
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় গৃহবধূসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবু মুসা বাদী হয়ে সালেহ আহম্মদ গাজীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে প্রভাবশালীদের ভয়ে গত চারদিন ধরে পরিবারটি আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী গ্রামের সিটকাপড় কারিগর ব্যবসায়ী আবু মুসা হাওলাদার জানান, তার মায়ের কবলাকৃত ১৬ শতক জমিতে তিনি প্রায় ৮ বছর ধরে বসতবাড়ি করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার (৩ জুন) দুপুরে গুলিশাখালী গ্রামে সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের প্রতিবেশী সালেহ আহম্মদ গাজীর নেতৃত্বে ৮–১০ জনের একটি দল তার বাড়িতে হামলা চালায় এবং ভাংচুর করে। এ সময় হামলাকারীদের মারধরে ব্যবসায়ীর স্ত্রী সালমা বেগম (৩২), তার শ্যালক আলম খলিফা (৪০) এবং ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম খলিফা (২৫) গুরুতর আহত হন। পরে তাদের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুইজনকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার মোরেলগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছে। ব্যবসায়ী আবু মুসা অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালীরা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে তার জমির অংশ দখল করেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পরিমাপ হলেও সমাধান হয়নি। মামলা করার পরও তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।
তবে অভিযুক্ত সালেহ আহম্মদ গাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত নন। বরং তার পরিবারের ওপর বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে এবং তাদের চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী আবু মুসা ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, যার নম্বর ১০ (তারিখ ৪.৬.২০২৬)। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
মন্তব্য করুন