মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
স্কুল শিক্ষিকা লাকির অপকর্মের তদন্ত সম্পন্ন, শাস্তির দাবিতে গ্রামবাসীর স্লোগান
শিমুল ভূইয়া
Published : Sunday, 29 November, 2020 at 8:56 PM
স্কুল শিক্ষিকা লাকির অপকর্মের তদন্ত সম্পন্ন, শাস্তির দাবিতে গ্রামবাসীর স্লোগানযশোরের খোলাডাঙ্গার স্কুল শিক্ষিকা সুদখোর লাকির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে এই তদন্ত হয়। রোববার উপজেলা শিক্ষা অফিসের চার সদস্যের একটি তদন্ত টিম সরেজমিন খোলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তদন্তে যায়। এসময় তদন্ত কর্মকর্তারা দু’পক্ষের সাথে কথা বলেন। কথা বলেন স্থানীয়দের সাথেও। দু’ পক্ষের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এসময় শতাধিক মানুষ লাকির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দেন। তারা তার অপসারণের দাবি জানান।
রোববার সকাল সাড়ে দশটায় তদন্তটিমের সদস্যরা স্কুলে পৌঁছান। খবর পেয়ে গ্রামের লোকজন সেখানে ভিড় করে। ১১ টার পর স্কুল কক্ষে দুই পক্ষের লোকজনকে ডাকা হয়। লাকির বিরুদ্ধে সুদে কারবারি, ১০ টাকার চাল আত্মসাৎ, বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকিসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ করেন উপস্থিত লোকজন। এরপর তদন্ত টিমের সদস্যরা আলাদা রুমে প্রথমে ভুক্তভোগী আলেয়া সুলতানা ও পরে শিক্ষিকা লাকির সাথে কথা বলেন। আলেয়া সুলতানার পক্ষে গ্রামের সাধারণ মানুষ শুধু উপস্থিতই  ছিলেন না, তারা গণস্বাক্ষর ও লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। আর লাকির পক্ষে কথা বলেন ঘুরেফিরে সেই চার-পাঁচজন। যাদের মধ্যে রয়েছেন লাকির স্বামী সবুর, ভাগ্নে সন্ত্রাসী ইমন, মামলার সাক্ষী ও আইনজীবী সহকারী সবুজের স্ত্রী আমেনাসহ কয়েকজন। অবশ্য, মহিলা মেম্বর শাহিদাকে সুদখোর লাকির পক্ষে কথা বলতে দেখা যায়। তদন্তকালে অর্ধশতাধিক মানুষ লাকির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সেøাগান দেয়। একইসাথে সুদখোর লাকির শাস্তির দাবি জানায়।
এদিকে, লাকির সুদে কারবারির বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দিয়েছে মানবাধিকার উন্নয়ন উদ্যোগ ফাউন্ডেশন যশোর। তাদের অনুসন্ধানে লাকির বিরুদ্ধে সুদে কারবারির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা সচিব, আইজিপি, ডিআইজি (খুলনা), যশোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশসুপার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, দুদক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ওসি কোতোয়ালি থানাকে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাকিয়া সুলতানা লাকির বিরুদ্ধে সুদে কারবারি ও জাল স্বাক্ষর করে স্ট্যাম্প তৈরির প্রমাণ তারা পেয়েছেন।
এ বিষয়ে তদন্তটিমের প্রধান সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাজ্জাদ হোসেন গ্রামের কাগজকে বলেন, শিক্ষিকা লাকির বিরুদ্ধে সুদের লেনদেন, ভুয়া স্ট্যাম্প দেখিয়ে টাকা দাবি, টাকা না দিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে মারপিট, হত্যার হুমকির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে তারা স্কুলে যান। দু’পক্ষের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য নিয়েছেন। লাকির পক্ষে পাঁচজন ও আলোর পক্ষে ২১ জন সাক্ষ্য দিয়ে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। তারা লাকির সুদে কারবারি সংক্রান্ত মোবাইল ফোনের কথপোকথনের ভয়েস রেকর্ড সংগ্রহ করেছেন। খুব শিগগির তদন্ত রিপোর্ট জমা দিবেন বলে জানান তিনি।
তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার অনিমেষ কুমার বিশ্বাস, কামরুল বাসার ওমর ফারুক ও জাহিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য,সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গার চিহ্নিত সুদখোর স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকিয়া সুলতানা লাকির অপকর্ম নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।






সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft