শনিবার ৩ জুন ২০২৩ ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০
                
                
☗ হোম ➤ আন্তর্জাতিক
কোলকাতার ডায়েরি
ওখানে কে আমাদের ঠেলে বাইরে বের করে দিতে চাইছে?
অনিরুদ্ধ ঘোষ
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০২৩, ১০:১৫ পিএম |
বেশ বেলায় ঘুম থেকে উঠেই আমরা গেলাম মানিকপাড়া বাজারে সকালের জল খাবার খেতে। জল খাবারের দোকানটি বেশ ফাঁকাই ছিল। জল খাবার খেয়ে পরদিন সকালে কীভাবে কোলকাতায় ফিরবো আমরা দু’জনে সেই বিষয়ে বেশ খানিকটা খোঁজ খবর নিলাম। শুনলাম মানিকপাড়া মোড় থেকে সরাসরি কোলকাতা যাবার একটা মাত্র সরকারি বাস আছে। ট্রেন ওইসময় না থাকায় ঠিক করলাম যে বাসে করে পরদিন সকালে কোলকাতায় ফিরবো।
যাই হোক বাড়িতে ফিরতে না ফিরতেই স্বপন বাবুর নাতি বললো আমরা কখন যাবো সেটা দাদুকে ফোন করে বলে দিতে। স্বপন বাবু গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন, ফোন করে বলে দিলে চলে আসবেন। স্থির করলাম দুপুর বেলা খেয়ে দেয়ে বের হবো। ফিরে আসার পর আর সময় পাবো না বলে ব্যাগ মোটামুটি গুছিয়ে নিলাম।
স্নান করে স্বপন বাবুকে রোসন বাড়িতে আসার জন্যে ফোন করে বললো। এদিকে আমরা গেলাম বাজারের সেই হোটেলে দুপুরের খাবার খেতে। খাবার খেয়ে বাড়িতে ফিরে বুঝলাম যে স্বপন বাবু তখনো বাড়িতে ফেরেননি। ঠান্ডার সময় চোখ খানিকটা লেগে এসেছিলো দু’জনের।
হটাৎ স্বপন বাবু ঘরে ঢুকে বললেন, চলুন। বুঝলাম উনি কখন বাড়িতে ফিরেছেন, স্নান-খাওয়া করেছেন আমরা ঘুমিয়ে পড়াতে কিছুই মালুম পাইনি। সঙ্গের যাবতীয় জিনিসপত্র নিয়ে আমরা স্বপন বাবুর টোটো রিকশাতে উঠে পড়লাম। আজ উনি একলা। নাতিকে অনেক ডাকাডাকি করেও উনি আর খুঁজে পেলেন না। বুঝলাম ওখানে পুণরায় যেতে হবে শুনে নাতি আগেই বাড়ি ছেড়ে কোথাও আশেপাশে পালিয়েছে।
যাইহোক, আগের দিনের মতন এক রাস্তা দিয়ে টোটো আমাদের নিয়ে এগিয়ে চললো। ঠিক আগের দিনের জায়গায় টোটো আমাদের নামিয়ে দিল এবং স্বপন বাবু আমাদের নামিয়ে দিয়ে কোনো কথা না বলে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেলেন খুব দ্রুত গতিতে। স্থির করলাম আজ আর এদিকে না দেখে লাইন টপকে সোজা জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস দেখতে যাবো; যেখানে গতকাল একের পর এক আমাদের সঙ্গে ওই রকম অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে।
লাইন টপকে সোজা জঙ্গলের ভেতর দিয়ে খোলা মাঠের মধ্যে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসের কাছে গিয়ে পৌঁছালাম। কেউ কোথাও নেই। এলাকা আজও একদম শুনশান। তখন সবে বিকেলবেলা।
ওপারে গিয়ে মাল গাড়ির দিকে চেয়ে দেখলাম কেউ নেই কোথাও। না, রেল কর্মচারী যারা ওই পড়ে থাকা জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস ট্রেনের ভেতরে রেলের যন্ত্রপাতি রেখে গিয়েছিলেন তারাও নেই। শুধু আপ এবং ডাউন লাইন দিয়ে বিকট আওয়াজ করে এক একটা ট্রেন চলে যাচ্ছে। আজ আমাদের মনে আর হাতির পাল নিয়ে খুব একটা ভয় করলোনা।
এক এক করে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস ট্রেনের পড়ে থাকা স্লিপার রেকগুলির ভেতরে উঠে পড়লাম। প্রথমে সেই একটা রেক যেটা সম্পূর্ণভাবে মাঠের ওপরে উল্টে পড়ে ছিল। বুঝলাম ট্রেন দুর্ঘটনার পর এই রেক থেকে গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে ভেতরে থাকা যাত্রীদের বার করা হয়েছে। ট্রেন উল্টে থাকায় আমাদের বেশ কষ্ট হলো উঠতে। যাইহোক ওটা ঘুরে আরো একটা রেকের ভেতরে গেলাম। ট্রেনের ভেতরে বসার আসনগুলো সম্পূর্ণভাবে এত বছরে ধুলোতে ভর্তি হয়ে গেছে। দেখলাম গতকাল সন্ধ্যায় যেই জিনিসগুলো আমরা যেভাবে দেখে গেছি ঠিক সেইভাবে আছে।
আমরা স ৭ এবং স ৫ রেকগুলির ভেতরে গেলাম, যেখানে গতকাল আমাদের প্রবল সমস্যা হয়েছিল। না, আজ আর কোনো সমস্যা হলো না। এরপর আমরা গেলাম সি ৩ রেকের ভেতরে।
সি ৩  ভাঙা রেকের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছি, হটাৎ কেনো জানি না রোসনের খুব নিঃশ্বাসের কষ্ট আরম্ভ হলো। খানিক বাদে আমারও একই অবস্থা শুরু হলো। মনে হচ্ছে যেনো কেউ আমাদের ধাক্কা মেরে রেকের বাইরে বের করে দিতে চাইছে। কিন্তু জানলা খোলা এবং ভাঙা দরজা খোলা, কে আছে সেখানে যে আমাদের দম বন্ধ করে জোর করে ঠেলে বাইরে পাঠিয়ে দিতে চাইছে? কে সে? আর কেনো আমাদের বাইরে পাঠিয়ে দিতে চাইছে? আমাদের উপস্থিতি কি তার পছন্দ হচ্ছে না? কোনো প্রশ্নের উত্তর নেই। বাইরে মাঠের মধ্যে চলে এলাম আমরা। সঙ্গে আনা জল দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে এবং খেয়ে গতকালের মতন একই পথ দিয়ে সন্ধ্যায় মানিকপাড়ার দিকে যাত্রা শুরু করলাম। আজ আর কষ্ট খুব একটা গায়ে লাগলো না।
আগের দিনের মতন চা বিস্কুট খেয়ে স্বপন বাবুর বাড়িতে প্রবেশ করলাম। এবার স্বপন বাবুর নাতিকে দেখা গেলো। সে আপন মনে উঠানে ঘরের আলোয় একলা খেলছিল। ডিসেম্বর মাসে বেশ ঠাণ্ডা ঝাড়গ্রামে। সবে রাত হয়েছে। আমাদের দেখে কোনো ভ্রুক্ষেপ সে করলো না। স্বপন বাবুর স্ত্রী আমাদের দেখে আমাদের পৌঁছানোর খবর মোবাইল মারফত স্বপন বাবুকে দিলেন, সেটা উনার হ্যালো হ্যালো শুনেই বুঝে গেলাম। স্বপন বাবু যে বাড়িতে নেই, তাও বুঝলাম। হাত মুখ ধুয়ে সোজা চলে গেলাম সেই হোটেলে রাতের খাবার খেতে। আজও অনেকেই খাচ্ছে। ভীড়ের মধ্যে কে একজন আমাদের দেখে বলে উঠলেন, ‘ওই তান্ত্রিকের দল এসেছে।’ যাইহোক খেয়ে দেয়ে বাড়িতে ফিরলাম। স্বপন বাবু খানিক বাদে বাড়ি ফিরে আমাদের ঘরে এলেন। যাবতীয় টাকা পয়সা হিসাব করে উনাকে দেওয়া হলে উনি বেশ উৎফুল্ল হলেন। এবার পরদিন কোলকাতায় ফেরার পালা। কিন্তু, আমাদের কপালে যে দুর্ভোগ ছিলো সেটা কে জানতো? (চলবে)
লেখক: ইউটিউবার



গ্রামের কাগজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


সর্বশেষ সংবাদ
ডেঙ্গুর আক্রমণ, আপাতত শঙ্কামুক্ত যশোর
ডেঙ্গুর আক্রমণ'
প্রতীক পেয়েই প্রচারে প্রার্থীরা
বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা ভালো আছি : বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশে করোনায় মৃত্যু ২জন, শনাক্ত ৮৯
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪ রোগী হাসপাতালে ভর্তি
বন্ধের পথে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ ১৪ জুনের মধ্যেই আঘাত হানতে পারে
লালদীঘির পাড়ে চাঁদার বিনিময়ে ভ্রাম্যমাণ দোকান
১০ বছর চাঁদা দিলে মিলবে আজীবন পেনশন
ধূমপান ছাড়ার কিছু সহজ পদ্ধতি
গাওঘরা সরকারি বড় পুকুর নিয়ে উত্তেজনা, তদন্ত দাবি
দাম কমল এলপিজির
দোকানীকে মারপিট : পুলিশ সদস্যসহ অবরুদ্ধ দু'জন
আমাদের পথচলা | কাগজ পরিবার | প্রতিনিধিদের তথ্য | অন-লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য | স্মৃতির এ্যালবাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন | সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
কপিরাইট © গ্রামের কাগজ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft