাদের এখনি ভাবতে হবে। আমরা যদি আমাদের ভিতরের অন্ধকার দিকগুলোর দরজা বন্ধ করতে পারি, লোভ, লালসা, দুর্নীতি, জিঘাংসা গুলোকে অবদমন করতে পারি তাহলেই ভবিষ্যতের জন্য আলোকিত মানুষ আমরা তৈরি করতে পারবো। বাবার দুর্নীতির টাকায় যেমন সৎ সন্তান তৈরি হয় না, নির্যাতিত মায়ের সন্তানও সাহসী, স্বাবলম্বী হতে ভয় পায়। অর্থাৎ আগামী প্রজন্মের কথা ভেবেই আমাদের বর্তমান সময়কে কাজে লাগাতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এমন নজির আছে যে আগামী দিনের সন্তানের ভাবনা কেমন হবে সেটা মাথায় রেখেই বর্তমানের ভাবনার পথ প্রসস্থ করা হয়। আধুনিকায়নের এই যুগে আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো! আমরাও আমাদের কুপ্রবণতাকে বিসর্জন দিয়ে আগামী প্রজন্মের স্বার্থে আলোকিত মানুষ হয়ে উঠতেই পারি। আমাদের সমাজ হোক আলোকিত, দেশটা হোক আলোকিত মানুষের দেশ।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft