মঙ্গলবার ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮ মাঘ ১৪২৯
                
                
☗ হোম ➤ এক্সক্লুসিভ
ফলোআপ: অভয়নগরে ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ
জালিয়াতি আড়াল করতেই মামলা করেছেন আমজাদ
এম. রহমান :
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ১২:২৪ এএম |
যশোরের অভয়নগর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রির একটি মামলা নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। বাদী না বিবাদী-কার বক্তব্য সঠিক তা জানতে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে গ্রামের কাগজের পক্ষ থেকে। এতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যাতে প্রমাণিত হয়, জালিয়াতির মাধ্যমে একটি পক্ষ প্রকৃত মালিকের অনুপস্থিতিতে দুটি দলিলের মাধ্যমে দুই একর ১৪ শতক জমি নিজেদের অনুকুলে রেজিস্ট্রি করিয়ে নিয়েছেন। এই দুর্নীতি আড়াল এবং নিজেদের রক্ষা করতে উল্টো জালিয়াতকারীরা জমির প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ ও সাজানো মামলা দায়ের করছেন।  
আদালতে দায়ের করা মামলার অভিযোগ সূত্রে গত ২৩ নভেম্বর গ্রামের কাগজে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরপরই হৈ চৈ শুরু হয় শার্শা ও অভয়নগর সাবরেজিস্ট্রি অফিসপাড়ায়। মামলার বাদী অভয়নগরের মহাকাল গ্রামের মৃত ফকির আহম্মেদ সরকারের পুত্র আমজাদ হোসেন। তিনি দুদক যশোরের উপপরিচালক বরাবর প্রথমে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে অভিযুক্ত করা হয় অভয়নগরের সাবেক সাবরেজিস্টার ও বর্তমান বাঘারপাড়া উপজেলা সাবরেজিস্টার রিপন মুন্সি, দলির লেখক শাহিনসহ ৮ জনকে। পরে সাবরেজিস্টার রিপন মুন্সিকে বাদ দিয়ে অপর দলিল লেখকসহ ৭ জনের নামে আদালতে মামলা করেন আমজাদ হোসেন।
বিষয়টি নিয়ে গ্রামের কাগজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মামলার বাদী আমজাদ হোসেন ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রিকৃত একটি দলিলের মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই দলিলের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে এর সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সন্দেহের তীর এখন আমজাদ হোসেনসহ উক্ত দলিলে উল্লেখিত অন্যান্য ওয়ারেশদের দিকে।
আমজাদ হোসেনের দাবিকৃত ১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর ৬১৭৪/২০১৬ নম্বর দলিলে জাহাঙ্গীর নামে যে ব্যক্তির বঃ কলামের স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে, জিয়াদ আলী খান নামে যে ব্যক্তিকে সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার ইসলামকাঠী সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে তারও কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ওই নামে কোন দলিল লেখক ওই সমিতিতে নেই বলে সমিতির সদস্যরা জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে মামলার বাদী আমজাদ হোসেন ও তার ভাই করিম সরদারের সাথে যোগাযোগ করা হয়। দলিলের বঃ কলম স্বাক্ষরকারী জাহাঙ্গীর ও দলিল লেখক জিয়াদ খান নামে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে ‘আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানিনা’ বলে জানান দুইভাই।  কারণ হিসেবে তারা বলেন, দলিলটি তাদের পিতা মৃত ফকির আহম্মেদ সরদার করেছেন। তারা এ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারবেন না।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় জমির প্রকৃত মালিক মোমতাজে বেগমের আত্মীয় মফিজুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আমজাদ হোসেন ও তার ভাই করিম সরদারসহ অন্যরা ভূমি দস্যু। তারা অন্য একজন নারীকে মোমতাজ বেগম সাজিয়ে এবং ভুয়া বঃ কলম স্বাক্ষরকারী, ভুয়া দলিল লেখক সাজিয়ে ২০১৬ সালে ১৪ ডিসেম্বর অভয়নগর সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে ৬১৭৪/২০১৬ ও ৬১৭৫/২০১৬ নম্বরের দুটি জমি দলিল রেজিস্ট্রি করিয়েছেন।
মোমতাজ বেগমের জামাতার ভগ্নিপতি বাবু এ প্রতিবেদককে জানান, মোমতাজ বেগমের উল্লেখিত দলিলের পৃথক ২টি দাগ থেকে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ৯৭ শতক জমি দলিল করেন আমজাদ হোসেন ও তার ভাই করিম সর্দার। তাদের অপর দুই ভাইয়ের মধ্যে ওয়াজ করিম ৬৩ শতক এবং ফজলুর রহমান একই তারিখে ৬১৭৬/২০১৬ নং দলিলে ৫৪ শতক জমি জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করিয়েছেন। চার ভাই জালিয়াতির মাধ্যমে মোমতাজ বেগমের কাছ থেকে মোট ২ একর ১৪ শতক জমি নিজেদের নামে দলিল করিছেছেন। যা মোমতাজ বেগম জানতেন না।
বাবু আরও বলেন, মমতাজ বেগম অসুস্থ। তিনি প্রায় সময়ই ভারতের বারাসাতে মেয়ের বাড়ি থাকেন। তার আদি বাড়ি যশোরের অভয়নগর উপজেলার মহাকাল গ্রামে। তার পিতা মৃত মোবারক মোড়ল, স্বামী সালে আহম্মেদ দপ্তরি। মহাকাল গ্রামে মোমতাজ বেগমের আরও অনেক জমি রয়েছে। যা তিনি পর্যায়ক্রমে বিক্রি করবেন।
অভয়নগর দলিল লেখক সমিতির সদস্য শাহিন জানান, সম্প্রতি মোমতাজ বেগম তার স্বামীর বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় বসবাস করা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে তিনি অভয়নগর সাবরেজিস্ট্রি যেতে না পেরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শার্শা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সাবরেজিস্টার অনজু দাসের অফিস কক্ষে হাজির হয়ে তার পক্ষে অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের পুত্র হাফিজুর রহমানের নামে একটি স্পেশাল পাওয়ার অব এটর্নি দলিল করে দেন। এই দলিল বুনিয়াদে হাফিজুর রহমান পরিবর্তীতে জমি গ্রহিতাকে দলিল সম্পাদন করে দিতে পারেন। বর্তমানে মোমতাজ বেগম বাগআঁচড়ায় স্বামীর বাড়িতে বসবাস করছেন।
শার্শা ও অভয়নগর সাবরেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানাগেছে, মোমতাজ বেগম গত ১৯ সেপ্টেম্বর হাফিজুর রহমানকে স্পেশাল পাওয়ার অব এটর্নি দলিলসহ মোট ৪টি দলিল করে দেন। যা পরবর্তীতে ১৯ অক্টোবর পাওয়ার দলিল মূলে গ্রহীতা হাফিজুর রহমান অভয়নগর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে মোমতাজ বেগমের পক্ষে সাবরেজিস্ট্রি আইন অনুযায়ী টিপসহ সম্পাদন করেন। এই জমির গ্রহীতারা হলেন হাবিবুর রহমান, দাউদ হোসেন, আরিফুল ইসলাম ও অপর একজন। কিন্তু বিষয়টি পরে জানতে পেরে আমজাদ হোসেন ও তার অন্য ওয়ারেশরা নিজেদের রক্ষা করতে আদালতে একটি সাজানো মামলা করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। আর বাংলাদেশ নিবন্ধন রেজিস্ট্রি আইন সম্পর্কে না জেনে সাবরেজিস্টার রিপন মুন্সি ও দলিল লেখকসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা বা দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর বরাবর হয়রানিমূলক অভিযোগ করেছেন নিজেদেরকে রক্ষা করতে। এসব অভিযোগ মোমতাজ বেগম ও তার পক্ষের লোকজনের।
এদিকে, এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য শনিবার আমজাদ হোসেনের মোবাইল ফোনে তার পিতা ফকির আহম্মেদ সরদার কোন সালে মারা গেছেন জানতে চাইলে প্রথমে বলেন, ২০১৬ সালের জমি রেজিস্ট্রির আগে। আবার বলেন, না, জমি রেজিস্ট্রির পরে। একেক সময় একেকভাবে উত্তর দেন তিনি। যা নানা প্রশ্নের সৃষ্টির করেছে। কারণ আমজাদ হোসেন ও তার ভাই ইতিপূর্বে গ্রামের কাগজকে জানান, তারা এই জমি রেজিস্ট্রি সম্পর্কে কিছুই জানে না। তার পিতা এই জমি রেজিস্ট্রি করেছিলেন।



গ্রামের কাগজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


সর্বশেষ সংবাদ
সাবেক মেয়র, সচিব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার নামে মামলা
যশোর বোর্ডের একটি স্কুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ
যশোরে এলজিইডির মানববন্ধন
সিরাজসিংহায় বাড়ি ছাড়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে এক পিতৃহারাকে
জাল জখমি সনদে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে কারাগারে স্ত্রী
ডলার সংকটে রমজানে বাড়তে পারে খেজুরের দাম
পাকিস্তানের পেশোয়ারে মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ২৮
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সভাপতি সুমন, সম্পাদক আরিফ
সাবেক মেয়র, সচিব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার নামে মামলা
বাঙালির কিছু বিখ্যাত বংশ পদবীর ইতিহাস
নর্দমায় ছুড়ে ফেলা স্বর্ণ উদ্ধার করলো পুলিশ, আটক এক
উন্নত বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা: সাবেক এমপি মনির
বেসরকারি হাসপাতালের ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বিএনপিকে জনগণ পালাবার সুযোগ দেবে না : তথ্যমন্ত্রী
আমাদের পথচলা | কাগজ পরিবার | প্রতিনিধিদের তথ্য | অন-লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য | স্মৃতির এ্যালবাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন | সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
কপিরাইট © গ্রামের কাগজ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft