
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় ধান ও ভুট্টা কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রতি বস্তায় ওজনে ২ থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান ও ভুট্টা নেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কৃষকরা যখন ৮০ মণ (প্রতি বস্তা ৪০ সের) হিসেবে ধান বা ভুট্টা বিক্রি করতে যান, তখন আড়তে ৭৬ থেকে সাড়ে ৭৭ কেজি পর্যন্ত ওজন দেখানো হয়। অথচ স্বাভাবিকভাবে এক বস্তার ওজন ৭৫ কেজি ধরা হলেও ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ১ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত বেশি নিয়ে থাকেন।
কৃষকদের দাবি, কেউ অতিরিক্ত ধান বা ভুট্টা দিতে রাজি না হলে তাদের পণ্য ক্রয় না করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়ে অতিরিক্ত ওজন দিয়েই বিক্রি করছেন।
উপজেলার রাণীগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন হাট, বলাহার বাজার, ডুগডুগিন হাট, ঘোড়াঘাট পৌরসভার হাট, ওসমানপুর হাট, বলগাড়ি হাটসহ এসব হাটে ক্রয়-বিক্রয়ের আড়তে ধান, ভুট্টা ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। ধান ভুট্টা ব্যবসায়ীরা এক বস্তা ভুট্টা ধানে দুই থেকে আড়াই কেজি নিয়ে ক্রয় করতে দেখা ব্যবসায়ীদের।
কৃষকদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ধান ভুট্টা বেশি নিয়ে প্রতিদিন হাজার, হাজার টাকা লুটে নিচ্ছেন ওইসব ধান, ভুট্টা ব্যবসায়ী। অল্প দিনের ব্যবধানে অনেক ধান, ভুট্টা ব্যবসায়ী প্রতারণার মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন।
উপজেলার স্থানীয় কৃষক আতিয়ার রহমান, আব্দুস সালাম জানান, আমি আড়তে ধান বিক্রয় করতে গিয়ে বস্তায় ২ কেজি বেশি দিতে রাজি না হওয়ায় আমার ধান ক্রয় না করে ফেরত দেওয়া হয়। পরে অন্য আড়তে বস্তা প্রতি ১ কেজি ধান বেশি দিয়ে বিক্রয় করতে বাধ্য হয়েছি। উপজেলার কৃষকের ধান ভুট্টা বেশি নেওয়ার একই অভিযোগ করেন। এ ধরনের সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে সাধারণ কৃষকদের অবস্থা আরও খারাপ হবে।
রাণীগঞ্জ ধান ব্যাবসায়ীর নিটক বস্তা প্রতি ১ থেকে ২ কেজি বেশি নেওয়ার কথা বলে তিনি জানান আমাদের কে বস্তার ওজনের বিপরীতে ১ কেজি অতিরিক্ত ধান ভুট্টা নিয়ে থাকি। কৃষকরা প্লাাস্টিকের বস্তায় আড়তে ধান ভুট্টা নিয়ে যায় এসব বস্তার ওজন ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ওজন হয়ে থাকে, এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন-আসলে আমরা কৃষকদের বলে কয়েস্থানীয় কৃষক আতিয়ার রহমান বলেন, মুঠোফোনে সহকারী কমিশনার ( ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওছার শেখ কৃষকদের ন্যায্য মূল্য এবং ওজনে বেশি নেওয়ার বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে সুতরাং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলার কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি কৃষকের সাথে অন্যায় করা হচ্ছে। অতি দ্রুত জনসচেতনতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
মন্তব্য করুন