বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০
শিক্ষা বার্তা
এবার প্রাথমিকে অনলাইন ক্লাস
● যশোরে সক্ষমতা আছে ১ লাখ ৮০ হাজার অভিভাবকের
এম. আইউব
Published : Tuesday, 17 November, 2020 at 11:12 PM
এবার প্রাথমিকে অনলাইন ক্লাসকরোনা দুর্যোগে প্রাথমিকে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে অনলাইন ক্লাসের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে যশোরে অভিভাবকদের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। এ যাচাইয়ে এক লাখ ৮০ হাজার ৫৮ জন অভিভাবকের সক্ষমতা রয়েছে বলে তালিকা প্রস্তুত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এসব অভিভাবকের মোবাইল ফোন রয়েছে।
এর বাইরে নয়শ’ ৫৪ জন অভিভাবকের কোনো ধরনের মোবাইল ফোন নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন কর্মকর্তারা। ফোন না থাকায় এসব অভিভাবক কোনোভাবেই অনলাইন ক্লাসে তাদের সন্তানদের অংশগ্রহণ করাতে পারবেন না।
গত ১৮ মার্চ থেকে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। করোনা দুর্যোগে বারবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার উদ্যোগ নিয়েও পরিস্থিতি অনুকূলে না আসায় এখনো পর্যন্ত লেখাপড়া শুরু করানো যায়নি। এ অবস্থায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেয়া যায় সেই ধরনের চিন্তাভাবনা শুরু করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর। এক পর্যায়ে শিক্ষা অধিদপ্তর সারাদেশে অভিভাবকদের অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়।
অধিদপ্তরের নির্দেশে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জেলার আট উপজেলায় অভিভাবকদের মোবাইল ফোন সক্ষমতা যাচাই শুরু করে। সেই যাচাইয়ে জেলার এক লাখ ৮১ হাজার ১২ জন অভিভাবকের মধ্যে এক লাখ ৮০ হাজার ৫৮ জনের কাছে মোবাইল ফোন রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যাদের মোবাইল ফোন রয়েছে সেইসব অভিভাবক অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হয়ে তাদের সন্তানদের ধারণা দিতে পারবেন বলে এক প্রকার নিশ্চিত হয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন ক্লাস নিতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। অধিদপ্তরের নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে অনলাইন ক্লাসের কার্যক্রম শুরু হবে যশোরে। কেবল তাই না, যেসব অভিভাবকের মোবাইল ফোন নেই তাদের কীভাবে ফোন সরবরাহ করা যায় সেই চেষ্টাও করছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
জেলার আট উপজেলায় যে নয়শ’ ৫৪ জনের মোবাইল ফোন নেই তাদের মধ্যে সদর উপজেলায় পাঁচশ’ ২১, ঝিকরগাছায় ৯৬, চৌগাছায় ৭৭, অভয়নগরে ৩০, বাঘারপাড়ায় ৫৩, মণিরামপুরে একশ’ ৩৮ ও শার্শায় ৩৯ জন রয়েছে। এই তালিকায় কেশবপুরে একজনও নেই। তার মানে কেশবপুরের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এই উপজেলায় অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে কোনো অভিভাবককে বেগ পেতে হবে না বলে মনে করছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা।
অনলাইন ক্লাসের প্রস্তুতির কথা শুনে অনেক অভিভাবক কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন। রবিউল ইসলাম নামে একজন অভিভাবক বলেন, ‘করোনার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা এক প্রকার ধ্বংস হয়ে গেছে। অধিকাংশ ছেলে-মেয়ে এখন আর বইয়ের কাছে যেতে চাচ্ছে না। যদি অনলাইন ক্লাস চালু হয় তাহলে কিছুটা হলেও এই অবস্থার উত্তরণ হবে। যেমনটি মাধ্যমিকে হচ্ছে। মাধ্যমিকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তারা বাড়িতে বসে রেডি করে জমা দিচ্ছে। এতে কিছুটা হলেওতো কাজ হচ্ছে। প্রাথমিকেও কিছু একটা হওয়া দরকার।’
আবুল হোসেন নামে একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বইমুখি করতে এখনই কিছু একটা হওয়া দরকার। যেটির সরাসরি তদারকি করতে হবে। অনলাইন ক্লাস সেক্ষেত্রে কিছুটা হলেও কাজে আসতে পারে।’
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন ক্লাসের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে যাচাই করা হয়েছে অভিভাবকদের মোবাইল ফোনের সক্ষমতা। এখন অধিদপ্তরের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি। নির্দেশ পেলেই অনলাইন ক্লাসের কার্যক্রম শুরু হবে।’  




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft