
বাগেরহাটের মোংলা বন্দর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে একটি নাম ঘিরে বেশ আলোচনা চলছে। তিনি উম্মে রাফিয়া জাহান মিশু—পেশায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার।
পৌরসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনায় উঠে আসছে এই তরুণ প্রকৌশলীর নামও। মাঠপর্যায়ে তাঁর সামাজিক ও নাগরিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্নাতক শেষ করার পর করপোরেট পেশায় না গিয়ে মিশু কারিগরি শিক্ষা খাতে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে নিজ উদ্যোগে কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পেশাগত কাজের বাইরেও সাম্প্রতিক সময়ে মোংলার বিভিন্ন নাগরিক ইস্যুতে সরব দেখা গেছে তাঁকে। বিশেষ করে ‘মোংলা নদীর জন্য নিরাপদ ঘাট’ এবং ‘টেকসই ব্রিজ’ নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তিনি। এ ছাড়া তরুণদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাসামগ্রী বিতরণসহ নানা সামাজিক উদ্যোগেও অংশ নিচ্ছেন।
মোংলা সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, “আমাদের এলাকায় একজন উচ্চশিক্ষিত নারী প্রকৌশলী যখন সরাসরি মাঠে নেমে নাগরিক সমস্যা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে কাজ করেন, তখন তা তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
স্থানীয়রা জানান, মিশু সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সম্প্রতি তাঁকে স্থানীয় চার্চের ফাদার এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় প্রবীণদের দোয়া নেওয়া এবং তরুণদের নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজনও করছেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, তাঁর সামাজিক সক্রিয়তার পেছনে পারিবারিক পরিচয়েরও প্রভাব রয়েছে। মিশু মোংলা বন্দর শিপিং কর্মচারী সংঘের সাবেক সভাপতি ও শ্রমিক নেতা মরহুম এম এ রবের মেয়ে। মোংলা বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে শ্রমিক অধিকার আদায়ে এম এ রবের দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল।
মোংলার প্রবীণ সমাজসেবক আলহাজ আবদুর রহমান বলেন, “একজন শিক্ষিত তরুণী যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন এবং নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন, তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। মোংলার মানুষ এমন শিক্ষিত ও সচেতন মুখই দেখতে চায়।”
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা বা জনআগ্রহ তৈরি হলেও বাস্তব রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন বিষয়। শেষ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যদিও উম্মে রাফিয়া জাহান মিশু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক ঘোষণা দেননি, তবুও নাগরিক অধিকার ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা মোংলার স্থানীয় পরিমণ্ডলে তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
মন্তব্য করুন