শুক্রবার ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১ মাঘ ১৪২৯
                
                
☗ হোম ➤ মতামত
মহাসপ্তমী-মহাষ্টমী, মহানবমী......বিজয় উৎসব
অধ্যাপক অখিল কুমার চক্রবর্ত্তী
প্রকাশ: সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২, ১:৪৯ এএম আপডেট: ০৩.১০.২০২২ ১:৫১ এএম |
লঙ্কায় অশোক বন থেকে সীতাকে উদ্ধার করার জন্য ব্রহ্মার বিধান অনুযায়ী রামচন্দ্র অকালেই শরতের শুক্লা ষষ্ঠীতে বিল্ববৃক্ষতলে একান্ত নিষ্ঠাভরে দেবীর বোধন করলেন। রামচন্দ্র নিজের হাতে  দেবীদুর্গার সিংহবাহিনী মূর্তি গড়লেন। মহা উৎসাহের সাথে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী তিথিতে বিধিসম্মত উপায়ে দেবীর পূজা করলেন। অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণে তিনি যথারীতি সন্ধিপূজা করলেন।
পূজা সাঙ্গ হলো। দেবী জগন্মাতা কিন্তু রামচন্দ্রের সম্মুখে আবির্ভূত হলেন না। রামচন্দ্র হতাশ হলেন। এমন সময় বিভীষণ (রাবণের কনিষ্ঠ ভ্রাতা) পরামর্শ দিলেন দেবীদহ থেকে একশ’ আটটি নীলপদ্ম এনে পূজা করলে দেবী নিশ্চয় প্রসন্ন হবেন। রামচন্দ্রের সেবক হনুমান বাতাসের বেগে সে পথ পেরিয়ে দেবীদহ থেকে একশ’ আটটি নীলপদ্ম সংগ্রহ নিয়ে এলেন। রামচন্দ্র সেই একশত আটটি নীলপদ্ম নিয়ে দেবীর পূজায় বসলেন। এক একটি করে নীল পদ্ম তিনি মায়ের চরণে অঞ্জলি দিতে লাগলেন। কিন্তু দেখা গেল একটি পদ্ম কম। দেবী জগন্মাতা রামচন্দ্রকে পরীক্ষা করছেন। রামচন্দ্র অস্থির হয়ে পড়লেন। তাঁর সংকল্প রক্ষা হলো না। দেবীর কৃপা লাভ হবে না এবং সীতা উদ্ধার হবে না।
রামচন্দ্র ব্যস্ত হয়ে দেবীদহ থেকে আর একটি নীলপদ্ম হনুমানকে আনতে বললেন। হনুমান করজোড়ে প্রভু রামচন্দ্রকে জানালেন আর একটিও নীলপদ্ম দেবীদহে নেই।
রামচন্দ্র বিলাপ করতে লাগলেন। হঠাৎ তার মনে হলো তাঁকেতো সবাই ‘নীল কমলাক্ষ’ বলে। সুতরাং তিনি নিজেই তাঁর একটি চক্ষু উৎপাটিত করে দেবীর চরণে অঞ্জলি দিবেন বলে সংকল্প করলেন। তারপর তুণীর থেকে একটি বাণ নিয়ে নিজের একটি চক্ষু উৎপাটিত করতে গেলেন। 
সেই মুহূর্তে দেবী দশভূজা দুর্গা শ্রীরামচন্দ্রের সম্মুখে আবির্ভূতা হলেন। রামচন্দ্রের হাতটি ধরে ফেলে তিনি কোমল কন্ঠে বললেন, “একি করছ তুমি প্রভু! তুমি যে স্বয়ং ভগবান! এই রাক্ষসের দুরাচার থেকে জগৎকে রক্ষা করার জন্য মায়ায় মানুষের রূপ ধারণ করেছ। পরমাপ্রকৃতি দেবী সীতাকে ধরে রাখে রাবণের সাধ্য কি? অকালবোধনে বিধিমতে পূজা করে এ জগতে আমার মহিমা প্রকাশ করে তুমি আমাকে  ধন্য করলে, আমি তোমার প্রতি প্রসন্ন হয়েছি। রাবণের সাধ্য নেই তোমাকে প্রতিহত করে, তুমি তার বিনাশ কর।”
অকালবোধনে দেবীর আশীর্বাদ লাভ করে দশমী তিথিতে বিধিমতে পূজা সাঙ্গ করলেন রামচন্দ্র। তারপর পূর্ণ উদ্যমে তিনি রাবণবধের উদ্দেশ্যে যুদ্ধযাত্রা করলেন। অতপরঃ সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিথি অনুযায়ী রাম-রাবণের প্রচণ্ড যুদ্ধ হল। তাঁর হাতের অমোঘ মৃত্যুবাণ রাবণের বক্ষস্থল বিদ্ধ করল। লঙ্কাপতি রাক্ষসরাজ রাবণ বাণবিদ্ধ হয়ে ধরাশায়ী হল, সমস্ত বিরোধিতা ভুলে করুণাময় ভগবান শ্রীরামচন্দ্র তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালেন। তাঁকে দর্শন করতে করতে রাবণ প্রাণ ত্যাগ করল। তার রাক্ষস-জীবনের পরিসমাপ্তি হলো।
দেবীর অনুগ্রহে রামচন্দ্র রাবণকে বধ করে সীতা দেবীকে উদ্ধার করলেন। সপ্তমী তিথিতে দেবীশক্তি রামচন্দ্রের ধনুর্বাণে প্রবেশ করেছিলেন বলে ‘মহাসপ্তমী’। মহাবিপদ কেটে গেলো বলে এই অষ্টমীর নাম হলো ‘মহাঅষ্টমী’। আর মহাসম্পদ লাভ হলো বলে এই নবমীর নাম হলো ‘মহানবমী’।
শ্রীরামচন্দ্রের এই দুর্গোৎসবের স্মরণেই আমাদের এই শারদীয় দুর্গাপূজা। যিনি পূজক তিনি স্থিত শ্রীরামের ভূমিকায়। সংসারশ্রয়ী সাধারণ নরনারীর দারিদ্রই মহাবিপদ, ঐশ্বর্যই মহাসম্পদ, জীবনযাত্রাই যুদ্ধ। এই যুদ্ধে জয়লাভ করে মহাবিপদের নিগড় থেকে অব্যাহতি পেয়ে মহাসম্পদ লাভ মায়ের অনুগ্রহেই হয়ে থাকে। 
মানব-সভ্যতা আজ ভোগময়ী। ভোগপ্রবণতাই অকাল। আমাদের অকাল বোধন সফল হউক, বৃক্ষের ফলে, বিশ্বমাতার পূজার পরিচয়ে, বিশ্বভ্রাতৃত্বের প্রসারে। মহাপূজার আয়োজনে উৎসব-মুখর আমাদের জীবন আকাশের মতো উদার হোক-বাতাসের মতো স্নিগ্ধমধুর হোক। করুনাময়ী মহামারী দূরে থাক। মহামায়ার কাছে আমাদের প্রার্থনা-
ইয় দেবী সর্বভুতেষী শান্তিরূপেণ সংস্থিতা
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।
# লেখক: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, মহাশক্তি দেবী দুর্গার পুস্তকের লেখক।


গ্রামের কাগজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


সর্বশেষ সংবাদ
লালপুরে বিএনপির লিফলেট বিতরণ
লামা ফাইতং এ ভ্রাতৃঘাতী হামলায় চোখ হারালেন বিয়াই
ইন্টার্ন নার্সকে লাঞ্ছিতে অভিযুক্ত দালাল সাদ্দাম গ্রেফতার
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ও শহীদ কামারুজ্জামানের সমাধিতে প্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ
বাস-লরি সংঘর্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আহত ২৬
মুজিব মানেই বাংলাদেশ : খুলনা সিটি মেয়র
চিনিতে এবার ৫০ কোটি টাকা লোকসান গুণতে হবে কেরুকে
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সারাদেশের নজর এখন যশোরে
কেন্দ্রে অভিযোগ জানাবেন স্থানীয় এমপি ও সভাপতি
মণিরামপুরে নতুন কমিটিতে আসলেন যারা
পাতাল রেলের যুগে বাংলাদেশ
জাহাজ রফতানিতে নবদিগন্ত
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনের হবে : কাদের
নাজিরপুরে ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু
আমাদের পথচলা | কাগজ পরিবার | প্রতিনিধিদের তথ্য | অন-লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য | স্মৃতির এ্যালবাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন | সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
কপিরাইট © গ্রামের কাগজ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft