
রাজধানীর শাহবাগ থানায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। ঘটনাটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডুজার সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হয়রানি ও হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তার মতে, গত দুই দিনে একাধিক ঘটনায় সাংবাদিকদের হেনস্তা করা হয়েছে, যার সর্বশেষ উদাহরণ শাহবাগ থানার ঘটনা।
তিনি জানান, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকরা থানায় গেলে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাদের ভিডিও ধারণে বাধা দেয়। প্রতিবাদ জানালে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ধাক্কাধাক্কি ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল মব তৈরি করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে থাকাকালে পুলিশের ভূমিকা ছিল নীরব। আমাদের ওপর হামলার পরই পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়।’ তিনি আরও দাবি করেন, পূর্বের ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় এটি সাংবাদিকদের জন্য একটি স্পষ্ট ‘হুমকি’। এই হামলায় সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১০-১২ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়- ১. হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। ২. জড়িত যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। ৩. সারাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সংগঠনের নেতারা জানান, আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে এবং শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মন্তব্য করুন