শিরোনাম: মানুষকে খাঁটি গুড়-পাটালির গুণাগুণ সম্পর্কে বুঝাতে হবে: ডিসি যশোর       পাল্টাপাল্টি মামলায় নৌকার ১৯ ও আনারসের ৩৭ কর্মী আসামি       কার্ড সর্বস্ব সাংবাদিকতা বর্জন করতে হবে: জাফর ওয়াজেদ       পরিবহন শ্রমিক নেতা ফুলু করোনায় আক্রান্ত        ডিসেম্বরেই ‘রূপসা নদীর বাঁকে’ প্রদর্শনী শুরু       বাঘারপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইলেকট্রনিক মিস্ত্রীর মৃত্যু       নতুন দল নিয়ে আসছেন রজনীকান্ত!       এমপি নাবিলের পক্ষে হুইল চেয়ার বিতরণ       বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে যুবলীগের বিক্ষোভ       মাদারীপুরে মাদক মামলার ব্যতিক্রমী রায়       
নমুনা সংগ্রহ করেই লকডাউন করুন
নাজমুল হক
Published : Monday, 18 May, 2020 at 12:21 PM
নমুনা সংগ্রহ করেই লকডাউন করুনশরীরে কোনো উপসর্গ ছাড়াই বিশ্বে করোনাভাইরাসে অনেকেই সংক্রমিত হয়েছেন। পরীক্ষা করার পরই কেবল ধরা পড়েছে। করোনাভাইরাসের সামান্য উপসর্গে জ্বর ছাড়া আর কিছু থাকেনা এবং অধিকাংশ সময়েই আর সব ঠিক থাকলে জ্বর কেউ মাপেনওনা। তথ্য গোপন করার প্রবণতা আমাদের দেশে অহরহ হচ্ছে। সরকার বার বার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেও মানুষকে বাড়ি রাখতে পারছেনা। দেশে এই মুহূর্তে করোনা সংক্রমণের সব পথই খোলা। স্বাস্থ্য বিভাগের নেয়া অনেক সিদ্ধান্তই অবৈজ্ঞানিক। এতে নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে রোগটির সংক্রমণ বাড়ছে। মে মাসটা দেশে করোনার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ মাসে সংক্রমণের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা না গেলে, রোগটির প্রকোপ কমাতে অনেক বেশি সময় লাগবে। মার্কেটগুলো খুলে দেয়ায় কিছু অবিবেচক মানুষও হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এমনকি বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে একসময় দেশে করোনা ঘনীভূত মহামারীর দিকে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এক সময় আর কোনো কিছুতেই রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবেনা। তখন হার্ড ইমিউনিটি (অর্থাৎ রোগীর শরীরে সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা) হবে এক মাত্র উপায়।
ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নরসিংদী আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে। করোনা প্রতিরোধে জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোও নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কিন্তু কিছুই যেন কাজে আসছে না। বেশি আক্রান্ত জেলার মানুষ কম আক্রান্ত জেলায় যাতে নাআসতে পারে সেজন্যই বিভিন্ন জেলার প্রবেশ পথে চেক পোস্ট বসানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তারপরও বিভিন্ন অযুহাতে কর্মস্থল করোনার হট স্পট ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম থেকে মানুষ ফিরছে নিজ জেলায়। ঈদ আসন্ন হওয়ায় অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত জেলার মানুষ আরো বেশি আতঙ্কগ্রস্থ হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আরো কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ঈদে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব হবে। না হলে খুশির ঈদ বেদনার হতে পারে।
ঈদকে সামনের রেখে আক্রান্ত জেলা ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে আসার চেস্টা করবে এবং এটিই স্বাভাবিক। মানুষের ঢল কমাতে দেশ থেকে সম্পূর্ণভাবে ঈদ যাত্রা নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রচার প্রচারণা বাড়াতে হবে ও রাস্তায় কঠোর নজরদারি করতে হবে। কোন ক্রমেই মানুষকে গ্রামে ফিরতে দেয়া যাবেনা। ঈদের সপ্তাহে এ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোন গাড়ি কম আক্রান্ত জেলায় কোন ক্রমেই প্রবেশ করতে দেয়া যাবেনা। আইন অমান্য করলে গাড়ির মালিকসহ সংশ্লিস্টদের গ্রেপ্তার করে রুটপারমিট চিরতরে বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে পদ্মা নদীর ফেরী, লঞ্চসহ সকল জনযান বন্ধ করতে হবে।
চলমান লকডাউনে দেশের মানুষ করোনার স্বাস্থ্য বিধি মানছেনা। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের রাজনীতি করেন; তাই তাদেরও তোয়াক্কা করছেনা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষগুলো। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাজে লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার, পুলিশ, আনসারকে আরো বেশি ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।
কিছ ুমানুষ সব কিছু ফাঁকি দিয়ে গ্রামে যাবেই। স্থানীয় ইউপি মেম্বর, চেয়ারম্যান, স্কুলের শিক্ষকসহ মসজিদের ইমামদের আগামন ঠেকাতে কঠোর নির্দেশনা দিতে হবে। কেউ বাহিরের জেলা বা উপজেলা থেকে আসলেই যেন প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক বিষয়টি অবহিত করে। উপজেলা পর্যায়ে ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিন্টইনে নিশ্চিত করতে হবে। কোন ক্রমেই তাদের বাহিরে বের হতে দেয়া যাবেনা। যারা মানবেনা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মসজিদে আযানের পূর্বে এবং পরে ঐ মহল্লায় বাহিরের জেলা থেকে আগন্তুকদের না আসার বিষয়ে বারবার সচেতনতামূলকসহ কঠোর আইন প্রয়োগের ঘোষণা দিতে হবে।
করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে, গতি এসেছে। কোন ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হলে তার রিপোর্ট আসছে সংগ্রহের ২/১ দিন পরে। পজেটিভ হলে আক্রান্ত ব্যক্তি উক্ত ২/১ দিনের বিভিন্ন ব্যক্তির সংস্পর্শে যাচ্ছে। ফলে তারাও আক্রান্ত হচ্ছে। কিছু উপসর্গ বা সন্দেহ থাকায় যেহেতু নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে সেহেতু সংগ্রহের পরেই তার বাড়ি লগডাউন করতে হবে। আর আক্রান্ত না হলে পরদিনই লকডাউন তুলে নিতে হবে।

লেখক: নাজমুল হক, প্রাক্তন খুলনা বিভাগীয় সিনিয়র রোভার মেট প্রতিনিধি, উত্তর কাটিয়া, সাতক্ষীরা ০১৭৭২-৮৭৬৭৪৪




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft