
বিদেশে লোক পাঠানোর নামে “ট্রাস্ট এন্ড ট্যুর ট্রাভেলস” ও “গ্লোবাল ভিশন” নামের দুটি এজেন্সির মাধ্যমে ভুয়া ভিসা ও বিমান টিকিট দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এজেন্সির মালিক আপন দুই ভাই আরাফাত হোসেন অপু ও মনিরুল ইসলাম দিপুর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, ঢাকার বনানীতে ট্রাস্ট এন্ড ট্যুর ট্রাভেলস এবং যশোরে গ্লোবাল ভিশন নামে অফিস খুলে দীর্ঘদিন ধরে তারা বিদেশে লোক পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। একই জেলার বাসিন্দা হওয়ায় ঝিকরগাছার মেহেদী টুর এন্ড ট্রাভেলসের মালিক মেহেদী হাসানের সঙ্গে তাদের পরিচয় ও পরে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সার্বিয়ায় লোক পাঠানোর উদ্দেশ্যে ৩৪টি পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয় এবং ট্রেনিং, ওয়ার্ক পারমিট, অনলাইন সাবমিশন, এপ্রুভাল কপি, ম্যানপাওয়ার প্রসেসিং, ভিসা ও বিমান টিকিটসহ বিভিন্ন খরচ বাবদ প্রায় এক কোটি টাকা প্রদান করা হয়। এ টাকা দিপুর গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজ ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার হিসাব এবং অপুর ডাচ-বাংলা ব্যাংক যশোর শাখার অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে ৩৪টি পাসপোর্টের মধ্যে মাত্র ৭ জনের সার্বিয়া ভিসা ও ৪টি বিমান টিকিট প্রদান করা হয়। তবে এসব ভিসা ও টিকিট যাচাই করে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, এগুলো ভুয়া ও জাল।
ভুক্তভোগী কেশবপুরের বরণডালি গ্রামের আমিরুল ইসলাম এবং ঝিকরগাছার মেহেদী টুর এন্ড ট্রাভেলসের মালিক মেহেদী হাসান জানান, সন্দেহ হওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট মাধ্যমে যাচাই করে নিশ্চিত হন যে ভিসা ও টিকিটগুলো জাল। এরপর ঢাকার বনানী ও যশোরের অফিসে গিয়ে তারা বন্ধ অবস্থায় পান এবং মালিকদের আর পাওয়া যায়নি।
তারা আরও জানান, শুধু তাদেরই নয়, “গ্লোবাল ভিশন” নামের ভুয়া এজেন্সির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার বহু মানুষকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এতে অসংখ্য যুবক সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন