রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০
মতামত
করোনায় জীবন কেমন কাটছে
আদনান আল আসাদ
Published : Monday, 16 November, 2020 at 12:19 AM
করোনায় জীবন কেমন কাটছেসূচনা:
    বাড়ির বাগানটা চুপচাপ বসতে বসতে অম্বির হয়ে উঠেছে, খেলার মাঠটা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, অন্যদিকে দূষণমুক্ত নীল আকাশ হয়ে উঠেছে। এ কোন নতুন বসন্ত ! প্রকৃতি সেেেজ উঠেছে নুতন রঙে। আর সেই সৌন্দর্যে খাত হয়ে কবির কলম তার ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে। রোজ তিনি বেলা মায়ের হাতে খাবার খাওয়ার আনন্দ। কয়েনের যেমন দুটো দিক রয়েছে। এই যে লক ডাউনের ও দুটো দিক রয়েছে।আমরা কেউই এই ভাবে ঘরে বসতে চাই না। অনেকের কাছেই দুঃসহ অনেকে আবার এই ঘরে বসার অবসরে ভালো কিছুর সাথে পরিচয় হচ্ছে নিজের অজান্তে। কেউ খুঁজে পাবে আবার নিজেকে নতুন করে।

কোভিড মহামারি কি এবং কিভাবে জেনেছিঃ
কোভিড মহামারি বলতে করোনা ভাইরাস রোগ ২০১৯  কোভিড-১৯) এর বিশ্বব্যাপী প্রাদুর্ভাব ও দ্রুত বিস্তারের চলমান ঘটনাটিকে নির্দেশ করা হয়েছে। এই রোগটি একটি বিশেষ ভাইরাসের কারণে সংঘঠিত হয়, যার নাম গুরুত্বর তীব্র শ্বাসযন্ত্রীয় রোগলক্ষন সমষ্টি সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস রোগটির প্রাদুভাব প্রথমে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে “চীনের হুপেই প্রদেশের উহান” নগরীতে শনাক্ত করা হয়। ২০২০ সালের ১১ই মার্চ তারিখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২০ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের অধীনস্থ অঞ্চলে “২ কোটি ৯৭ লাখের বেশি” ব্যাক্তি করোনা ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। এদের মধ্যে “৯লাখ ৪০ হাাজর ” ব্যাক্তি মৃত্যু বরণ করেছেন।
    সর্বপ্রথম আমি টেলিভিশনে এই কোভিড মহামারি সম্পর্কে শুনি, এবং এর প্রভাব বাংলাদেশে পরতেই আরো সর্তকমূলক ভাবে বেশি প্রচার হতে লাগলো টেলিভিশন, ফেসবুক এ গুলোর মতো গণমাধ্যম গুলোতে, আমার এলাকাতে করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তি শঙ্কা শন্তাক্ত হয়েছিল। যার ফলে দ্রুত আতঙ্কিত ছড়িয়ে পরে। এবং আমার বাইরে বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এভাবেই আমি কোভিড মহামারি সম্পর্কে জেনেছি।
কোয়ারেন্টাইন কি এবং কেনঃ
    কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথক থাকা। তবে কোয়ারেন্টাইন মানে এই নয় যে, আপনাকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেওয়া, যদি কারোর করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে তাকে জনবহুল এলাকা থেকে দূরে রাখতে এবং ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অন্তত ১৪ দিন আলাদা থাকতে বলা হয়। মূলত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টাইন মানে বাড়িতে বা বদ্ধ ঘরে থেকে অথবা সম্পূর্ণ নিরাপদ স্থানে থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কোয়ারেন্টাইনে সর্বোচ্চ চার থেকে ছয়জনকে একসঙ্গে রাখা যায়।
    বিশ্বব্যাপি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাটাও অনেক, জনমনে এখন একটাই আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। সেই ভাইরাসের প্রাদুর্ভার ঠেকাতেই কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। করোনা উৎপত্তিস্থল চীনে কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল সবার আগে।
    সর্বশেষ ইতালি দেশটির ১৬ মিলিয়ন মানুষকে বাধ্যতামূলক ভাবে কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য আদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্বের যে কোনো জায়গাতেই করোনা উপসর্গ দেখা দিলেই প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কোয়ারেন্টাইনে থাকা নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
করোনা প্রেক্ষাপটে আমার সচেতনাতা:
১। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে খুবই গুরুত্ব পূর্ণ একটি বিষয় হলো প্রতিনিয়ত কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিতে হাত ধোয়া, করোনা আতঙ্ক নয় সচেতনতা এটাই মনে প্রাণে বিশ্বাস করা।
২। করোনা প্রেক্ষাপটে আমার সচেতনতা মূলক কিছু কাজ রয়েছে। খুব জরুরী না হলে বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দিই। পাড়ার দোকানটুকুও নয়। আত্নীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী কারোর বাড়ি না যাওয়া। তাদের ও নিজের বাড়িতে না ডাকা। যেখানে বেশি ভিড় সেখান থেকে এড়িয়ে চলা, শপিং মল হোক কি ধর্মীয় স্থান।
৩। সাধারণ হাইজিন মেনে চলি, খাবার আগে এবং ঘন্টায় অন্তত একবার করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। নাকে মুখে হাত যথাসম্ভব কম দেওয়া। ফলমূল, শাকসবজি ভালো করে ধুয়ে খাওয়া।
 আমি একা কি করবো? সবাই তো মানছে না-এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন সবাই। আপনার মাধ্যমে যদি একজন ও ক্ষতিগ্রস্থ হয় সে হলো আপনার প্রিয়জন। এই মানসিকতা দিয়ে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ঘর থেকে বের না হওয়া এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এই দুটি মেনে চলা।
কৈশোর সময়ে করনার প্রভাবঃ
    কৈশোররা করোনা ভাইরাসে অপেক্ষাকৃত অনেক কম আক্রান্ত হলেও বলা হচ্ছে, কৈশোররা করোনা ভাইরাসের নীরব শিকার।
    করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রামনের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে মারাত্নক কাঘাত ঘটায় বেকারত্ব, দারিদ্্র, ক্ষুধাও যেন কোভিড-১৯ এর উপসর্গ হয়ে উঠেছে, পরিবারে খাদ্য সংকট কারণে কৈশোররা অপুষ্টিতে ভূগছে।
    কৈশোরদের যে সুষম পুষ্টি সেটা কিন্তুু হচ্ছে না। সে কারনে কৈশোরদের লম্বায় বড় হওয়া ওজন বাড়া এসব কমে যাচ্ছে।
    ঘরে বসে থেকে কৈশোররা একাকীত্বে ভূগছে। দীর্ঘদিন আবদ্ধ অবস্থা কৈশোরদের সকল ধরনের বিকাশ বাধাগ্রস্থ করছে। এবং কৈশোর সময় কাটানোর জন্য অন্য ছেলেমেয়েদের দরকার হয়। তার থেকেও কৈশোররা ব্যাহত হচ্ছে।
    কৈশোরদের পুষ্টি অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে কৈশোরের সংস্পর্শে আসার সুযোগ কৈশোররা সবচেয়ে বেশি পায় স্কুলে। সেই সুযোগ তার একেবারেই কমে গেছে।
    কিশোর বয়সী মেয়েরা বিশেষ করে বাল্য বিয়ের শিকার হচ্ছে, যেহেতু স্কুলে যেতে পাচ্ছে না, তাই পরিবার কৈশোর ছেলে মেয়েদের বিভিন্ন কাজে মুক্ত করছে। কৈশোরদের একটি বড় প্রভাব পরছে তাদের শিক্ষাজীবনে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়।
যে ঘটনাটি আমার মনে দাগ কেটেছেঃ
    করোনার প্রতিটি মূহুর্র্তই ছিল মনে দাগ কাটার মতো। কিন্তুু আমার মনে সবচেয়ে বেশি দোলা দিয়েছে কীভাবে মানুষের অন্তিম সময়েও মানুষের আপন জনরা মূখ ফিরিয়ে নেয়। করোনায় আক্রান্ত মানুষ গুলো যখন জীবন যুদ্ধ করছে হাসপাতালের বেডে তখন তাদেরকে সাহস দেওয়ার মতো আপন জন খুবই কম রয়েছে তাদের পাশে। শুধু তাই নয়। আক্রান্ত লোকের বাড়িকে করে দেওয়া হয়েছে একঘরে। সমাজের মানুষরা, বলেছে অনেক কটু কথা এমনকি তাদের সাহায্য পর্যন্ত করেনি কেউ। আক্রান্ত ব্যাক্তি মারা যাওয়ার পর তার অন্তিম কাজে কেউ আসেনি। বাড়ির সদস্যরা পর্যন্ত মৃত ব্যাক্তিকে স্পর্শ করেনি। এমন অনেক ঘটনা আছে যেখানে মৃত ব্যাক্তির জানাজা বা কবর পর্যন্ত হয়নি। আবার অনেকে রাতের অন্ধকারে লাশ ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে। মানব সমাজ পরিণত হয়েছিল কঠোরতায়। এমন দিনের সম্মুখীন কখন হতে হবে এটি কল্পনা অতীত ছিল। এছাড়াও অনেক ঘটনা আমার অন্তরকে কাঁদিয়েছে কিন্তুু মনে দাগ কেটে গেছে এমন দৃশ্য দেখে।
করোনাকালে পরিবারের প্রতি আমার দায়িত্বঃ
    এই করোনাকালে আমরা সবাই ঘর বন্ধি হয়ে গেছি, তাই এই করোনা কালে পরিবারের প্রতি আমার দায়িত্ব আছে।
১। পূর্বে আমরা যে যার কাজে ব্যাস্ত ছিলাম কিন্তুু এখন আর নয়। তাই সেই শৃঙ্খলা বজায় রাখা, এমন কিছু না করা যার ফলে অন্যের সমস্য সৃষ্টি হয়ে।
২। মা পরিবারের সব কাজ একা করেন। এখন না হয় মায়ের কিছু কিছু কাজ করে দেওয়া, পরিবারের সব কাজ ভাগ করে দেওয়া।
৩। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাইরে না পাঠানো, এই করোনাকালে যেহেতু পরিবারের কর্তার উপার্জন বন্ধ তাই টাকা পয়সার খরচ বুঝে শুনে করা।
৪।করোনাকালে বার বার সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ভালো করে ধোয়া মনে করিয়ে দেওয়া। পরিবারের সদস্যদের পরিস্কার পরিচছন্নতা পর্যাবেক্ষন করা। ফলমূল ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে খাওয়ার তা  মনে করিয়ে দেওয়া।
৫। অতি জরুরীতে বাড়ির বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানের কথা মনে করিয়ে দেওয়া। বাইরে থেকে আসলে পরিবারের কাউকে তার সংস্পর্শে না আসতে দেওয়া, যতক্ষন না সে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়।
    এগুলোই হতে পারে করোনাকালে আমার পরিবারের প্রতি কিছু দায়িত্ব।

যেভাবে সময় কাটছে:
    কোভিড মহামারিতে ঘরে বসে বিভিন্ন কাজের মধ্য দেিয় সময় কেটেছে আমার। ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে ছাদের বাগানটায় একটু পাইচারি করে শরীরটা একটু হালকা করি। নিচে এসে গোসল করে গরম গরম চায়ে  চুমুক দিতে দিতে আমার পাঠ্য বই পড়া হয়। তারপর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে সকালের নাস্তাটা করি পরিবারের সাথে। তারপর আমার বড় বোনের সাথে খুনসুটি করা। এছাড়া আমার মায়ের বিভিন্ন কাজ করে দিয়ে সময় কাটে, বিভিন্ন কাজ করে দিয়ে সময় কাটে, বিভিন্ন পরে থাকা বই উপন্যাস গুলো পড়ে ফেলছি এই সময়টাতে, বিশেষ করে ছবি এঁকে আমার বিকালটা কাটে। কখনো ঘুমিয়ে, কখনো বা টেলিভিশন দেখে। এর মধ্যে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাও রয়েছে। ব্যবহার্য জিনিস গুলো পরিস্কার করে। ছাদের বাগানটা পরিচর্যা করে সময় কাটে বিকালটাও, সন্ধ্যাতে মা-বাবা ও বোনের সাথে বসে আড্ডা ও মায়ের হাতের একটু হালকা নাস্তায়। রাতে একাসাথে টেলিভিশন দেখে।
    কিন্তুু একটু খারাপ ও লাগছে। বাড়ির বাইরে বের না হতে পেরে। খেলাঘুলাটা এখন হয় না, সময়ও কাটে না বন্ধুদের সাথে যেতে পারছি না আমার প্রিয় স্কুলটাতে।
    যাই হোক, সবটা তো আর ভালো হয় না, কিছু মন্দ থেকে যায়। সবটা মিলিয়ে এই করোনাকালে সময় কাটছে বিভিন্ন বিনোদনের মধ্যদিয়ে।

উপসংহারঃ
    করোনা মহামারিতে সবাইকে সুস্থ থাকাটাই  বড় কথা। মুনে রাখতে হবে এটা আমাদের যুদ্ধ করোনার বিরুদ্ধে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এ যুদ্ধ জয় করতে হবে। করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তিকে সমাজ থেকে আলাদা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশে দাঁড়াতে হবে আমাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে, পরিশেষে, বাড়িতে থাকুন, সুস্থ থাকুন। আতঙ্কিত নয় সচেতনতা। এই প্রয়াসে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

আদনান আল আসাদ
শ্রেণি: ৯ম
চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ
ঠিকানাঃ চৌগাছা, যশোর।
মোবাইল: ০১৭৫৯-৩১৯৭৭১





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft