বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০
জাতীয়
ধর্ষক মজনুর যাবজ্জীবন
ঢাকা অফিস
Published : Thursday, 19 November, 2020 at 9:36 PM
ধর্ষক মজনুর যাবজ্জীবনচলতি বছরের শুরুতে রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় একমাত্র আসামি মজনুকে বৃহস্পতিবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার দুপুরে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার আগে এই মামলার অভিযোগ গঠন হওয়ায় আগের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডই দেয়া হয়েছে আসামি মজনুকে। রায়ে মজনুকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
ধর্ষণের পর ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল নিয়ে এক নারীর কাছে বিক্রি করেছিন মজনু, যা পরে র‌্যাব উদ্ধার করে। সে কারণে মামলায় ধর্ষণের পাশাপাশি ছিনতাইয়ের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩৯৪ ও ৪১১ ধারায় মজনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। তবে আদালত ছিনতাইয়ের অভিযোগ থেকে আসামিকে খালাস দিয়ে বলেছে, মজনু ওই মোবাইল ছিনতাই করে নিয়েছিলেন কি না, তা প্রমাণিত হয়নি।
রায়ের জন্য এদিন দুপুরে আদালতে হাজির করার পর মজনু ব্যাপক চিৎকার-চেঁচামেচি ও পুলিশ সদস্যদের গালাগাল শুরু করলে বিচারক সাংবাদিক ও উৎসুক আইনজীবীদের বাইরে যেতে বলে শুধু জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের এজলাসে থাকার অনুমতি দেন এবং পরে রুদ্ধদ্বার কক্ষে রায় ঘোষণা করা হয়। আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইডের রবিউল ইসলাম রবিকে এ মামলায় মজনুর পক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।
রায়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ‘আদালত বলেছে, রাষ্ট্রপক্ষ যেভাবে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেছে, তাতে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আর আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমি বলব, আসামি ন্যয়বিচার পাননি, তিনি উচ্চ আদালতে যেতে পারেন’।
রায়ের আগে মজনুর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করলে এই আইনজীবী বলেন, ‘সে নেচারালি এরকম। আজ অনেক লোক যখন প্রশ্ন করেছে, সে ধর্ষণ করেছে কি না সেই সুযোগ সে উল্টো পাল্টা আচরণ করেছে, অস্বাভাবিক আচরণ করেছে’।
অন্যদিকে এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ অরেঞ্জ বলেন, ‘মজনুর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গ্রেপ্তার, ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর শনাক্তকরণ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে আমরা আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছি। তাই আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আসামিকে এই আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট’।
তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে ২০টি ছবি দেখানো হয়, তার মধ্যে মজুনর ছবিও ছিল। তিনি মজনুকেই ধর্ষক হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন।
ধর্ষণের ঘটনার পর ক্যাম্পাসে বা বাড়িতে না ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। সংগঠনের আইনজীবী আবদুর রশিদ বলেন, ‘এরকম রায়ই আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। যেহেতু, আগের আইনে অভিযোগ গঠন হয়েছে, ফলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ ছিল না। আমরা ওই শিক্ষার্থীর পরিবারকে রায়ের কথা জানিয়েছি। তারা এই রায়ে সন্তুষ্ট’।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর ঢাকার কুর্মিটোলায় নির্জন সড়কের পাশে ধর্ষণের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী। পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। তিন দিন পর মজনুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব জানায়, নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে দশ বছর আগে ঢাকায় আসা এই ব্যক্তিই ধর্ষণকারী।
তদন্ত শেষে দু’ মাস পর গত ১৬ মার্চ ডিবির পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাতে শুধু মজনুকেই আসামি করা হয়। ভুক্তভোগীর পোশাক ও মোবাইল ফোনসহ ২০টি আলামত তিনি জমা দেন আদালতে।
গত ২৬ আগস্ট ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে মজনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২০ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে কেউ সাফাই সাক্ষ্য দেননি।
গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মজনু। সে বলেছিল, “আমার মা ছাড়া পৃথিবীতে কেউ নেই। আমাকে মায়ের কাছে যাইতে দেন। আমি এই কাম করি নাই। আমারে ছাইড়া দ্যান’।
তবে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী রুদ্ধদ্বার আদালত কক্ষে দাঁড়িয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো মজনুকে ধর্ষণকারী হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন। তিনি র‌্যাবকেও বলেছিলেন, তার ওপর নিপীড়নকারীর চেহারা জীবনেও ভুলতে পারবেন না তিনি।
দু’ পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১২ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ১৯ নভেম্বর দিন রাখেন। ঘটনার আট মাসের মধ্যে মামলা আদালতে ওঠার পর ১৩ কার্যদিবসে বিচার শেষে মজনুকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন আ




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft