শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১
জাতীয়
ভাস্কর্য নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলে সরকার নিশ্চয় বসে থাকবে না
কাগজ ডেস্ক :
Published : Monday, 30 November, 2020 at 6:02 PM
ভাস্কর্য নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলে সরকার নিশ্চয় বসে থাকবে নাভাস্কর্য নিয়ে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য যদি অনবরত করতে থাকে সরকার নিশ্চয় বসে থাকবে না বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি বলেন, আসলে এসব কথা বলে তারা সমাজকে বিভ্রান্ত করতে চায়।
আমি আশা করবো এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য তারা পরিহার করবে। এটি কখনো জনগণ মেনে নেয়নি, নেবেও না। বাংলাদেশে কোনো মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের স্থান নেই।
সোমবার (৩০ নভেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সভা কক্ষে ‘সমসাময়িক বিষয়ে’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভাস্কর্যকে মূর্তি বলে অনেকেই নেগেটিভ বক্তব্য রাখছেন, আমরা জানি জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে জিয়ার ভাস্কর্য আছে, যেখানে জিয়ার ভাস্কর্য নিয়ে কিছু হচ্ছে, শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কথা হচ্ছে এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য কি জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি ভাস্কর্য আর মূর্তির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভাস্কর্যকে মূর্তির সঙ্গে তুলনা করে সমাজকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা ইসলামী দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখতে পাই ইরানে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র গড়ে তোলা হয়েছে, সেখানে আয়াতুল্লা খুমিনির ভাস্কর্য আছে। ইরাকে রাস্তায় রাস্তায় ভাস্কর্য আছে, তুরস্কে এরদোগানের ভাস্কর্য আছে এবং পৃথিবীর ইসলামিক দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে যদি তাকাই সেখানে রাস্তায় রাস্তায় ভাস্কর্য আছে। জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে ঘোড়া, উটসহ সৌদি প্রশাসকদের ছবি সম্বলিত ভাস্কর্য আছে। এছাড়া জেদ্দায় পৃথিবীর বিখ্যাত ভাস্কর্য দিয়ে স্কাউচার মিউজিয়াম বানানো হয়েছে, যেখানে নারী-পুরুষ, জীবজন্তুসহ বহু কিছুর ভাস্কর্য সেখানে আছে এবং মাওলানা রুমিসহ বহু স্কলারের ভাস্কর্য আছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভাস্কর্য একটি দেশের ইতিহাস, কৃষ্টি কালচারের অংশ। এসব দেশে এমনকি সৌদি আরবেও এই নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলেনি। যারা পাকিস্তানি ভাবধারার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাদের অতীত ইসিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে তাদের পূর্ব-পুরুষরা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের জন্য লড়াই করেছিলেন বা পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। তাদের সেই স্বাদের পাকিস্তানের কায়েদে আজমের ভাস্কর্য আছে, লেয়াকত আলীসহ বহুজনের ভাস্কর্য আছে। সেখানেও কেউ প্রশ্ন তোলেনি।
বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য টেনে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেবে এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছে আওয়ামী লীগ কেন এতদিন সময় নিলো এর প্রতিক্রিয়া দিতে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশের বহু ভাস্কর্য বিভিন্ন সময়ে নির্মিত হয়েছে, তখন কিন্তু কেউ প্রশ্ন উপস্থাপন করেনি। এখন এটি নিয়ে প্রশ্ন করা মানে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই ভারতবর্ষে যখন ইংরেজরা শাসন ক্ষমতা নিলো তখন ভারতবর্ষে ইংরেজরা আসার আগে ভারতের সরকারি ভাষা ছিলো ফার্সি এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে উর্দু ভাষা চালু করা হয়েছিলো। যখন ইংরেজরা ভাররতবর্ষ শাসনসন করা শুরু করলো তারা ইংরেজি চালু করলেন, সরকারি ভাষা হয়ে গেলো ইংরেজি। তখন এই ভারতবর্ষে আজকে যারা ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলছে তাদের মধ্যে অনেকে ইংরেজি শিক্ষা হারাম ফতোয়া দিয়েছিলো।
তিনি বলেন, মানুষ যখন চাঁদে গেলো তখন ফতোয়া দিয়েছিলো বিশ্বাস করলে হারাম, শিরকি হবে, আবার যখন টেলিভিশন চালু হলো তখন দেখা হারাম বলেছিলো। অনেকেই হজে যাওয়ার সময় ছবি দিয়ে দরখাস্ত করা বা ছবি দেওয়া যাবে না এটা নিয়ে বিতর্ক তুলেছিলো। এখন যারা এসব কথা বলেছিলো তারা টেলিভিশনে বক্তব্য দেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেলে খুশি হন। আসলে এসব কথা বলে তারা সমাজকে বিভ্রান্ত করতে চায়। আমি আশা করবো এ ধরনের বিভ্রান্তমূলক ও উস্কানিমূলক বক্তব্য তারা পরিহার করবে। এটি কখনো জনগণ মেনে নেয়নি নেবেও না। বাংলাদেশে কোনো মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের স্থান নেই।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft