
সুনামগঞ্জ শহরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কথিত ‘গডমাদার’ কান্তা বেগমসহ তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং একটি তলোয়ারসদৃশ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার রাতে শহরের একটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এসআই জহিরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মহিলা পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তিন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সদর উপজেলার টুকেরঘাট এলাকার হোসেনপুর গ্রামের মৃত তারা মিয়ার মেয়ে কান্তা বেগম (৩৫), হাসননগর এলাকার আব্দুল আজিজের স্ত্রী সুবর্ণা আক্তার আঁখি (২৪) এবং জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের আলহাদ মিয়ার মেয়ে জান্নাত আক্তার (১৯)।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ জানান, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অনলাইন জুয়া ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে এক অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেলসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য অভিযানে কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়।
তিনি বলেন, চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে যুবকদের ফাঁদে ফেলে নির্জন স্থানে নিয়ে যেত। পরে তাদের মারধর করে সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হতো। একই সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বা পরিবারের কাছে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হতো।
ওসি আরও জানান, অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক কারণে বিষয়টি প্রকাশ করেননি বা আইনের আশ্রয় নেননি। তবে সম্প্রতি দুই যুবক সাহস করে পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কান্তা বেগমসহ তিন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও একটি তলোয়ারসদৃশ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে নতুন হাসননগর এলাকার বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি সাজু মিয়া তার হাঁস হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে ওসি রতন শেখ বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন