মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ২০ গ্রাম প্লাবিত, বোরো ধান পানির নিচে

কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ২০ গ্রাম প্লাবিত

টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে পাকা বোরো ধানসহ বিভিন্ন কৃষিজমি। এতে চরম উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

বুধবার (১৩ মে) রাত ১০টা পর্যন্ত হালুয়াঘাট উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে মাজরাকুড়া, কুমারগাতী, আচকীপাড়া, তেলীখালী, কড়ইতলী, মহিষলেটি, গোবরাকুড়া, কালিয়ানিকান্দা, মনিকুড়া, রাংরাপাড়া, বুড়াঘাট, বোয়ালমারা, ডুমনীকুড়া, কাতলমারী, সূর্যপুর, সুমনিয়াপাড়া ও মহাজনীকান্দাসহ আরও কয়েকটি গ্রাম।

অন্যদিকে ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া, গামারীতলা ইউনিয়নের কামালপুর, রায়পুর এবং বাঘবেড় ইউনিয়নের মেকিয়ারকান্দা ও দক্ষিণ ডোমঘাটাসহ কয়েকটি এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এ অঞ্চলে মঙ্গলবার রাত থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে।

অতিরিক্ত পানির চাপে বুধবার সকালে হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া এলাকায় মেনংছড়া নদীর বাঁধ এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় বুড়াঘাট নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আশপাশের নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি প্রবেশ করে।

একই দিন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গামারীতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ গৌরিপুর এলাকায় নেতাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করে।

হালুয়াঘাট উপজেলার বোয়ালমারা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ভারী বৃষ্টির সময় থেকেই তারা শঙ্কায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত নদীর বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে ধান পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ধোবাউড়া উপজেলার কামালপুর গ্রামের কৃষক আসাদ মিয়া বলেন, তিন কাটা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। বাঁধ ভেঙে সেই জমিও পানির নিচে চলে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পানি লোকালয়ের দিকে এগোচ্ছে বলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

দুই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হালুয়াঘাটে সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলাটিতে ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭০ হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। ধোবাউড়ার কয়েকটি গ্রামের ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে দুটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে এবং দুটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। বৃষ্টি না হলে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, গামারীতলা, ঘোষগাঁও ও দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. এনামুল হক জানান, কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও এখনো ব্যাপক ফসলহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে কৃষকের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

X