শুক্রবার ২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
                
                
☗ হোম ➤ সারাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের জনসভাকে 'জনসমুদ্র' করার অঙ্গীকার আওয়ামী লীগের
মুহাম্মদ দিদারুল আলম,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ১:২৫ পিএম |
রোববার (৪ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে নানান কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি চলছে নানা ধরনের সভা ও বৈঠক। দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। এ জনসভা থেকে নির্বাচনেরও বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেবেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।
জনসভায় পলোগ্রাউন্ড কানায় কানায় পূর্ণ করতে চায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। জনসভাকে বর্ণিল করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর-দক্ষিণ জেলা আর মহানগর আওয়ামী লীগ। চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সবসময় আন্তরিক বলছেন দলের নেতারা। এবার আরও নতুন ঘোষণা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে আসাকে কেন্দ্র করে সকল স্তরের নেতাকর্মীরা খুশি। চারদিকে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জনসভাকে গণজমায়েত করার জন্য সকল স্তরের নেতাকর্মীরা দিন-রাত খাটছেন।
নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের জনসভায় তারা জনসমাগমের রেকর্ড গড়তে চান। জনসভায় অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আশপাশের মানুষ যাতে শুনতে পারে এ জন্য লাগানো হবে ৩শ মাইক। পলোগ্রাউন্ডে সাত ফুট উঁচু মঞ্চ তৈরি করা হবে। এর দৈর্ঘ্য হবে ১২০ ফুট ও প্রস্থ হবে ১৪০ ফুট। মঞ্চে একসঙ্গে ২শ অতিথি বসতে পারবেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানান, এ জনসভা থেকে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে বিজয়ের জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেবেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে হয়তো তিনি জনগণের কাছে আগামীর চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশ সম্পর্কে বার্তা পাঠাতে পারেন।
তিনি আরও জানান, আমরা প্রিয় নেত্রীর আগমনে খুবই খুশি। আমরা সেদিন স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগম ঘটিয়ে আমাদের নেত্রীকে দেশবাসীকে দেখিয়ে দিতে চাই চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ, আওয়ামী লীগ মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। আর চট্টগ্রামের মানুষ আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছে ও থাকবে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সমাবেশের জমায়েত প্রসঙ্গে বলেন, জনসভাটা চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ ও মহানগর আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে হলেও জনসভার স্থান মহানগরে পড়েছে। তাই আমাদের দায়িত্বটা বেশি। পলোগ্রাউন্ডের আশপাশের ওয়ার্ড থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ আসবে। কোন কোন ওয়ার্ড থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ আসবে। দূরের ওয়ার্ড থেকে কিছুটা কম আসবে।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড থেকে দুই লাখের অধিক মানুষ সমাবেশে যোগদান করবে। এর বাইরে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, মৎস্যলীগ, তাঁতীলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে মানুষ আসবে। তার সাথে যোগ হবে সাধারণ মানুষ। জনসভাস্থল পলোগ্রাউন্ড শুধুমাত্র মহানগরের লোকজনেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাবে। মাঠের বাইরে বসেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ময়দানের চারপাশে কয়েক বর্গকিলোমিটার জুড়ে মাইক লাগানো হবে। তাই উত্তর-দক্ষিণ ও মহানগর থেকে যত লোকই আসুক না কেন কোন সমস্যা হবে না।

আয়োজন বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বিপ্লবতীর্থ চট্টগ্রাম সবকিছুতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ইতিহাসের অংশ হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের গৌরবময় ভূমিকা আছে। পাকিস্তান কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু মুক্ত হয়ে ফিরে এসে ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ডে এক বিশাল জনসমুদ্রে চট্টগ্রামবাসীকে সম্ভাষণ জানাতে এসেছিলেন। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ ডিসেম্বর এই মাঠে ঐতিহাসিক বিজয় দিবসকে সামনে রেখে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির দিক নির্দেশনা দেবেন।
মেয়র আরও বলেন, ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে ঘিরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীকে পরিপাটি করে সাজানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় প্রবেশের পথ সুগম ও মসৃণ করে তোলা হয়েছে। জনসভায় আগত জনসাধারণের কোনও সমস্যা যাতে না হয় সে জন্য সুপেয় পানি, ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী টয়লেট স্থাপন করা হবে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে আলাদাভাবে সমাবেশে যোগদান করবে। উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা তাদের সমন্বয় করবেন। উত্তর চট্টগ্রামের ৭ উপজেলা থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ আসবে উল্লেখ করে বলেন, ইতোমধ্যে বাস-ট্রাক ভাড়া করা শুরু হচ্ছে। সন্দ্বীপ থেকে লঞ্চ, স্পিড বোটে করে মানুষ আসবে। এছাড়াও আলাদাভাবে কিছু লঞ্চ সেদিন চলবে। যারা সমাবেশে আসতে চায় ওই লঞ্চে করে আসতে পারবে।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, দক্ষিণ জেলার ৮ উপজেলা থেকে দেড় লাখ মানুষ সমাবেশে যোগদান করবে। শহরের বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার, আবাসিক হোটেলে তারা রাতযাপন করবেন। তাদের খাবার-দাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
নগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক জানান, চট্টগ্রামে দীর্ঘ এক দশক পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসছেন। এটা নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামবাসীর জন্য আনন্দের বিষয়। নেত্রী আসছেন তাই উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। সেই উৎসবে সর্বস্তরের জনগণকে সামিল করার জন্য নানা পরিকল্পনা চলছে।
তিনি জানান, ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যায় প্রচারণা শেষ হবে। তবে নামাজের সময় মাইক বন্ধ থাকবে। যেসব পয়েন্টে মাইক বাজানো হবে তা হল, নিউ মার্কেট মোড়, আন্দরকিল্লা, কদমতলী মোড়, দেওয়ানহাট মোড়, বাদামতলী, সল্টগোলা, ইপিজেড, স্টিলমিল, বড়পুল, নয়াবাজার বিশ্বরোড, অংলকার, কর্নেল হাট, জিইসি মোড়, টাইগারপাস, ওয়াসামোড়, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, রাজাখালী ব্রিজ, আতুরার ডিপো, অক্সিজেন, চকবাজার এবং ধুনিরপুল। এসব পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগদানের আহ্বান জানিয়ে উৎসাহমূলক স্লোগান বাজানো হবে। একইসাথে ২৪ তারিখ থেকে ট্রাক শোভাযাত্রা এবং প্রতিদিন ২০টি সিএনজি ট্যাক্সির মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। ৫ দিন পর আরও ১০টি ট্যাক্সি যুক্ত হবে। শেষের কয়েকদিন অন্তত ৫০টি ট্যাক্সির মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছে চট্টগ্রামের সব ধরনের সেবা সংস্থাগুলো। পুরো নগরজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নানান সাজে রাস্তাঘাট সজ্জিত করছে চসিক। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর আগমনের দিনে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এদিন চট্টগ্রামে কোনো ধরনের লোডশেডিং হবে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বিতরণ চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এম রেজাউল করিম বলেন, পলোগ্রাউন্ড মাঠের জনসভা ঘিরে সকল বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ঠিক করা হচ্ছে। যাতে ওদিন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়া যায়। এছাড়া সেদিন যদি কোনো ধরনের বড় কোনো সমস্যা না হয়, তাহলে ভোর থেকেই প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে থাকা পর্যন্ত কোনো রকম লোডশেডিং হবে না।
গত ৯ নভেম্বর চট্টগ্রামের একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এক যৌথ সভায় আগামী ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভাটি চট্টগ্রামের অতীতের সকল জনসভার রেকর্ড ভঙ্গ করবে বলে জানান দলটির সিনিয়র নেতারা।
তারা জানান, ৪ ডিসেম্বরের জনসভাটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেক বড় বড় জনসভাকে ছাপিয়ে যাবে। চট্টগ্রাম আবার নতুন রেকর্ড গড়বে। চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলা নিয়ে এটি মহাসমাবেশ নয়; এটি শুধুমাত্র চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ প্রশাসনিকভাবে যে চট্টগ্রাম জেলা; সেই বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলার একটি জনসভা। এই জনসভাকে আমরা জনসমুদ্রে পরিণত করতে চাই।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৮ মার্চ পলোগ্রাউন্ড মাঠে সর্বশেষ জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই মাঠে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


গ্রামের কাগজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


সর্বশেষ সংবাদ
অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করে : সারিকা
ভারত সিরিজে থাকছেন না সুজন
বাংলাদেশের ৬ ক্রিকেটার থাকছে আইপিএলের নিলামে
৩৭-এও চিরতরুণ মড্রিচ
কানাডাকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর নক আউটে মরক্কো
বেলজিয়ামের কোচের পদত্যাগ
জাতীয় পতাকা উল্টো ধরলেন নোরা ফাতেহি
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কাভার্ডভ্যান ঢুকে পড়ল হোটলে, নিহত ৫
১০ ডিসেম্বরকে ঘিরে বিএনপির ভয়ংকর পরিকল্পনা
দেশে আন্দোলন : জুয়ায় মত্ত তারেক
দেশব্যাপি পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু
যশোরে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু
চৌগাছায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রকে মারপিট
আলাদা হবে নুহা-নাবা, চিকিৎসার খরচ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
আমাদের পথচলা | কাগজ পরিবার | প্রতিনিধিদের তথ্য | অন-লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য | স্মৃতির এ্যালবাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন | সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
কপিরাইট © গ্রামের কাগজ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft