রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০
অর্থকড়ি
চৌগাছায় সার ডিলারদের অনিয়ম ধরলেই কৃষি অফিসারকে স্ট্যান্ডরিলিজ!
● দুর্নীতিগ্রস্ত ডিলার বিএনপি নেতাদের রক্ষা করছেন আ’লীগ নেতারা
এম. আইউব
Published : Monday, 16 November, 2020 at 10:37 PM
চৌগাছায় সার ডিলারদের অনিয়ম ধরলেই কৃষি অফিসারকে স্ট্যান্ডরিলিজ!বিশাল ক্ষমতা যশোরের চৌগাছার বিসিআইসি সার ডিলারদের! তাদের অনিয়মে বাধ সাধলে রক্ষে নেই। যেকোনোভাবেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তারা সরিয়েই ছাড়বেন। দু’জন কৃষি কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ডরিলিজ সেই প্রমাণই দিয়েছে। বিসিআইসি সার ডিলারদের অনিয়মে বাধা দেয়ায় উপজেলা কৃষি অফিসার রইচ উদ্দিনকে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়েছে। তার স্থলে দেয়া হয়েছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দিন আহমেদকে। শাহাবুদ্দিন আহমেদ ইতিপূর্বে চৌগাছায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময় ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  নেয়ায় তাকেও সেসময় স্ট্যান্ডরিলিজ করিয়েছিলেন সার ডিলাররা! বর্তমানে চৌগাছায় কৃষি অফিসার হিসেবে চাকরি করতে হলে বিসিআইসি সার ডিলারদের উপর নির্ভর করে করতে হবে। তারা ‘অখুশি’ হলে সেই কর্মকর্তার আর রক্ষে নেই! যেকোনোভাবেই চৌগাছা ছাড়তে হবে তাকে। কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তেমনটি চাচ্ছেন। এ কারণে দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে কৃষি বিভাগের কার্যক্রম দিন দিন থমকে যাচ্ছে-এমন দাবি মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের।
চৌগাছায় বিসিআইসি ডিলারদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করতে কড়াকড়ি আরোপ করায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিনকে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়েছে। বিসিআইসি সার ডিলার এবং উপজেলা বিএনপির শীর্ষনেতাদের রক্ষা করতে শীর্ষ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বিপুল অংকের অর্থ খরচ করে কৃষি কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ডরিলিজ করিয়েছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সারডিলারদের অব্যাহত হুমকির  জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে চৌগাছা থানায় জিডি করেন সদ্য স্ট্যান্ডরিলিজ হওয়া কৃষি কর্মকর্তা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো.আসাদুল্লাহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার স্ট্যান্ডরিলিজের আদেশে গত ১২ নভেম্বর স্বাক্ষর করেন। আদেশে এটিকে ‘স্ট্যান্ডরিলিজ’ হিসেবে গণ্য হবে বলে উল্লেখ রয়েছে।
কৃষি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানিয়েছেন, লাগাতার অনিয়মের অভিযোগ এবং সরকারের নির্দেশনা না মেনে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রিসহ নানা অভিযোগে উপজেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও উপজোলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক সেক্রেটারি ইউনুচ আলী দফাদারের মালিকানাধীন মেসার্স ইউনুচ আলী, পাতিবিলা ইউনিয়নের সার ডিলার ফরিদুল ইসলামের মালিকানাধীন মেসার্স ফরিদুল ইসলাম ও বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান লেন্টুর মালিকানাধীন মেসার্স শয়ন ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি। অথচ সমস্ত দায়ভার চাপানো হয় কৃষি অফিসারের উপর।
শয়ন ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে উত্তোলনকৃত সার গুদামে না এনে উপজেলার বাইরে বিক্রি করে দেয়া, অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি, মূল্য তালিকা না টাঙানোসহ বিভিন্ন নির্দেশনা না মানার অভিযোগ রয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করলেও সেই অনিয়ম বন্ধ হয়নি। এছাড়া, ইউনুচ আলী ও ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৫০ মেট্রিকটন সারের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন গুদাম এবং খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র না থাকা, উত্তোলনকৃত সার গুদামে না এনে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়া, ধারাবাহিকভাবে কৃষি বিভাগের নির্দেশনা না মানাসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি উল্লিখিত তিনজন ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে।
তিন ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি। চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন ওই তদন্ত কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। সেই তদন্ত সম্পন্ন না হতেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ডরিলিজ করায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের প্রশ্ন, দুর্নীতিগ্রস্ত বিএনপি নেতাদের ডিলারশিপ রক্ষা করতে উপজেলা কৃষি অফিসারকে বদলি করে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা হলো, না সামনে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পরিকল্পনা করা হলো?
এবিষয়ে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন ‘উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন একজন সৎ কর্মকর্তা। তিনি সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের হাতে সার পৌঁছাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন। যদি সৎ এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের এভাবে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে কেউ আর ভালো কাজ করতে চাইবেন না।’
এদিকে, কৃষি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যিনি দ্বিতীয় দফায় চৌগাছায় এসেছেন সেই একেএম শাহাবুদ্দিনের হাত অনেক লম্বা। কৃষি মন্ত্রণালয়ে নাকি তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। শীর্ষ দু’ কর্মকর্তার সাথে তার দহরম-মহরম সম্পর্ক। তাদেরকে দিয়ে তিনি রইচ উদ্দিনকে স্ট্যান্ডরিলিজ করিয়েছেন। যাতে রইচ উদ্দিন কোনো তদবির করার সুযোগ না পান। ঝিনাইদহের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন বছর দেড়েক ধরে এ ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে দাবি এসব সূত্রের।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, রইচ উদ্দিন একজন সৎ অফিসার। এটি সার ডিলাররাও স্বীকার করেছেন। তাকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বদলি করা হয়েছে। এর বাইরে তিনি আর কোনো কথা বলেননি।





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft