শিরোনাম: ইয়াবা চালানসহ আটক মনোহরপুরের রোহানকে ঘিরে আরও তথ্য       দেশসেরা উদ্যোক্তা হলেন আরিফ       খুলনা বিভাগের ২৭ প্রত্নতত্ত্বের তথ্য যাচ্ছে ইউনেস্কে       এবার ভারত থেকে ফিরতেও করোনা নেগেটিভ সনদ লাগবে বাংলাদেশিদের        ম্যারাডোনার মৃত্যুতে শোকাহত বিশ্ব       যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি শুরু       মদপানে কালীগঞ্জের এক দুধ বিক্রেতার মৃত্যু        যশোরে রিকশাচালককে ছুরিকাঘাত       সকল সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে : এমপি নাবিল       ফতেপুরের বটতলা রাস্তার উদ্বোধন করলেন এমপি নাবিল       
মণিরামপুরে ৫ কোটি টাকার কাজে হরিলুট
কাজ শুরুর আগেই অর্থ উত্তোলনের আবেদন!
জাহাঙ্গীর আলম, মণিরামপুর (যশোর)
Published : Tuesday, 1 September, 2020 at 3:03 AM, Update: 01.09.2020 3:17:34 AM
কাজ শুরুর আগেই অর্থ উত্তোলনের আবেদন!মণিরামপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামত ও সংস্কারে বরাদ্দ দেওয়া প্রায় পাঁচ কোটি টাকার অধিকাংশ লুটপাট চলছে। বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে মেরামত ও সংস্কারে নামে চলছে রং বদল। এর বাইরে অন্যান্য ঘাপলাবাজিতো রয়েছেই। বরাদ্দ পাওয়া অস্থায়ী গৃহনির্মাণ, স্লিপ, প্রাক প্রাথমিক, রুটিন সংস্কার, ওয়াশব্লকের কাজ নিয়েও একই অবস্থা। এভাবেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস, প্রকৌশল অফিস ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ বরাদ্দকৃত টাকার ভাগবাটোয়ারার কাজ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। তারা ভুয়া বিল ভাউচার দাখিলের মাধ্যমে ইতিমধ্যে টাকা উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে।
চলতি অর্থ বছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী গৃহনির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার, স্লিপ (বিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা), প্রাকপ্রাথমিক, রুটিন সংস্কার, ওয়াশব্লকের কাজে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৩১ আগস্ট এ কাজ সম্পন্নের শেষ সময় ছিল। অবশ্য, এখনো অনেক বিদ্যালয়ে কাজ শুরুই হয়নি। অথচ ভুয়া বিল ভাউচার জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে বিল উত্তোলনের আবেদন করেছে অনেক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানায়, চলতি অর্থ বছরে (২০১৯-২০) উপজেলার দুইশ’ ৬৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্লিপ বাবদ ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট এক কোটি ২৭ লাখ ৮৬ হাজার নয়শ’ ২৫ টাকা, অস্থায়ী গৃহ নির্মাণে শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন লাখ, মেরামত ও সংস্কারে ৫৯ টি বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে দুই লাখ টাকা করে এক কোটি ১৮ লাখ, ক্ষুদ্র মেরামত ও সংস্কারে ১৭টি বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে এক লাখ ৫০ হাজার করে ২৫ লাখ ৫০ হাজার, আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে এক লাখ করে ছয় লাখ, এনবিপিএ (নিড বেজড প্লেয়িং এক্সেসোরিস) কাজের ছয়টি বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে এক লাখ ৫০ হাজার করে নয় লাখ, রুটিন সংস্কারে দুইশ’ দুইটি বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ৪০ হাজার করে ৮০ লাখ ৮০ হাজার, প্রাকপ্রাথমিকে দুইশ’ ৬৭ টি বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ১০ হাজার করে ২৬ লাখ ৭০ হাজার, ওয়াশব্লকের ২৩ টি বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ২০ হাজার করে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়।
বছরের শুরুতে বরাদ্দ দেওয়া হলেও করোনা পরিস্থিতিতে কাজ করতে দেরি হয়। এ কারণে সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কাজ করার সময় সীমা নির্ধারণ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারপরও অনেক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেনি। অথচ কাজ সম্পন্নের অনেক আগেই ভুয়া ভাউচার জমা দিয়ে বিল উত্তোলনে সংশ্লিষ্ট অফিসে আবেদন করা হয়েছে। কোনো কাজই অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সম্পন্ন হয়নি। মেরামত ও সংস্কারের কাজে নয়ছয় করে অর্থ লোপাটের মহাআয়োজন করা হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার আটঘরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায় মুক্তার আলী নামে একজন রঙের কাজ করছেন। তিনি জানান, রঙ করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার সাথে ১৭ হাজার পাঁচশ’ টাকায় চুক্তি করেছেন। কত টাকার রঙ লাগতে পারে জানতে চাইলে মুক্তার আলী জানান, ৩৩ হাজার চারশ’ টাকা খরচ হবে। এসময় তিনি জানান, ফজলুর রহমান নামে একজন রাজমিস্ত্রি বিদ্যালয় ভবনের কিছু জায়গায় পলেস্তারার কাজ করেছেন। পরে পাশের গ্রামে মসজিদে কাজ করতে থাকা ফজলুর রহমানের কাছে গেলে তিনি জানান, প্রতিদিন ১২শ’ টাকা হাজিরায় ১১ দিন কাজ করেছেন। এ কাজে ১৬ ব্যাগ সিমেন্ট ও দুই ট্রলি বালি লেগেছে। এ হিসেবে মেরামত ও সংস্কারে বিদ্যালয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অফিসে বিল উত্তোলনের জন্যে আবেদন করা ভাউচারে শুধু শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ৬৪ হাজার তিনশ’৫০ টাকা, বালি,সিমেন্ট, চিপ খোয়া, খোয়া ও সিমেন্ট (৬০ ব্যাগ) বাবদ ৬৩ হাজার ছয়শ’ টাকা, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল, আলমারি মেরামত বাবদ ১৫ হাজার তিনশ’ টাকা, রঙ বাবদ ৫৪ হাজার সাতশ’ ৫০ টাকা দেখানো হয়েছে। এ বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ কাজই করা হয়নি। এমন ভাউচারের কথা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক তাপস চন্দ্র রায় বলেন, অফিসের পরামর্শে বিল ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে। কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও চলছিল রঙের কাজ। রঙমিস্ত্রি আকাশ বলেন, তিনি আট হাজার টাকার চুক্তিতে কাজ করছেন। এতে সাড়ে ১০ হাজার টাকার রঙ লেগেছে। আর কিছু পলেস্তারার কাজ হয়েছে। বাকি টাকার কথা বলতেই প্রধান শিক্ষক মাসুদ পারভেজ জানান, কোনো টাকায় থাকবে না।
ত্রিপুরাপুর বিদ্যালয়ে প্রায় ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলা ভবনের কাজ শেষের পথে। একই স্কুলে মেরামত ও সংস্কারের জন্যে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।  অবশ্য মেরামত ও সংস্কার করা হয়েছে পাশের ভবনে। অথচ এটি ৬১ লাখ ব্যয়ে নির্মাণ কাজ শেষের পথে। সেখানে ফের দুই লাখ টাকার কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
বাগডোব-নওয়াপাড়া বিদ্যালয়ে কোনো কাজই হয়নি। জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন বলেন, ভবনের অবস্থা ভালো না হওয়ায় কোনো রাজমিস্ত্রি কাজ করতে চাননি। এমন ভবন সংস্কারে কেন বরাদ্দ দেওয়া হলো জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, যদি না লাগে তাহলে সরকারি অর্থ অপচয় করা হবে না। কীভাবে বিল উত্তোলনে ভাউচার জমা দেওয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন বলেন, অফিসের নির্দেশে করা হয়েছে। একইভাবে সৈয়দ মাহমুদপুর, পলাশি রাজবাড়ি, রাজবাড়িয়া, এড়েন্দা, স্মরণপুরসহ অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পুরানো রঙের ( যা ভাল ছিলো) ওপর নতুন করে রঙ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সোহেলী ফেরদৌস বলেন, বিদ্যালয়ের কাজ সম্পন্ন না হলে বিলের জন্যে আবেদন করার কথা না। যারা একাজ করেছে, তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, কাজ ঠিক মতো হয়েছে কিনা, না দেখে কারও বিল দেওয়া হবে না।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft