শনিবার, ০৮ মে, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
মণিরামপুরে বাঁশ-বেত শিল্পের চাহিদা কমছে
তাজাম্মূল হুসাইন, মণিরামপুর (যশোর) পৌর প্রতিনিধি :
Published : Wednesday, 2 December, 2020 at 4:59 PM
মণিরামপুরে বাঁশ-বেত শিল্পের চাহিদা কমছেমণিরামপুর উপজেলায় বাঁশ-বেত শিল্পের পণ্য বিক্রি করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে প্রায় তিন হাজার মানুষ। কয়েক বছর ধরে প্লাস্টিক ও সিলভারের তৈরি আসবাবপত্র বাজারে প্রবেশ করায় তার খদ্দের দিন দিন বাড়তে শুরু করে। এতে আগের মত বিক্রি হচ্ছে না বাংলার ঐতিহ্য বেত ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ধামা, কুলা, চালন, পইকাসহ বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র। যার কারণে বেকার হয়ে পড়ছে একটি গোষ্ঠী বা একটি সম্প্রদায়। আর লাভবান হচ্ছে কিছু কোম্পানি।
উপজেলার পাড়ালা গ্রামের অতুল বিশ্বাস বলেন, আমাদের এই মুনি (ঋষি) সম্প্রদায়ের আয়ের একমাত্র উৎস হচ্ছে বেত ও বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পণ্য। জমি না থাকায় পূর্ব পুরুষের এই পেশা ছাড়তে পারি না। বর্তমানে প্লাস্টিকের তৈরি চেয়ার, চালন, কুলা, সের এবং সিলভারের গামলা, বাটিসহ বেশকিছু পণ্য বাজারে আসছে। ওইসব পণ্য দেখতে চাকচিক্য এবং দামে সস্তা হওয়ায় মানুষ সেদিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে। যার কারনে আমাদের বেত ও বাঁশের তৈরি ধামা, কুলা, চালন, পইকা, সের ইত্যাদি পণ্যের চাহিদা কমছে। এতে কোম্পানিগুলো লাভবান হচ্ছে আর আমরা একটি সম্প্রদায় দিনদিন বেকার হয়ে পড়ছি।
হরিদাসকাটি গ্রামের দিলীপ বিশ্বাস বলেন, এই উপজেলায় প্রায় তিন হাজার ঋষি সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করে। বেত ও বাঁশের পাশাপাশি কেউ কেউ ব্যান্ডপার্টিতে (বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্রী) কাজ করে। অনেকে জুতা পালিশ করে জীবিকা নির্বাহ করে। পূর্ব পুরুষের এই বাঁশ-বেত শিল্পের চাহিদা কমে যাওয়ায় কেউ সেলুনে চুল কাটাচ্ছে, কেউ ভ্যান চালাচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের সম্প্রদায়ের কারোর ভালো আয় নেই। কেউ ভালো নেই।
সমাজসেবীরা বলছেন, তিন লক্ষাধিক লোকের বসবাস মণিরামপুর উপজেলায়। সেখানে মাত্র প্রায় তিন হাজার ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে। তাদের চাষের জমি কম। আয়ের উৎস কেবল বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি কিছু পণ্য। মানুষ উন্নত হচ্ছে আর দেশী পণ্য রেখে বিদেশি পণ্য ক্রয় করছে। এতে লাভবান হচ্ছে কোম্পানিগুলো আর ভেঙে পড়ছে আমাদের স্থানীয় শিল্পের অর্থনৈতিক অবকাঠামো। এমতাবস্থায় মুনি (ঋষি) সম্প্রদায়ের অর্থনীতির চাকা সচল করতে গেলে বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মমূখী কাজে নিয়োগ করার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে সার্বিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft