বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
কেশবপুরে এক স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে জামায়াত নেতার নিয়োগ নিয়ে গুঞ্জন
মোতাহার হুসাইন, কেশবপুর ব্যুরো
Published : Tuesday, 1 December, 2020 at 9:52 PM
কেশবপুরে এক স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে জামায়াত নেতার নিয়োগ নিয়ে গুঞ্জনকেশবপুরের কালিয়ারই এসবিএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে এক জামায়াত নেতাকে নিয়োগ দেয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। পরিচালনা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ম্যানেজ হয়ে ৩টি নাশকতা মামলার আসামি ও জামায়াত সমর্থিতপ্রার্থী হয়ে দু’বার সুফলাকাটী ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী ব্যক্তিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পদ-পদবীতে না থাকলেও নিয়মিত জামায়াতে ইসলামীর তহবিল গঠনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সুধিমহল। এ নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়েছে।  
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের কালিয়ারই এসবিএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শুন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য চলতি বছরের ২ মার্চ পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম অবসরে যাওয়ার পর থেকে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ শুন্য। অন্তর্বর্তী এ সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মাওলানা শহিদুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ১৬ প্রার্থী আবেদন করেন। গত ২৭ অক্টোবর যশোর জিলা স্কুলে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার পর সন্যাসগাছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক এসএম মুনজুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোসারত আলী খানের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কমিটির অভিভাবক সদস্য জেসমিন নাহার নিয়োগ বোর্ডে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বলে সূত্র জানায়। ১ নভেম্বর এলাকাবাসী নিয়ে অনুষ্ঠান করে এসএম মুনজুর রহমান প্রধান শিক্ষক পদে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম রুহুল আমিন প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।      
থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সুফলাকাটী ইউপি চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা এসএম মুনজুর রহমানের বিরুদ্ধে ১টি নাশকতা মামলা (নং-৪১/১৫) হয়। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ জুন ১টি নাশকতা মামলা (নং-৮/১১) হয়েছিল। ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে আরও ১টি নাশকতা মামলা (নং-১৬/১৮) হয়। ২০১৫ সালে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন ও প্রায় ১ বছর ইউনিয়ন পরিষদে আসেননি। তিনি দীর্ঘদিন জামায়াত ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সুফলাকাটী ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
সুফলাকাটী ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার আব্দুস সামাদ বলেন, এসএম মুনজুর রহমান জামায়াত প্রার্থী হয়ে ২০১১ সালে এবং ২০১৬ সালে সুফলাকাটী ইউপি নির্বাচনে আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এ দুই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীও ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি বিজয়ী চেয়ারম্যান হয়ে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে এবং জামায়াতের গাছকাটা নাশকতা বাহিনীর পেছনে তিনি বহু টাকা ব্যয় করেছেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা হওয়ায় দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তিনি জামায়াতের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে অর্থ যোগানদাতা ও জামায়াত নেতাদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি জামায়াত নেতা মুক্তার আলী ও আব্দুস সামাদের ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন। তিনি এখনও জামায়াতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থের যোগান দেন।
মুনজুর রহমান জামায়াত এর প্রোডাক্ট উল্লেখ করে বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষকের যোগদান অনুষ্ঠানে আমাকে স্কুলে দাওয়াত দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি জামায়াত এর রাজনীতির সাথে যুক্ত বলেই আমি যোগদান অনুষ্ঠানে অংশ নেইনি। বিএনপি-জামায়াতের তৎকালীন সরকার দলীয় রাজনীতিকদের সাথে তার সখ্যতা ছিল ওপেন সিক্রেট। তিনি কখনও কোন পদে নাম না লেখালেও জামায়াতের রাজনীতির চর্চা চালিয়ে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সাথে তাকে কখনও দেখা যায়নি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোসারত আলী খান বলেন, আমার ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন খান প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করায় আমি নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম না। কমিটির অভিভাবক সদস্য জেসমিন নাহারকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। নিয়োগ বোর্ড সুপারিশ করায় তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সদ্য যোগদানকৃত প্রধান শিক্ষক আগে জামায়াত করলেও এখন জামায়াত করেন না। আমি খোঁজ নিয়েছি, তিনি আওয়ামী লীগের সাথে বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন। মানুষ অপপ্রচার করছে, আমি নাকি ১৫ লাখ টাকা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছি। কিন্তু আসলে তিনি প্রথম হওয়ায় ও নিয়োগ বোর্ড রেজুলেশন করে দেয়ায় তাকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়েছে।  
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এসএম মুনজুর রহমান বলেন, আমি কখনই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে ছিলাম না। কেউ তার প্রমাণ দিতে পারবে না। তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। ম্যানেজ নয় বরং যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে তিনি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানান।  










সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft