
বাগেরহাটের মোংলা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) মতো একটি সুরক্ষিত ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় (কেপিআই) প্রবেশদ্বারের নিরাপত্তা এড়াতে শ্রমিকের ছদ্মবেশ ধারণ এবং পরে জালিয়াতি করা পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভেতরে ঢোকার অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জিমলাইট নামের একটি কারখানা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
আটক যুবকের নাম আবুল হাসান (৩৫)। পুলিশ জানায়, তার কাছ থেকে ‘র্যাব সদস্য’ লেখা একটি ভুয়া আইডি কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও ইপিজেড সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে আবুল হাসান সম্ভবত ইপিজেডের সাধারণ শ্রমিকদের শিফটের ভিড়ে মিশে প্রধান ফটকের নিরাপত্তা পার হন। এরপর তিনি ইপিজেডের ভেতরে ‘জিমলাইট’ নামক একটি কারখানায় প্রবেশ করে নিজেকে র্যাবের সদস্য হিসেবে দাবি করেন। তবে কারখানার ভেতরে তার কথাবার্তা এবং গতিবিধি সাধারণ কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তার মতো না হওয়ায় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়।
কর্তৃপক্ষ কৌশলে তার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে ওই যুবক তার কাছে থাকা একটি আইডি কার্ড প্রদর্শন করেন, যাতে ‘র্যাব সদস্য’ লেখা ছিল। কিন্তু কার্ডের মোড়ক ও তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকায় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সেখানে দায়িত্বরত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তাদের জানায়।
খবর পেয়ে এনএসআইয়ের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পেশাদার জেরার মুখে একপর্যায়ে তার ছদ্মবেশ খসে পড়ে। তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নন; মূলত প্রতারণার জন্য এই ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে শ্রমিক সেজে ভেতরে ঢুকেছিলেন। পরে মোংলা থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।
সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মোংলা ইপিজেডে দেশি-বিদেশি বহু প্রতিষ্ঠান ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে। সেখানে একজন বহিরাগত ব্যক্তি শ্রমিকের ছদ্মবেশে কিংবা ভুয়া পরিচয়পত্র নিয়ে অনায়াসে ভেতরে ঢুকে পড়াটা সামগ্রিক প্রবেশদ্বার নজরদারির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তবে এই ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষের সময়োচিত সচেতনতা এবং বিশেষ করে এনএসআই গোয়েন্দাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা করপোরেট অপরাধের চেষ্টা নসাৎ করা সম্ভব হয়েছে।
মোংলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমামুল বলেন, "জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্য ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ওই ভুয়া পরিচয়ধারী ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে,।"
তিনি আরও জানান, ওই যুবক কেবল সাধারণ প্রতারণা নাকি শ্রমিকদের ছদ্মবেশে অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বা গভীর উদ্দেশ্যে ইপিজেডে প্রবেশ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন