মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০
ক্রীড়া সংবাদ
অধিনায়ক হিসেবে তামিমের অন্তত ২০ ম্যাচ দরকার
ক্রীড়া ডেস্ক :
Published : Saturday, 21 November, 2020 at 4:34 PM
অধিনায়ক হিসেবে তামিমের অন্তত ২০ ম্যাচ দরকারআনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর এখনও মাঠে নামা হয়নি তামিম ইকবালের। হবে কী করে, করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের কোনও খেলাই তো হয়নি! তবে এরই মধ্যে নেতৃত্বের চাপ সামলানো নিয়ে অনেক ‘চাপ’ই সইতে হচ্ছে তাকে। বাংলাদেশি ওপেনার জানেন, রাতারাতি কিছুই হবে না। তাই অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রমাণের জন্য তার অন্তত ২০ ম্যাচ দরকার।
গত মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ওটাই ছিল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার শেষ ম্যাচ। এরপর করোনার কারণে গত ৮ মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে বাংলাদেশ দল। ফলে মাশরাফির কাছ থেকে অধিনায়কত্ব পাওয়া তামিমকে নেতৃত্বের পরীক্ষার পড়তে হতে হয়নি এখনও। যদিও ‘ভারপ্রাপ্ত’ হয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে এবং মুশফিকুর রহিমের চোটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সেরা এই ওপেনার। সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটে নানা সময়ে অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতা তো আছেই।
৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ানডে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় তামিমের কাঁধে। এরপর যেহেতু কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি, ফলে তামিম এখনই অধিনায়কত্বকে চাপ বলতে নারাজ। এটি মিডিয়ার বানানো কথা বলে মনে করেন তামিম, ‘আমি তো এখনও সেরকম চাপের ম্যাচই খেলিনি ভাই। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট হতে হবে তো। অধিনায়কত্বের চাপ এটা আসলে তো আপনাদের বানানো। আমি এখনও কোনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলিনি (অধিনায়ক হওয়ার পর)।’
তামিম মনে করেন, অন্তত ২০ থেকে ২৫ ম্যাচ পর অধিনায়কত্বের বিচার করা উচিত, ‘আমি যেদিন অধিনায়ক হয়েছি সেদিনই বলে দিয়েছিলাম, অধিনায়কত্ব আপনি বিচার করবেন ছয় মাস, একবছর দিয়ে। সেটা বিশ্বের যত বড় নেতা হোক না কেন, যত ছোট নেতা হোক না কেন। দুই ম্যাচ, তিন ম্যাচ পর আপনারা শুরু করে দেন অধিনায়কত্বের চাপ। এটা শুধু আমার জন্য না। দুই ম্যাচ, তিন ম্যাচে কেউ কিছু শিখতে পারে না। একটা বাচ্চা হাঁটতে ৯ মাস সময় নেয়। প্রথম যদি সে না হাঁটে আপনি তাকে বলতে পারেন না যে সে হাঁটতে পারে না। সময় লাগবে। অধিনায়কত্ব আমার খেলায় কতটুকু প্রভাব ফেলছে অন্তত ২০-২৫ ম্যাচ পর বিচার করতে হবে।’
২০১৯ বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা তিনটি ওয়ানডেতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তামিম। ওই তিন ম্যাচের প্রতিটিই হেরেছিল বাংলাদেশ। আর ব্যাটসম্যান তামিম করেছিলেন যথাক্রমে ০, ১৯ ও ২। অধিনায়ক তামিমের জন্য অস্বস্তিকর ব্যাপারই ছিল। গত প্রেসিডেন্ট’স কাপেও তামিমের অধিনায়কত্বে দল ফাইনাল খেলতে পারেনি। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও ছিল সাদামাটা।
তামিম অবশ্য এইসব মাথাতেই আনছেন না, ‘অধিনায়কত্বের যে জিনিসটা, ওটা নিয়ে আপনাদের অনেকবারই বলেছি। আমার ছোটবেলা থেকে কোনও স্বপ্ন ছিল না যে আমি বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক হবো। আমি চেষ্টা করবো আমার দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে পূরণ করার। ভালো হবে নাকি খারাপ হবে, সময় বলে দেবে। আমার পরে যে হবে, আমার আগে যে ছিল- সবার ক্ষেত্রেই ভালো অধিনায়ক বা সফল অধিনায়ক পেতে গেলে সময় দিতে হবে। দুই সিরিজে যদি মাইন্ড সেট করে নেন, এটা হচ্ছে না, এটা দলের জন্য ভালো হয় না, সেটা কারও জন্যই ভালো না। অন্য ফরম্যাটের জন্যও সময় দিতে হবে।’
অধিনায়ক হলেই কেবল বাড়তি দায়িত্ব থাকে, সেটি মানেন না তামিম। দায়িত্ব ছাড়াও দলের নানা মুহূর্তে নানা সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে। নেতৃত্ব পাওয়ার আগে সেগুলো যথাযথভাবে করেছেন তামিম, ‘আমার কাছে যেটা মনে হয়, অধিনায়কের দায়িত্ব অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে। সবার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আমি চেষ্টা করবো যতটুকু সম্ভব সবকিছু করার। এরপর দেখতে হবে কী হয়। এটা আমি অধিনায়ক না থাকলেও করি। আমাকে অধিনায়ক হয়েই এই দায়িত্ব পালন করতে হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না। নেতা আপনি যেকোনও সময়ই হতে পারেন। ভালো নেতা হওয়ার জন্য অধিনায়কত্বের দরকার নেই। নেতা হিসেবে আপনাকে কথার চেয়ে বেশি কাজ করতে হবে।’



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft