
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ভয়াবহ ঘটনায় এক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যুকে ঘিরে গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অন্যান্য কারণ রয়েছে কিনা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে থাকা ছয় নবজাতক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দ্রুত নিউনেটাল আইসিইউতে (এনআইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তাদের মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের মহাপরিচালক (হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিং) অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন জানান, ওই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ৬ জন নবজাতক ছিল। শিশুদের বয়স ছিল মাত্র ১–২ দিন। নিয়ম অনুযায়ী সিজারের পর মা ও নবজাতকদের একই ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ডটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় অনেক সময় স্বজনদের অনুরোধে এসি বন্ধ রাখা হয়, যা প্রায়ই ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত ৩টার দিকে দুই নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা তাদের স্থিতিশীল বলে জানান এবং পরে আবার ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।
তবে ভোরের দিকে শিশুদের অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে সবাইকে পুনরায় এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং বাকি চারজনকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হলেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহত শিশুদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, রাতভর ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স ছিলেন না। শিশুদের কান্না, বমি ও শারীরিক অবনতি দীর্ঘ সময় ধরে চললেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এক দাদি অভিযোগ করে বলেন, তার নাতনিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে বলা হলেও পরে জানতে পারেন শিশুটি আর বেঁচে নেই। তার দাবি, পরিস্থিতি সামলাতে না পারলে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া উচিত ছিল।
একজন মা জানান, ওয়ার্ডে থাকা প্রায় সব শিশুই রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সকালে তাদের অবস্থা গুরুতর হয়।
এ ঘটনায় ঢাকার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে এসি সিস্টেমে ত্রুটি হয়ে গ্যাস লিকেজ ঘটে থাকতে পারে।
ডিসি শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলে ক্রাইমসিন ইউনিট কাজ করছে।
সহকারী কমিশনার মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, মধ্যরাতে ছয় শিশুর মৃত্যু ঘটে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর পুরো হাসপাতালজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ। কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তবে এসির গ্যাস লিকেজের বিষয়টি এখনও নিশ্চিতভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেনি, ফলে পুরো ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য ও চরম উদ্বেগ।
মন্তব্য করুন