শিরোনাম: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনের অভিযোগ বোর্ডের চেয়ারমনের বিরুদ্ধে        সুদূরপ্রসারি সব পরিকল্পনা করে দিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী       জিএম কাদের কম্বল বিতরণ উদ্বোধন করবেন শনিবার       শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলো নেশাগ্রস্থ পিতা       প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে যশোরে কর্মশালা অনুষ্ঠিত        বাংলাদেশে আসা হলো না ম্যারাডোনার       খুলনাকে হারিয়ে রাজশাহীর দুইয়ে দুই       জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ-ডেনমার্ক একসঙ্গে কাজ করবে       তিতুমীরের সেই শম্পা মারা গেছেন       করোনা: চট্টগ্রামে নতুন আক্রান্ত ২২৩ জন      
লালন সাঁইজির তিরোধান দিবসে
সুকুমার দাস
Published : Monday, 19 October, 2020 at 8:55 PM
লালন সাঁইজির তিরোধান দিবসেএই পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ জন্ম নিয়েছেন আবার দেহত্যাগও করেছেন। অধিকাংশ মানুষের জন্ম এবং মৃত্যু আলাদা আলাদা দিনে হয় সাধারণত,সামান্য কিছু মানুষের জন্ম এবং মৃত্যু একই দিনে, তার মধ্যে অন্যতম আমাদের বাউল সম্রাট লালন সাঁইজি।  
১৭ অক্টোবর (১৭৭৪-১৮৯০)।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তিনি। একাধারে আধ্যাত্মিক, বাউল সাধক, মানবতাবাদী,সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক। তিনি অসংখ্য গানের রচয়িতা, সুরকার ও গায়ক। লালন ফকিরকে বাউল গানের অগ্রদূতদের অন্যতম একজন হিসাবে বিবেচিত করে বাউল সম্রাট হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
তিনি ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাধক। ধর্ম,বর্ণ গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিভেদ থেকে সরে এসে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকেই তার অধিকাংশ গান রচিত।তার গান ও দর্শন যুগে যুগে প্রভাবিত করেছে কবি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল,এ্যলেন গিন্সবার্গসহ বিশ্বখ্যাত কবি সাহিত্যিক,দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীদের।
লালনের জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক আছে। তিনি নিজে কখনো তার ধর্ম, জন্মস্থান ও পিতা-মাতা সম্পর্কে কিছু বলেননি। কিছু সূত্র বলে, ১৭৭৪ সালে ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু থানার হরিশপুর গ্রামে তার জন্ম। কোন কোন লালন গবেষক বলেন, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়ারা গ্রামে জন্ম, আবার "মাসিক মোহাম্মদী" পত্রিকার এক প্রবন্ধে তার জন্মস্থান বলা হয়েছে যশোরের ফুলবাড়ী গ্রামে। 
কাঙাল হরিনাথ মজুমদার তাকে জানতেন, মীর মোশাররফ হোসেন চিনতেন, ঠাকুরদের হাউসবোটে তার যাতায়াত ছিল, লেখক জলধর সেন বা অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় তাকে অনেকবার সামনাসামনি দেখেছেন, গান শুনেছেন, তবুও তারা জানতে পারেননি লালনের জাত,ধর্ম বা বংশ পরিচয়। লালন অনুসারী মন্টু শাহ্'র মতে, তিনি ছিলেন" ওহেদানিয়াত" নামক নতুন ধর্মের অনুসারী। যদিও এ নিয়ে বিতর্ক আছে।
হিতকর" পত্রিকার এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, তরুণ বয়সে সঙ্গীসহ তীর্থ ভ্রমণে বের হলে পথিমধ্যে গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত লালনকে সাথীরা মৃত ভেবে নদীতে ভাসিয়ে চলে যান। কালীগঙ্গা নদীতে ভেসে আসা মুমূর্ষু লালন কে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান মলম শাহ্।স্ত্রী মতিজান এবং তিনি লালনকে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। লালন তার কাছে দীক্ষা নিয়ে স্ত্রী বিশাখাসহ শিষ্যদের নিয়ে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে বসবাস শুরু করেন।এই রোগে তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। ছেউড়িয়াতে তিনি দার্শনিক গায়ক সিরাজ সাঁই এর সংস্পর্শে আসেন এবং তার দ্বারা প্রভাবিত হন। জানা যায় লালন সংসারী ছিলেন, ছিল তার সামান্য কিছু জমি ও বাড়ি। তিনি অশ্বারোহণে দক্ষ ছিলেন, শেষ বয়সে ঘোড়ায় চড়ে নানা স্থানে যেতেন।
লালনের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতদ্বৈততা ছিল, এবং তা তার জীবিত অবস্থায়। প্রথম লালন জীবনীকার বসন্ত কুমার পাল বলেছেন, "সাঁইজি হিন্দু কি মুসলমান, একথা আমিও স্থির বলিতে অক্ষম।" বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় তিনি কোনো ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করতেন না। লালনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না।নিজ সাধন বলে হিন্দু-মুসলিম উভয় ধর্মের শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন, যা তার রচিত গানে পাওয়া যায়। সকলের সাথে সুসম্পর্ক ছিল বলে সবাই তাকে তাদের ধর্মের মানুষ মনে করতেন। প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন মানবতাবাদী।
মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার এক প্রবন্ধে তারা লালনের জন্ম মুসলিম পরিবারে বলে দাবি করেন। যদিও তথ্য উপাত্ত তা বলে না কারণ তিনি তীর্থযাত্রাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন আর তার সঙ্গীরা ছিলেন সকলেই হিন্দু সম্প্রদায়ের।
কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের অনেকের সাথে তার পরিচয় ছিল বলে জানা যায়।বিহারিমপুর পরগনায় ঠাকুর পরিবারের জমিদারীতে তিনি বাস করতেন। ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর ১১৬ বছর বয়সে তিনি ছেউড়িয়াতে দেহত্যাগ করেন। প্রায় এক মাস যাবত তিনি পেটের পীড়া ও হাত-পায়ের গ্রন্থির সমস্যায় ভুগছিলেন। এ সময় তিনি দুধ ছাড়া অন্য কিছু খেতে পারতেন না।মাছ খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব ছিল না। মৃত্যুর দিন ভোর ৫টা পর্যন্ত তিনি গান-বাজনা করেন, একসময় তিনি তার শিষ্যদের বলেন, "আমি চলিলাম", এর সামান্য কিছু সময় পর তিনি মারা যান।তার ইচ্ছা বা নির্দেশ ছিল না বলে তাকে হিন্দু বা মুসলিম কোনো ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন ছাড়াই, তারই নির্দেশে তার আখড়ার মধ্যে একটি ঘরে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।
আমরা সাংস্কৃতিক কর্মীরা লালনের গান শুনে, আবার কখনো মঞ্চে গান শুনিয়ে আমাদের দায়িত্ব শেষ বলে মনে করি। কিন্তু তিনি যে ভাবদর্শনের কথা তার প্রতিটি গানের ছত্রে ছত্রে লিখে গেছেন তা কি কখনো আমরা খুঁজে দেখি?সারা পৃথিবী জুড়ে আজ চলছে ধর্মীয় উন্মাদনা, চলছে ক্ষমতার অপব্যবহার, মানুষে মানুষে হানাহানি-বিভেদ, মনুষ্যত্বের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে তার অবস্থান। তাই তো লালনের একটি গানের প্রশ্ন দিয়েই এ লেখা শেষ করতে চাই।
"এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে? 
যেদিন হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান
জাতি গোত্র নাহি রবে।
লেখক : সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী।
তথ্যসূত্র :
১.মহাত্মা লালন ফকির, বসন্ত কুমার পাল।
২.ইনসাইক্লোপিডিয়া অব ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ।
৩.প্রাগুক্ত।     
৪.হিতকর সম্পাদক, মীর মোশাররফ হোসেন (পাক্ষিক কুষ্টিয়া)।
৫.বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন হতে "লালন ফকিরের ভিটা"।
৬.মহাত্মা লালন ফকির, কাঙাল হরিনাথ ও তার পত্রিকা "গ্রামবার্তা"।
৭.ইধঁষ ংড়হম- রহঃধহমরনষব যধৎরঃধমব পঁষঃঁৎব ংবপঃড়ৎ-টঘঊঝঈঙ.





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft