শিরোনাম: সখি ভালোবাসা কারে কয় !       বিচারক স্বামীর বিরুদ্ধে যবিপ্রবি শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন        রেলস্টেশন এলাকায় দু’যুবককে হত্যাচেষ্টা ঘটনায় অভিযুক্ত ১০        এবার যশোরে এতিমখানা থেকে চাল ডাল তেল চুরি       পুরাতনকসবা ঘোষপাড়া ও পালবাড়ি এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয়        শীতের সাথে শুরু হয়েছে গরম কাপড় বিক্রি       প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের একই রোল হচ্ছে পরের ক্লাসে       মণিরামপুরে ভোক্তা অধিকারের অভিযান       যৌতুক মামলায় স্বামীর কারাদণ্ড       নৌকার পক্ষে না থাকলে বহিস্কার      
শেষ পর্যন্ত মারাই গেল শিশুটি!
নিজাম উদ্দিন শিমুল
Published : Friday, 23 October, 2020 at 9:35 PM, Update: 23.10.2020 9:56:37 PM
শেষ পর্যন্ত মারাই গেল শিশুটি!সন্তানের ভালোর জন্যে মানুষ কি না করেন, জীবন দিতেও পিছু পা হন না অনেকে। অথচ আলামিন এমনই এক হতভাগা সন্তান যে এমন সৌভাগ্য নিয়ে জন্মায় নি। জন্ম থেকেই পিতৃপরিচয়হীন হয়ে জ্বলতে থাকা পরিবারের সন্তান আলামিনের মৃত্যু আগুনেই হল। অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর দেড়টায় মৃত্যুবরণ করে এই শিশু। তাকে নিয়ে যে খেলায় নেমেছিলেন তার স্বজনেরা তার শেষটা দেখে যেতে পারল না আলামিন।
আলামিনের বাবা বাঁকড়ার মৃত খলিল সরদারের ছেলে আলোচিত দাউদ হাজী। এলাকার প্রভাবশালী ও ধনাঢ্যদের মধ্যে তিনি অন্যতম। মা একই এলাকার আবুল কালামের মেয়ে তামান্না খাতুন দাউদ হাজীর বাড়িতে ঝিঁয়ের কাজ করতেন। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি দাউদ হাজী তামান্নাকে ধর্ষণ করেন। কয়েকদিনের মাথায় মায়ের গর্ভে আসে আলামিন। এরপর দাউদ নানা ধরণের হুমকি দিতে থাকেন তামান্না ও তার পরিবারকে। এক পর্যায়ে  তামান্নার পরিবারকে দাউদ জীবননাশের হুমকি দিলে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যশোর শহরে আশ্রয় নেন।
মায়ের গর্ভে আলামিনের বয়স যখন নয় মাস তখন দাউদ হাজির বাহিনী তামান্নাকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যায়। ঢাকায় গোপনে একটি হাসপাতালে জন্ম হয় আলামিনের। কিন্তু কোনোভাবেই আলামিনের বাবার স্বীকৃতি দিতে চাননা দাউদ সরদার। বাধ্য হয়ে তামান্নার মা সাকিরন বিবি ২০১৫ সালে ২০ অক্টোবর দাউদ হাজীর বিরুদ্ধে যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
আদালত আলামিন ও দাউদ হাজীর  ডিএনএ পরীক্ষা করে প্রমাণ পান দাউদ হাজীই প্রকৃত পিতা। আদালতের নির্দেশে সন্তানের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয় দাউদ হাজী। তবে তাকে লালন পালনের জন্যে দিয়ে দেন হাজিরবাগ গ্রামের নাসিমা নামে এক নারীর কাছে। সেখানেই আলামিনের বেড়ে উঠা। এর মাঝে মা তামান্না অন্যত্র বিয়ে করেন। আর আলামিনের ঠাঁই হয় কখনো নানী কিংবা দায়মার কাছে। তবে তাকে নিয়ে দায়ের করা মামলার বিচার চলতে থাকে নিজ গতিতে। এক পর্যায়ে আদালতের মধ্যস্থতায় দু’ পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। দাউদ ও তামান্নার মাঝে বিয়ে ও পরে তালাকও হয়। বিনিময় হয় মোটা টাকা। এর মাঝে গত ৭ অক্টোবর রাতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আলামিনের শরীরে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়।
এদিকে, এ বিষয়ে দাউদ হাজি বাদী হয়ে তামান্না ও তার মা সাকিরন বিবির বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। যা এখন পিবিআই তদন্ত করছে। এর মধ্যে শুক্রবার আলামিনের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে দাউদ হাজি ছেলের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, ১ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণার দিন। মিমাংসার জন্যে তামান্না ও পরিবার তার কাছে যে টাকা চেয়েছিলেন বর্তমানে তার থেকে বেশি দাবি করছেন তারা। টাকা না দেওয়ায় প্রথমে ছেলেকে হত্যার হুমকি দেয়। পরে গায়ে আগুন দিয়ে মারার চেষ্টা করে।
এবিষয়ে তামান্না ও তার পরিবারের দাবি, আলামিনকে হত্যার পরিকল্পনা দাউদ হাজীর অনেক আগের। তার প্রেক্ষিতে দাউদের লোকজন আলামিনের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft