মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০
মতামত
উপনিষদ থেকে শিক্ষা
Published : Friday, 20 November, 2020 at 9:46 PM
উপনিষদ থেকে শিক্ষা(পূর্ব প্রকাশের পর)
মানুষতো পশু নয়। তাহলে আহার, নিদ্রা, মৈথুন ও ভয় যা পশুরা পালন করে আমরাও পালন করি। তফাৎ কোথায়? তফাৎ হল ধর্মবোধে, কর্তব্যবোধে। নৈতিকতা বোধ, মনুষ্যত্ব অর্জন দ্বারা মানুষ দেব পর্যায়ে, এমনকি দেবোত্তম পর্যায়ে উন্নীত হবার ক্ষমতা রাখে যেটা প্রমাণ সিদ্ধ। আর এটাই উপনিষদের শিক্ষা। জ্ঞান অর্জন দ্বারা মানুষ মহামানবে পরিণত হয়। উপনিষদের শিক্ষা জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে, যেহেতু উপনিষদই জ্ঞানের ‘খনি’। আমরা উপনিষদ বিমুখ তাই মানুষ হতে পারছি না। শাহজাহান পুত্র দারাশিকো বহু উপনিষদ অনুবাদ করেছেন। মানুষ সমাজ, সংসার সভ্যতা গড়ে। বিনিময়ে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি চায়। ‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল’। কেন? যেহেতু নিয়ম, শৃঙ্খলার ত্রুটি ছিল। সংসার কিসে সুখের হয় সে বিষয়ের জ্ঞান ও উপদেশ বৃহদারণ্যক উপনিষদে বর্ণিত আছে। সংসার, সভ্যতার মূল্যকেন্দ্র। সংসার থেকে মহামানবের আবির্ভাব। সংসারকে স্বর্গে পরিণত করতে শাস্ত্রবিধি মেনে চলতে হবে। সেখানে স্বামী ও স্ত্রীর ভূমিকায় সুন্দর পরিবেশ গড়ে উঠে, আত্মীয়তা গড়ে উঠে। আদর্শ দম্পতি সুসন্তান উপহার দেয়। এজন্য উপনিষদের শিক্ষা গ্রহণীয়।
স্নেহ প্রেম প্রীতি, কর্তব্যবোধের এটাই সুতিকাগার। সেটা আজ তিরোহিত। বর্তমানে চলছে ‘স্ত্রী তান্ত্রিক’ সমাজ। নারী ও পুরুষের প্রাকৃতিক নিয়ম ভেঙে স্বেচ্ছাচারিতার কুফল প্রতিটি সংসারে। সুতরাং ‘বিসমিল্লায় গলদ’। মানুষ আজ চরিত্রহীন। চরিত্র গঠনের একমাত্র উপায় উপনিষদের শিক্ষা গ্রহণ করা। উপনিষদ মানুষকে সংসার ত্যাগী সন্ন্যাসী হয়ে বনে, জঙ্গলে পাহাড়ে গিয়ে ঈশ্বর অন্বেষণে যেতে বলেনি। ব্রহ্মের অস্তিত্ব সবখানে সংসারেও। পিতা-মাতাই সাক্ষাৎ দেবতা, স্বর্গ, ধর্ম স্বর্গাদপী গরীয়সী মাতা। মায়ের চরণতলে বেহেস্ত। (আজ কিন্তু বৌয়ের চরণ তলে স্বর্গ?) মানুষ গড়ার কারখানা বিদ্যালয়ে জ্ঞান দান, চরিত্র গঠনের বদলে অর্থ আয়ের কৌশল শেখান হয়। অপরের চাকর (কেরানী) বানানোর বিদ্যা দান করা হয়। এটা বিদ্যা নয় অবিদ্যা। উপনিষদে বিদ্যা ও অবিদ্যার সংজ্ঞা মেলে। উপনিষদের শিক্ষা আমাদের ‘অভিঃ’ মন্ত্রে দীক্ষিত করে। ভয়শূন্য হতে বলে। গীতাতেও সেই একই কথা ‘ক্লৈব্যং মাস্ম গমঃ পার্থ’। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন- হে অর্জুন ক্লিবতা দূর কর। আমরা ক্লিব নই-শিব। শ্রী রামকৃষ্ণ তাই বললেন- “জীবকে শিব রূপে দেখ।” বিবেকানন্দ উপনিষদ থেকে শিক্ষা নিয়ে সংক্ষেপে জানালেন-
‘বহুরূপে সম্মুখে তোমার
ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর
জীবে প্রেম করে যেই জন
সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।’
বহুর মাঝে সেই এককে (সৃষ্টিকর্তাকে) দেখার জ্ঞানটি উপনিষদ থেকে পাওয়া যায়। রবি ঠাকুর উনিষদকে ‘গীতাঞ্জলী’ কাব্যে তুলে বিশ্ববাসীকে মোহিত করে বিশ্বকবি হলেন।
‘এ দুর্ভাগা দেশ হতে হে মঙ্গলময়
দূর করে দাও তুমি সর্ব তুচ্ছ ভয়,
লোকভয়, রাজভয়, মৃত্যুভয় আর (নৈবেদ্য)
বৃহদারণ্যক উপনিষদে ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য বলছেন- আত্মপ্রীতির জন্যই সকলে প্রিয় হয়। এই আত্মার সন্ধান ও খনন করাই মানুষের কাজ। জীবনে প্রতিটি কর্মই ‘যজ্ঞ ভিত্তিক’ হবে। তবেই উপনিষদের শিক্ষা সার্থক হবে। আমার এই ‘উপনিষদ কথা’ প্রতিবেদনটি যজ্ঞ ভিত্তিক হয়ে সকলের কল্যাণ বয়ে আনুক, সকলে শান্ত চিত্তে ঈশ্বরাভিমুখী হোন এটাই প্রার্থনা। সকলের মঙ্গল প্রার্থী সেই সকল ব্রহ্মজ্ঞ ঋষি পুরুষদের চরণে শ্রদ্ধা নিবেদনে রবীন্দ্রনাথের ‘নৈবেদ্য’ কাব্যের কটি ছত্র তুলে ধরছিঃ
‘তোমারে বলেছে যারা পুত্র হতে প্রিয়,
বিত্ত হতে প্রিয়তর, যা কিছু আত্মীয়
সব হতে প্রিয়তম নিখিল ভুবনে,
আত্মার অন্তর তর, তাদের চরণে
পাতিয়া রাখিতে চাই হৃদয় আমার।
উপনিষদের শ্রেষ্ঠ উপদেশ এই যে সীমার মাঝে সেই অসীমকে খুঁজে পাবার জন্যই মনুষ্য জন্ম। আমি দেহ নই আমি আত্মা। তাই উপনিষদ বলছে ‘আত্মা নং বিদ্ধি’। সক্রেটিস বললেন Know thyself. . আসুন আমরা আমাদের স্বরূপ খুঁজে মনুষ্য জন্মকে সার্থক করি। ঈশ্বর সকলকে শুভ বুদ্ধি দিন।  





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft