রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১
ক্রীড়া সংবাদ
বিদায় ম্যারাডোনা
কাগজ ডেস্ক
Published : Wednesday, 25 November, 2020 at 11:05 PM
বিদায় ম্যারাডোনা ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তী, আর্জেন্টাইন মহানায়ক ম্যারাডোনা আর নেই। বিশ্বকাঁপানো  এ ফুটবল নায়কের জীবনাবসান হলো হার্ট অ্যাটাকে। বুধবার রাতে বিশ্ববাসীর কাছে আসে এ শোক সংবাদ। কেবল খেলা নয়, খেলার বাইরেও নানা ঘটনা-অঘটনায় বারবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন ম্যারাডোনা। এবার সব বিতর্ক-আলোচনা-শিরোনামের ঊর্ধ্বে উঠে গেলেন তিনি। ৬০ বছর বয়সে এসে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ‘ফুটবল ঈশ্বর’ দিয়াগো ম্যারাডোনা।
আর্জেন্টাইন শীর্ষ গণমাধ্যম ক্ল্যারিনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর জানিয়েছে।
কিছুদিন আগে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল ম্যারাডোনাকে। অস্ত্রোপচারের পর সপ্তাহ দুয়েক আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি। পুরোপুরি সেই অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার আগেই হার্ট অ্যাটাক হয়েছে তার। তাতেই ফুটবল বিশ্বকে কাঁদিয়ে শেষ বিদায় জানিয়ে দিলেন ম্যারাডোনা।
আর্জেন্টাইনদের কাছে ফুটবল মানেই এক আবেগের নাম। সেই আবেগের পূর্ণতা এসেছিল যে ব্যক্তিটির হাত ধরে, তিনি দিয়াগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালে ২৬ বছর বয়সী ম্যারাডোনার হাতে ছিল অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ড। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া যাকে বলে, তার সাক্ষাৎ উদাহরণ হয়েছিলেন সে বছরের বিশ্বকাপের আসরে। পায়ের জাদুতে গোটা বিশ্বকে মুগ্ধ করে জিতে নিয়েছিলেন গোল্ডেন বল। তবে ব্যক্তিগত এই অর্জন নয়, সেবার দল হিসেবে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপে জিতিয়েই ম্যারাডোনা হয়ে যান আর্জেন্টাইনদের নয়নের মনি।
ফকল্যান্ড যুদ্ধ ঘিরে ঘটনাবহুল সেই বিশ্বকাপেই আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনাকে গোল উপহার দিয়ে উল্লাসে ভাসিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। রিপ্লেতে সেই গোলে হাতের স্পর্শ পাওয়ার পর সেটি ‘দ্য হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করে সারা দুনিয়ায়।
‘দ্য হ্যান্ড অব গড’ নিয়ে যত বিতর্কই থাকুক না কেন, সব বিতর্কের অবসান ওই ম্যাচেই করে দেন ম্যারাডোনা। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একে একে ইংল্যান্ড দলের পাঁচ পাঁচ জন খেলোয়াড়কে (পিটার বেয়ার্ডসলি, স্টিভ হজ, পিটার রেইড, টেরি বাচার ও টেরি ফেনউইক) কাটিয়ে পৌঁছে যান ইংলিশ গোল পোস্টের সামনে। গোলরক্ষক পিটার শিলটন ছিলেন সামনে। তাকেও কাটিয়ে বল পৌঁছে দেন ইংলিশদের জালে। ফুটবলের ইতিহাসের সেরা গোল যে সেটিই— তা নিয়ে আপত্তি করার মতো মানুষ খুব কমই রয়েছেন।
১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে গোড়ালির ইনজুরি থাকলেও পায়ের জাদুতে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন তিনি। প্রথম পর্বের নাজুক সূচনার পরও শেষ পর্যন্ত দলকে ফাইনালে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল পশ্চিম জার্মানি। ৮৪ মিনিট পেরিয়ে যাওয়া ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের মাধ্যমে টাইব্রেকারের দিকেই যাচ্ছিল। ৮৫ মিনিটে পশ্চিম জার্মানির স্ট্রাইকার রুডি ভোলারকে ফাউল করার জের ধরে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সেই পেনাল্টি থেকে আন্দ্রেয়াস ব্রাহমে গোল করলে ওই একমাত্র গোলেই ফাইনাল জিতে নেয় পশ্চিম জার্মানি। আর্জেন্টিনা তো বটেই, ফুটবল ভক্তদের বড় একটি অংশেরই দাবি, ওই পেনাল্টিটি ছিল বিতর্কিত।
এরপর ১৯৯৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের মহানায়ক। কিন্তু দুইটি ম্যাচে অংশ নেওয়ার পরই ডোপ টেস্টে পজিটিভ ধরা পড়লে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কৃত হতে হয় তাকে।
১৯৬০ সালে আর্জেন্টিনার বুইয়েন্স আইরিসে জন্ম নেয়া এই ফুটবল কিংবদন্তি আর্জেন্টিনার জার্সিতে ৯১ ম্যাচে করেছেন ৩৪ গোল। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। ২০০৮ সালে দায়িত্ব নিয়ে আলবিসেলেস্তেদের ডাগ আউটে দাঁড়িয়েছিলেন ২০১০ সালের বিশ্বকাপেও। সবশেষ আর্জেন্টাইন ক্লাব জিমনেসিয়ার কোচের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। বিশ্বকাপের পর ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও সমাপ্তি টানেন ম্যারাডোনা।





সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft