মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২১
শিক্ষা বার্তা
করোনাকালীন প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি রক্ষার উদ্যোগ
যশোরের ৭৭ হাজার শিক্ষার্থী পেল এক কোটি ২৮ লাখ প্যাকেট বিস্কুট
এম. আইউব
Published : Tuesday, 24 November, 2020 at 10:31 PM
যশোরের ৭৭ হাজার শিক্ষার্থী পেল এক কোটি ২৮ লাখ প্যাকেট বিস্কুটকরোনাকালীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি রক্ষার উদ্দেশ্যে যশোরে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ এক কোটি ২৮ লাখ পাঁচ হাজার চারশ’ ছয় প্যাকেট বিস্কুট। জেলার দু’টি উপজেলার ৭৭ হাজার একশ’ ৪১ জন শিশুর বাড়িতেই এই বিস্কুট পৌঁছে দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে চুক্তিবদ্ধ আরআরএফ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিস্কুট সরবরাহের কাজটি করেছে।
দেশে করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় গত ১৮ মার্চ থেকে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় বন্ধ হয়ে যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। এরপর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বাড়িতেই সময় পার করছে। বাড়িতে থেকে যাতে কোনো রকম পুষ্টিহীনতায় না পড়ে এ লক্ষ্যে স্কুলফিডিং প্রকল্পের আওতায় যশোরের দু’টি উপজেলায় উচ্চমাত্রার পুষ্টিমান সম্পন্ন বিস্কুট সরবরাহ করা হয়। উপজেলা দু’টি হচ্ছে সদর ও চৌগাছা।
আরআরএফের প্রকল্প সমন্বয়কারী আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, সদর উপজেলার ৫৪ হাজার ৪৫ ও চৌগাছার ২৩ হাজার ৯৬ জন শিক্ষার্থীর বাড়িতে এক কোটি ২৮ লাখ পাঁচ হাজার ছয় প্যাকেট বিস্কুট পৌঁছে দেয়া হয়েছে। চার ধাপে দেয়া হয়েছে এসব বিস্কুট। সদর উপজেলার শিক্ষার্থীরা ৮৯ লাখ ৭১ হাজার চারশ’ ৭০ ও চৌগাছার শিক্ষার্থীরা ৩৮ লাখ ৩৩ হাজার নয়শ’ ৩৬ প্যাকেট বিস্কুট পেয়েছে। অপেক্ষাকৃত দরিদ্রপ্রবণ এলাকার শিক্ষার্থীরা এই স্কুলফিডিং প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১ম ধাপে এপ্রিল-মে মাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৩১প্যাকেট,২য় ধাপে জুন-জুলাই মাসে ৪০প্যাকেট, ৩য় ধাপে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ৪০প্যাকেট করে বিস্কুট ইতিমধ্যে বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে শেষ ধাপের বিস্কুট দেয়ার কাজ। এই ধাপে সর্বোচ্চ ৫৫প্যাকেট করে বিস্কুট দেয়া হচ্ছে। অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসের জন্যে নির্ধারিত বিস্কুট দেয়া হচ্ছে এখন। শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে উচ্চ পুষ্টিমানের এই বিস্কুট।
করোনার এই দুর্যোগের মধ্যে বাড়ি বসে বিস্কুট পেয়ে যারপরনাই খুশি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সেইসাথে খুশি তাদের অভিভাবকরাও। সোহরাব হোসেন নামে একজন অভিভাবক বলেন,‘ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয় তাই দিয়ে সংসার চলে। এ কারণে বাচ্চাদের সব সময় ভালো কিছু খেতে দিতে পারিনা। স্কুল থেকে যে বিস্কুট দিচ্ছে তা পেয়ে বাচ্চারা খুশি থাকে। আমারও চাপ কমে।’
স্কুলফিডিং প্রকল্প নিয়ে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন,‘প্রাথমিক শিক্ষাকে মানসম্মত করার লক্ষ্যে সরকারের এ প্রকল্প সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। আমি সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। করোনার মধ্যে স্কুলফিডিং প্রকল্প চলমান থাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
আরআরএফের প্রকল্প সমন্বয়কারী আব্দুল আজিজ বলেন,‘স্কুলফিডিং প্রকল্প কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখি করে। দীর্ঘদিন পরে স্কুল খুললে ফিডিং প্রকল্পের কারণে শিশুরা বিদ্যালয়ে আসবে। এই প্রকল্প শিশুদের ঝরেপড়া থেকে রক্ষা করছে।’




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft