
যশোরের কেশবপুর পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী কেশবপুর পাবলিক লাইব্রেরী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অযত্নে পড়ে রয়েছে। আগাছা ও লতাপাতায় ঢেকে যাওয়া ভবনটি এখন যেন তার অতীত গৌরবের স্মৃতি বহন করছে। একসময় পাঠক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর থাকা এই লাইব্রেরীতে এখন আর সেই প্রাণচাঞ্চল্য নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে ব্র্যাকের কমিউনিটি সেফটি প্রকল্পের সহযোগিতায় এবং উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে লাইব্রেরীটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যশোর জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত হয় দৃষ্টিনন্দন একতলা ভবনটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি পাঠকপ্রিয় হয়ে ওঠে। নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা, সাময়িকী ও বই পড়তে প্রতিদিনই এখানে ভিড় করতেন শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও সংস্কৃতিমনা মানুষ।
সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সিনিয়র সাংবাদিক মোতাহার হোসাইন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খলিলুর রহমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। এরপর আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ধীরে ধীরে প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে সীমিতভাবে চললেও ২০১৭ সালের পর লাইব্রেরীটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লাইব্রেরী ভবনের জানালা, দরজা ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ লতাগুল্মে আচ্ছাদিত হয়ে আছে। চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে অযত্ন ও অবহেলার চিহ্ন। মূল ফটকে ঝুলছে তালা, ভেতরে নেই পাঠকদের কোনো উপস্থিতি। পুরো পরিবেশ যেন একটি পরিত্যক্ত ভবনের চিত্র তুলে ধরছে।
স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা বলেন, “একসময় এখানে প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের ভিড় থাকত। এখন ভবনটির অবস্থা দেখে মনে হয় এটি যেন পরিত্যক্ত কোনো ভূতের বাড়ি।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত লাইব্রেরীটি সংস্কার করে নতুন বই সংগ্রহ, পাঠাগার কক্ষ আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত পাঠচক্র ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু করা হোক। তাদের মতে, যথাযথ উদ্যোগ নিলে কেশবপুর পাবলিক লাইব্রেরী আবারও জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন