শনিবার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২ মাঘ ১৪২৯
                
                
☗ হোম ➤ রাজনীতি
সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপির ‘না’
নয়াপল্টনেই সমাবেশ করতে অনঢ় দলটির শীর্ষ নেতারা
ঢাকা অফিস :
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ১১:৫৬ পিএম |
১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি। আর এ সমাবেশ তারা করতে চায় নয়াপল্টনে। তবে সরকার নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি দিতে নারাজ।
নিজেদের চাওয়া জায়গার বদলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি পাওয়া নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে বিএনপিতে। যে কারণে আগামী ১০ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী কর্মসূচি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। সামগ্রিক পরিস্থিতি, ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের গতিবিধি পর্যালোচনা করে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, উদ্যানে সমাবেশ করতে দেওয়ার পেছনে সরকারের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। তারা নিজেদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চায়। ফলে দিন যতই এগুচ্ছে, ততই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। নয়াপল্টনেই সমাবেশ করতে অনঢ় দলটির শীর্ষ নেতারা।
দলটির নেতারা মনে করেন, সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করার নামে তাদের দেয়ালবন্দি করার চেষ্টা করছে সরকার। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে বড়ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বেন নেতাকর্মীরা।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজনীতির মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ‘১০ ডিসেম্বর।’ এ দিন ঢাকায় ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি। আর এ সমাবেশ তারা করতে চায় নয়াপল্টনে। এতে তারা ১০ লাখ লোকের জমায়েত করতে চায়। তবে সরকার নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি দিতে নারাজ, সরকার চায় বিএনপি এ সমাবেশ করুক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।
বিএনপির এ সমাবেশের আগের দিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। তবে সোহরাওয়ার্দীতে ৮ ও ৯ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের সম্মেলনের যে তারিখ নির্ধারিত ছিল তা পরিবর্তন করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ ডিসেম্বর। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- বিএনপিকে সহযোগিতা করতেই ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।
১০ ডিসেম্বর ঘিরে সব আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বিএনপির এই দিনের সমাবেশের ভেন্যু। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে জনভোগান্তি এড়িয়ে বিএনপি যেন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ। বিএনপির সমাবেশের সুবিধা বিবেচনায় ৮ ও ৯ ডিসেম্বরের পরিবর্তে সংগঠনটির সম্মেলন হবে ৬ ডিসেম্বর। সম্মেলনের পরপরই ভেঙে ফেলা হবে মঞ্চ। বিএনপির সমাবেশের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
এরই মধ্যে ২৬ শর্তে আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
তবে গত ২৮ নভেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ হবে। সরকার কখনও অনুমতি দেয়, কখনও দেয় না- এমন মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, অনেক সময় অনুমতি দিলেও আক্রমণ করছে। আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বাধা-বিপত্তি দিলেও কর্মসূচি থাকবে। সমাবেশ ঘিরে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে সরকার, পরিবহন ধর্মঘট ডাকে। যেই বিএনপির সমাবেশ শেষ তাদের ধর্মঘটও শেষ।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলছেন, বিএনপির সমাবেশের উদ্দেশ্যটাই খারাপ। উদ্দেশ্যটা হলো- স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল করা, নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে জ্বালাও-পোড়াও, অগ্নিসন্ত্রাস, পেট্রল বোমা নিক্ষেপ, মানুষ পুড়িয়ে মারা। যে ঘটনাগুলো তারা ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে ঘটিয়েছে। একইভাবে তারা আবার শুরু করার পাঁয়তারা করছে। তাদের লক্ষ্য তো দেশের মানুষের উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে, দারিদ্র্য দূরীকরণের ব্যাপারে যে লড়াই সেটা তো এদের (বিএনপি) লক্ষ্য না। এদের লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের শান্তি দূর করে আতঙ্কিত করা, ভয়-ভীতি দেখানো, উল্টো পথে ক্ষমতায় যাওয়া।
তিনি আরও বলেন, তাদের (বিএনপি) গণসমাবেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করার জন্য বলা হয়েছে, ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা ইজতেমা (তুরাগ) মাঠে করতে পারে। এখানে প্রায় ৫০ লাখ লোকের জমায়েত হয়। তারা পূর্বাচলের বাণিজ্য মেলার মাঠে নিতে পারে। সেখানে ২০ লাখ লোক এনে দেখাতে পারে যে জনগণ তাদের সঙ্গে আছে। শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্য হলে সেখানে ২০ লাখ লোক এনে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে পারে।’
১০ ডিসেম্বর ঘিরে আওয়ামী লীগ নির্দিষ্ট কোনো কর্মসূচি না দিলেও রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানা আওয়ামী লীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতীম ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সক্রিয় থাকার নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপির গণসমাবেশের আশপাশে নেতাকর্মীদের অবস্থান না করতেও বলেছেন দলের হাইকমান্ড।
এরই মধ্যে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ, রংপুর, ফরিদপুর ও সিলেটে সমাবেশ করেছে বিএনপি। এই বিভাগীয় সম্মেলনের অংশ হিসেবেই ঢাকার সমাবেশ হবে বলে জানাচ্ছেন বিএনপি নেতারা।
দেশের অন্য বিভাগীয় সমাবেশে অনুমতি দেওয়া নিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হলেও ঢাকায় অনেকটা সময় বাকি থাকতেই বিএনপিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে স্বসম্মানে অনুমতিপত্র বিএনপির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে বিএনপি।
অন্যসময় কর্মসূচির আগের দিন অনুমতি দেওয়ার নজির থাকলেও হঠাৎ এবার কেন এত আগে দেওয়া হলো তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে বিএনপিতে।
এর আগে ঢাকায় নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে গত ২০ নভেম্বর ডিএমপির কাছে আবেদন করে বিএনপি। যার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৬টি শর্তে অনুমতি দেয় পুলিশ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না, দিলেও রাজধানীর পাশে কোথাও দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু হঠাৎ সেই অবস্থান থেকে অনেকটা ইউটার্ন করায় সন্দেহ বাড়ছে বিএনপির।




গ্রামের কাগজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


সর্বশেষ সংবাদ
যশোরে আ’লীগের ছয় বহিষ্কৃত পেয়েছেন ক্ষমা পাওয়ার চিঠি
বিদায়ী এডির পদায়ন বাণিজ্য
যমেক হোস্টেল যেন টর্চার সেল
প্রথম মিশন ট্রেন দুর্ঘটনার স্থান
বেড়েছে ডিম ও মুরগির দাম, কমেছে জিরায়
যে কারণে প্যারিস অলিম্পিক বয়কট করতে পারে ৪০ দেশ
কাঠবোঝাই নসিমন উল্টে চালক নিহত
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সারাদেশের নজর এখন যশোরে
কেন্দ্রে অভিযোগ জানাবেন স্থানীয় এমপি ও সভাপতি
মণিরামপুরে নতুন কমিটিতে আসলেন যারা
যশোরে আ’লীগের ছয় বহিষ্কৃত পেয়েছেন ক্ষমা পাওয়ার চিঠি
লামা ফাইতং এ ভ্রাতৃঘাতী হামলায় চোখ হারালেন বিয়াই
নাজিরপুরে ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু
আ’লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই দেশে এত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে : প্রতিমন্ত্রী স্বপন
আমাদের পথচলা | কাগজ পরিবার | প্রতিনিধিদের তথ্য | অন-লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য | স্মৃতির এ্যালবাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন | সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
কপিরাইট © গ্রামের কাগজ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft