বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
মোবারকগঞ্জ চিনিকল
লুব্রিকেন্টস ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রতি ব্যারেলে ২০ থেকে ২৫ লিটার কম
টিপু সুলতান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
Published : Thursday, 7 January, 2021 at 8:05 PM
লুব্রিকেন্টস ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রতি ব্যারেলে ২০ থেকে ২৫ লিটার কমমোবারকগঞ্জ চিনিকলে লুব্রিকেন্ট মোবিল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি মিলের ২০২০-২০২১ মাড়াই মৌসুমে ব্যবহারের জন্য ৪১ লাখ টাকা মূল্যের ৫৬ ব্যারেল লুব্রিকেন্টস কেনা হয়। যার প্রতি ব্যারেলে ২০ থেকে ২৫ লিটার কম পাওয়া গেছে। ঘটনা তদন্তে ২৪ ডিসেম্বর পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ।
৫৬ ব্যারেলে প্রায় ১১ হাজার তিনশ’ ৭০ লিটার লুব্রিকেন্ট আনা হয়েছে খুলনার যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড থেকে। তবে কম পড়া লুব্রিকেন্টের দ্বায়ভার নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট চিনিকল বা সরবরাহকারী যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। কম পড়া এ লুব্রিকেন্টের প্রতি লিটারের মূল্য ধরা হয়েছে দুশ’ ৫০ থেকে ছয়শ’ ১০ টাকা। এসব মবিল আনার দ্বায়িত্বে ছিলেন মিলের টিএলআর মাসুদ রানা। মিল কতর্ৃৃপক্ষ ও তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে লুব্রিকেন্ট আনার পথে হয়তো ব্যারেল থেকে এসব লুব্রিকেন্টস বের করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যা তারা অন্য স্থানে বিক্রি করেছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন মিলের ব্যবস্থাপক (হিসাব) জাহিদুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক (পরিবহন প্রকৌশল) রায়সুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক (সংস্থাপন) আশেকুজ্জামান, উপব্যবস্থাপক (উৎপাদন) জাকির হোসেন ও সহব্যবস্থাপক (যন্ত্র কৌশল) সাধন কুমার মন্ডল। কমিটিকে আগামী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মিলের যে কোনো মালামাল ক্রয়ে পৃথক দু’টি কমিটি করা হয়। একটি কমিটি ক্রয় করেন বাকি একটি কমিটি বুঝে নেন। কিন্তু কীভাবে কম থাকা লুব্রিকেন্টস মিল স্টোরে ঢুকলো তা বোধগম্য নয়।
এদিকে, মিলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক এডিএম আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হয়েছে। তদন্তে দোষী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মিল কর্তৃপক্ষ দুর্নীতি প্রতিরোধে তৎপর রয়েছে।
সম্প্রতি ট্রাক্টর থেকে তেল চুরির একটি ঘটনা জানার পরই জড়িতকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, শুকনা আখ কেনার অপরাধে ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্রের সিআইসি রায়হান উদ্দীন ও সিডিএ কাম সিআইসি কামাল হোসাইন নামে দু’জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্নীতি-অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, চলতি মাড়াই মৌসুমে দেশের ৬টি মিল সরকার বন্ধ ঘোষণা করেছে। এরপরই মিলটি ঘুরে দাঁড়াতে তৎপর হয়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় মিলের চিনি উৎপাদনে গড় আহরণ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার চলতি মাড়াই মৌসুমের ২০ কার্যদিবসে চিনি আহরণের গড় ছিল ৫ দশমিক ৩০। যা একই কার্যদিবসে গত মৌসুমে ছিল ৪ দশমিক ৮৫। চলতি মাড়াই মৌসুমে মিলটি চিনি উৎপাদনে আশার থেকে বেশি ভালো করবে বলে আশা করছেন এডিএম আনোয়ার।
তবে, দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় অব্যবস্থাপনা, মোটা অংকের ব্যাংক সুদ প্রদান ও মান্দাতার আমলের ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারখানা ও আখের জাত উন্নয়ন না হওয়া চিনি আহরণ কমছে।
অন্যদিকে, চিনি উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিকের মজুরি, আখ ক্রয়, মিলে অপরিস্কার আখ সরবরাহ, রস ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত দৈনিক আখ মাড়াই, পরিবহন খরচ, কারখানা মেরামত এবং বয়লারের জ্বালানিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক খাতের খরচ মিটিয়ে প্রতি বছরই বাড়ছে চিনি উৎপাদন খরচের এই অংক। সে তুলনায় বাড়েনি চিনির বিক্রয় মূল্য। ফলে বছরের পর বছর মিলটিকে লোকসান দিতে হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft