
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইমান আলী বলেছেন, বাংলাদেশের আদালতে এখন ৫০ লাখ মামলার জট। ৫০ হাজার বিচারক নিয়োগ দিয়েও এই জট ছাড়ানো সম্ভব না। তাই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলা কমাতে হবে। এজন্য আইনজীবী ও বিচারকদের ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) আয়োজনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রোববার বিকালে যশোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইমান আলী আরো বলেন, ‘একটি মামলার সাথে ৫টি মামলা হয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আইনজীবীদের অনেকে মামলার দীর্ঘসূত্রতা জিইয়ে রাখতে চান। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হোক তারা তা চান না। কিন্তু সমাজের প্রতি তাদের একটি দায়িত্ব আছে। বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তির মাধ্যমে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে।’
বিকল্প উপায়ে কিভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়-আইনজীবীদের কাছে জানতে চাইলে যশোর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী ফরিদুল ইসলাম বলেন, দিন বদলেছে। এখন আইনজীবীরা আগের মত নেই। এখন অধিকাংশ আইনজীবী বিরোধী নিষ্পত্তির পক্ষে। কারণ আমাদের পুঁজি হচ্ছে গুড উইল (সুনাম)। যারা মামলা জিইয়ে রাখতে চান সেই আইনজীবীর সংখ্যা খুবই কম। আমরা যারা সিনিয়র আইনজীবী আছি আমরা উভয় পক্ষের উকিলদের সাথে আলোচনা করে বিরোধ নিস্পত্তির জন্য বলে থাকি। তিনি বলেন, মামলার বাদী এবং আসামি উভয়ই বিচারকের কথা মানেন। এই ক্ষেত্রে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিচারকের ভ‚মিকা রাখা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিচারক যদি উভয় পক্ষের আইনজীবীদের নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেন। তাহলে আপস মীমাংসা হয়ে যাবে। এতে আইনজীবীদের সুনাম বাড়বে। সমাজে শান্তি ফিরে আসবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মোমেন। মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন। বক্তব্য দেন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ, যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইসহক, দেবাশীষ দাস, সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্লাস্টের কর্মকর্তা আইনজীবী মোস্তফা হুমায়ূন কবির।
মন্তব্য করুন