শিরোনাম: অস্কারে বাংলাদেশের ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’       দশক সেরা তালিকায় নেই বাংলাদেশি কোন ক্রিকেটার       রাবির উপাচার্য’র বিরুদ্ধে আবারো নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ       তিন কোচিং সেন্টার সিলগালা       শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনের অভিযোগ বোর্ডের চেয়ারমনের বিরুদ্ধে        সুদূরপ্রসারি সব পরিকল্পনা করে দিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী       জিএম কাদের কম্বল বিতরণ উদ্বোধন করবেন শনিবার       শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলো নেশাগ্রস্থ পিতা       প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে যশোরে কর্মশালা অনুষ্ঠিত        বাংলাদেশে আসা হলো না ম্যারাডোনার      
আলামান্টুর কলাম
খানসেনা না করোনা - কোনটা শক্তিশালী?
Published : Monday, 5 October, 2020 at 10:03 PM, Update: 06.10.2020 10:12:45 PM
খানসেনা না করোনা - কোনটা শক্তিশালী?সেদিন ছিলো খানসেনা, আজ করোনা ভাইরাস - কোনটা শক্তিশালী? আমার কাছে ভাইরাস রোগের বিষয়টি বড়ই দূর্বোধ্য। কেন দূর্বোধ্য? এ জন্যই যে রোগটি সামান্য - সর্দি কাশি, হালকা জ্বর হতে উদ্ভূত। তাতেই জটিলতা - তাতেই মৃত্যু - শত শত, হাজার হাজার নয়, লাখ লাখ। এটা যদিও কতকটা একাত্তর স্টাইলে, সেদিন যা ছিলো পাক-ভারত-বাংলার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু আজ সমগ্র বিশ্ব - সমগ্র পৃথিবী ব্যাপী। সেদিন সাড়ে সাতকোটি বাঙালির কপালে চরম দূর্যোগ - দূর্ভোগ নেমে এসেছিলো। আজ সমগ্র বিশ্ববাসীর কপালে নেমে এসেছে দূর্ভোগ - বিড়ম্বনা, কোথাও বেশি কোথাও কম। একাত্তরে সেদিন রাইফেল - এলএমজি হতে বুলেট বেরিয়ে আসতো ট্রিগার টিপলে। মুহূর্তে দেহ এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিতো। আজ তাও লাগে না। আজ ছোঁয়া লাগলে - বাতাস বা নিঃশ্বাস লাগলেই মৃত্যু। তাহলে কোনটা শক্তিশালী  - খানসেনা, না করোনা ভাইরাস?
আমার আজকের বিশ্বাস, সেদিন একাত্তরে যদি করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে থাকতো, তবে অবশ্যই খানসেনা মাঠে নামতো না, মাঠে থাকতো না। খানসেনা গৃহবন্ধী থাকতো। থাকতো হোম কোয়ারেন্টিনে। হোম কোয়ারেন্টিনের প্রাদূর্ভাব ঘটে যেতো। নানা সংবাদ মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, আজ এ অঞ্চলে - এ প্রদেশে - এ দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে তো, কাল ও অঞ্চলে, ও প্রদেশে, ও দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। পরশু পড়েছে আরেক অঞ্চলে, আরেক প্রদেশে, আরেক দেশে। সেদিন ৯ মাসে মরেছিলো ৩০ লাখ, আজ মাত্র ৩ মাসের অধিক সময়ে ১০ লাখের অধিক ছাড়িয়ে গেছে, অথচ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কম নেই। আর জনগণের মধ্যে ভীতি - ত্রাস এড়াবার লক্ষে এই দূর্যোগ সংবাদটা সেইভাবে যথাযথ দেয়া হচ্ছে না। মনে করি, দেয়া হলে এর সংখ্যা সীমা - সীমানা নির্ণয় সঠিক অর্থে করা যেতো না বলে বিশ্বাস।
১৯৭০ সালে সেদিন ছিলো বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা, আর রাজনৈতিক জোটের ১১ দফার বিজয়ের সাল। আজ ২০২০ সাল বঙ্গবন্ধুর শততম বার্ষিকীর বছর। '৭০ সালে ৬ দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পেয়েছিলো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদীয় আসন। কিন্তু ইয়াহিয়া-ভূট্টো চক্র চক্রান্তমূলকভাবে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে না দেওয়ায় দেশে স্বশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ নেমে আসলো। সাড়ে সাতকোটি বাঙালির কপালে নেমে আসলো চরম দূর্ভোগ। কিন্তু দূর্ভোগের পরোয়া না করে শান্তিপ্রিয় নিরীহ বাঙালি হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে স্বশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ বাঙালির তাজা রক্ত ও জীবন এবং অফুরন্ত ধ্বংসযজ্ঞ- ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেলো। সেদিন নিরীহ বাঙালি সর্বদা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকতো খান সেনার ভয়ে, ৫০ বছর পর আজ ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে করোনা ভাইরাসের ভয়ে। সেদিন শত্রু ছিলো স্বশস্ত্র খানসেনা - রাজাকার - আলবদর - আলশামস - উর্দুভাষী বিহারী। এখন স্বশস্ত্র নয় বিষাক্ত - বিষবাষ্পের করোনা ভাইরাস।
আজ মানুষের চিন্তার বিষয় সেদিনের খানসেনা শক্তিশালী,  না আজকের বিষবাষ্প করোনা ভাইরাস শক্তিশালী? সেদিন একমাত্র ভীত ছিলো বাঙালি, তা স্বশস্ত্র খানসেনার। আজ করোনা ভাইরাসে ভীত কেবল বাঙালি নয়, ভীত-সন্ত্রস্ত গোটা বিশ্ব-সমগ্র বিশ্বব্যাপি। আজ এতো মারনাস্ত্র বিশ্বে তৈরি হলো,- হয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাস বিধ্বংসী কোন মারনাস্ত্র (ঔষধ) আজও সঠিক অর্থে বিশ্বে তৈরী হলো না। কিন্তু কেন? বিশ্বে বিজ্ঞান কি এখনো পিছিয়ে? ভিটামিন ঈ কিম্বা ঈারঃ হলো মারনাস্ত্র। আর রোদ্র হলো ভিটামিন উ। আপাতত এটুকু দিয়েও কি তাদের প্রতিরোধ কিম্বা ঘায়েল করা গেলো না? এ প্রতিরোধে শুধু বাংলাদেশ নয় - সমগ্র বিশ্ব। তাহলে কী এ প্রশ্ন অমিমাংশিত থাকবে - খানসেনা শক্তিশালী না বিশ্বগ্রাসী করোনা ভাইরাস শক্তিশালী?  সেদিন খানসেনা পরাজিত হয়েছিলো - আজ করোনা পরাজিত হবে না? সেদিন তো কেবল যুদ্ধে নেমেছিলো বাঙালি। আজ তো যুদ্ধে নেমেছে গোটা বিশ্ব - বিশ্ববাসী।
লেখক: কলামিস্ট





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft