শিরোনাম: ভবিষ্যত চিন্তা করেই শিশু সন্তানকে হত্যা!       বাবার স্বীকারোক্তিতে উদ্ধার হলো নবজাতকের লাশ       করোনার মধ্যেই ডেঙ্গুর হানা       জিনুসির দাম বাড়চে, কমচে মানসির দাম !       ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড       নড়াইলের ইজিবাইকচালক রোহান হত্যার রহস্য উন্মোচন, তিন খুনি আটক       দু’প্রার্থীর দিনভর গণসংযোগ       ফ্যাক্টর হতে পারেন নতুন ভোটাররা        সুনাম কুড়িয়েছে ‘বৃষ্টির রান্নাঘর’       ২৫ বছর পর রাস্তা পেল ঘুরুলিয়ার ১০ পরিবার      
শীতে করোনার ফিরে দেখা
মাহমুদা রিনি
Published : Saturday, 17 October, 2020 at 11:59 PM
শীতে করোনার ফিরে দেখা বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস এর পদার্পণ, বিচরণ শুরু তাও প্রায় আটমাস পেরিয়ে যাচ্ছে। আমরা এই অনাহুত অতিথির সাথে ঘরে, সংসারে, পথ- ঘাট রাস্তায়- ফুটপাতে , নামে-বেনামে হাত ধরাধরি, গলাগলি, কোলাকুলি সবই করে ফেলেছি। কখনো সেই মনস্তাত্তি¡ক প্রতিযোগিতায় আমাদের হার হয়েছে আবার কখনো আমরা বীরদর্পে তাকে হার মানিয়েছি। মাঝখানে মনে হচ্ছিল আমরা যেন জিতে যাচ্ছি বা জয় আমাদের অনিবার্য। কিন্তু বিধাতা তার খেলা এখনো শেষ করেননি, লাটাই এর সুতো হাতের মুঠোয় ধরে একটু করে ছাড়ছেন আবার টেনে ধরছেন। এই করোনা ভাইরাস নিয়ে সারা পৃথিবী তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। মৃতের সংখ্যা দশ লক্ষ ছাড়িয়েছে। আমাদের দেশেই পাঁচ হাজারের অধিক মানুষ মৃত্যু বরণ করেছে। রাজধানী ঢাকা শহরেই নাকি ৪৫ শতাংশ মানুষ করোনা পজিটিভ। প্রতি দিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাও ভীতিকর। তবুও যেটা হয়েছে সেই ভীতির প্রভাব কাটিয়ে উঠে মানুষ কাজে কর্মে মননিবেশ করেছে, কিন্তু বিপদের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হয়নি। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, মৃত্যু হচ্ছে তারপরও আমাদের সচেতনতা তলানিতে এসে ঠেকেছে। আরো একটা ব্যাপার হলো করোনা নিয়ে মানুষের ভিতরে মতভেদ। মানুষের মতপার্থক্য থাকবেই, থাকতেই পারে তাই বলে করোনার মত প্রাণঘাতী বিষয় নিয়েও মতভেদ, ঠাট্টা, তামাশা এবং নানা রকম ধর্মীয় গোঁড়ামির সাথে কিভাবে মেলানো যায় ভেবে অবাক হতে হয়। বিপদে পরিবারকেও একাট্টা হতে হয়। দেশের বিপদে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হয়। অথচ দেখা যায় করোনা আক্রান্তের শুরু থেকেই এত বড় ক্রান্তিকালও আমাদের নানা মুনির নানা মতে পরিণত হলো। যখন আমাদের সামনে দৃষ্টান্ত ইউরোপ, আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশের মৃত্যুর ভয়াবহতা। আমাদের দেশেও অসংখ্য শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি, ডাক্তার সহ সাধারণ মানুষ সকরুণ ভাবে বিদায় নিলেন বা নিচ্ছেন তারপরও আমরা সবাই একমত হতে পারিনি। আমরা প্রথম থেকেই শুনে আসছি আমাদের সরকারের একমত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেক মত তো গণস্বাস্থ্যের ভিন্নমত। আবার বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা করোনাকে থোড়াই কেয়ার করে সারা দেশে তাদের বাণী ছড়িয়ে দিলেন। তার ইফেক্ট পড়লো ধর্মপ্রাণ অতি সাধারণ মানুষের উপর। তারা সচেতনতার বিষয়টি পাত্তাই দেয় না। বরং প্রচার করে "করোনার মালিককে ভয় করো, করোনাকে নয়, অজু করলেই করোনা সাফ" আরো ইত্যাদি ইত্যাদি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে তো ঘটি বাটি বাজিয়ে, দিয়া জ্বালিয়েই করোনা বিদায় করে ফেললো। সাথে আরো যা যা-- করলো তা আর না বললাম। অবশ্য এখন সর্বোচ্চ আক্রান্তের তালিকার প্রায় শীর্ষে ভারত। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ নিম্নবিত্তের মানুষ কর্মহীন, তার উপর বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া। স্মরণ কালের সেরা আগুন জ্বলছে কাঁচা বাজারে। পেঁয়াজ, মরিচ, তেল, আলু ও সাধারণ শাকসবজি সহ যেগুলো প্রতিদিনের অপরিহার্য দ্রব্য তা মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এ বছর অতি বৃষ্টিতে ধানের খড়- বিচুলি নষ্ট হওয়ায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট তীব্র পর্যায়ে পৌঁছেছে। গ্রামাঞ্চলে সব্জি ক্ষেত গুলো অধিকাংশই পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ নিজেদের খাবারই জোগাড় করতে পারছে না সেখানে গবাদিপশু পালন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোট কথা সাধারণ মানুষের সংসার কার্য পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময়ের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির চাপে শহরতলি বা গ্রাম গঞ্জের মানুষ করোনার ভয় উপেক্ষা করে যখন স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করেছে ঠিক তখনই আবার ধারণা করা হচ্ছে করোনা ভাইরাস আগামী শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে ভয়ঙ্কর রূপে ঝাপিয়ে পড়তে পারে। ভয়ের ব্যাপার হলো যখন পুরো দেশ লকডাউন এর আওতায় ছিল তখনই মানুষকে ঘরে রাখতে সরকারকে হিমসিম খেতে হয়েছে। তারপর যখন ছাড়া পেল একবারে যেন সবাই রাস্তায় এসে পড়লো। যেহেতু অনেক দিন গৃহে আটকা ছিল তাই এখন ছাড়া পেয়ে (হয়তো প্রয়োজনেই) আরো ড্যাম কেয়ার ভঙ্গিতে মাস্ক বা কোন প্রকার প্রোটেকশন ছাড়াই ভীড়ের মধ্যে চলে ফিরে বেড়াচ্ছে। রিকশাওয়ালা থেকে গাড়িওয়ালা, আমজনতা থেকে বিশেষ ব্যক্তিত্ব সবাই যেন ভুলেই গেছে দেশে করোনার প্রকোপ এখনো কমেনি। প্রয়োজনে অবশ্যই বেরোতে হবে কিন্তু সঠিক প্রোটেকশন থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কেউ খেয়াল করছে না বা ভাবছে না সে নিজে নাহয় সুস্থ আছে কিন্তু সে বহন করে জীবাণুটি তার বাড়ি নিয়ে যেতে পারে। সেখানে দুর্বল বা বৃদ্ধ, অসুস্থ কেউ থাকতে পারে। হয়তো আগামী দিনে মানুষকে আর ঘরে আটকে রাখা যাবে না কিন্তু কিছু সচেতনতা আমাদের অবশ্যই মানতে হবে। অন্তত আমরা সঠিক নিয়মে মাস্কটা পরতে পারি। সঠিক নিয়মে হাত ধুতে পারি, ভীড় এড়িয়ে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলতে পারি। আমাদের নিজেদের স্বার্থে, পরিবারের স্বার্থে, দেশ এবং মানুষকে রক্ষার স্বার্থে আমরা সবাই যেন সচেতন হই। আসন্ন শীতে আমরা করোনার প্রকোপ থেকে নিরাপদ থাকি, নিরাপদ রাখি।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft