শিরোনাম: করোনার মধ্যেই ডেঙ্গুর হানা       জিনুসির দাম বাড়চে, কমচে মানসির দাম !       ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড       নড়াইলের ইজিবাইকচালক রোহান হত্যার রহস্য উন্মোচন, তিন খুনি আটক       মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত ম্যারাডোনা       দু’প্রার্থীর দিনভর গণসংযোগ       ফ্যাক্টর হতে পারেন নতুন ভোটাররা        সুনাম কুড়িয়েছে ‘বৃষ্টির রান্নাঘর’       ২৫ বছর পর রাস্তা পেল ঘুরুলিয়ার ১০ পরিবার       যুব শ্রমিক লীগ সদর উপজেলা ও পৌর কমিটির অনুমোদন      
রাবি ভিসি’র সংবাদ সম্মেলন
হাফিজুর রহমান পান্না, রাজশাহী ব্যুরো :
Published : Sunday, 25 October, 2020 at 5:59 PM, Update: 25.10.2020 6:10:28 PM
রাবি ভিসি’র সংবাদ সম্মেলনরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় চলছে। এরই মধ্যে বেশকিছু অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণও পেয়েছে ইউজিসি। সেই আলোকে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ রবিবার সংবাদ সম্মেলন করে।
সম্প্রতি বিমক তদন্ত কমিটি কর্তৃক দাখিলকৃত তদন্ত রিপোর্টের বরাত দিয়ে বেশ কিছু সংখ্যক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় যে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে তা আমার নজরে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে কী আছে আমার জানা নেই, তবে প্রকাশিত খবরগুলো জনমনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি  বিধান সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে আমার মনে হয়েছে। তাই এ বিষয়ে জাতি ও সরকারের কাছে আমার অবস্থান পরিস্কার করার দায় অনুভব করছি।
তবে এ বিষয়ে কথা বলার পূর্বে আজকের এ অবস্থা সৃষ্টির পিছনের কিছু তথ্য আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা প্রয়োজন মনে করছি। দ্বিতীয় মেযাদে উপাচার্য হিসেবে দাযত্বি গ্রহণের পূর্বে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত বড় বড় আর্থিক দূর্নীতি ও অনিয়ম যেমন  ঢাকাস্থ অতিথি ভবন ক্রয়ে ১৩ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে হেকেপ প্রকল্পের সাড়ে তিন কোটি টাকা এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণে ৮০ লক্ষ টাকা তছরুপের বিষযটি খতিয়ে দেখার জন্য সিন্ডিকেট কর্তৃক তদন্ত কমিটি গঠনের পরপরই বর্ণিত অপকর্মের সাথে সংশ্লিষ্টরা আমার বিরুদ্ধে নিরন্তর অসত্য, বানোায়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ মজুরী কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে এবং পত্র পত্রিকাসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করতে থাকে।
আসলে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নামধারী কতিপয় দূর্নীতিপযন শিক্ষক নিজেদের অপকর্ম আডাল করার নিমিত্তেই সরকার ও স্বাধীনতা বিরোাধী চক্রের যোগসাজসে আমার বিরুদ্ধে অসত্য অভিযোাগসমূহ উত্থাপন করে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালযকে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করার ষডযন্ত্রে লিপ্ত, অন্য দিকে তেমনি সরকারকেও ব্তি করছে। এরাই মূলতঃ ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালযরে বিভিন্ন অথরিটির নির্বাচনে জামাত বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করে।
আপনারা জানেন যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর আলোাকে সিনেট  সিন্ডিকেট প্রণীত স্ট্যাটিউট / অর্ডিন্যান্স মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। বিভিন্ন সম শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রয়োাজনীয় সংশোধন / সংযোজন হয়ে বিশ্বদ্যিালয়ের সর্বোচ্চ নির্বাহী সংস্থা সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোাদনের পর তা কার্যকর হয়। বিভিন্ন সময়ে এই নিয়োগ নীতিমালা প্রনয়ণের প্রয়োজন ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ১৯৮৫ ও ১৯৯২ সালে প্রণীত নীতিমালা অনুযাযী ২০১২ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম চালু ছিল (সংযুক্তি -১)।
কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গ্রেডিং পদ্ধতি প্রবর্তন হওয়ার পর সনাতন পদ্ধতির সাথে গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রাপ্ত জিপিএ সংযোজনপূর্বক শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা ১০/০৫/২০১২ তারিখের সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত হয় (সংযুক্তি -২)। প্রফেসর মুহম্মদ মিজান উদ্দীন রাবি উপাচার্যের দাযত্বি গ্রহণের পর এই নীতিমালা অনুয়াযী তিনি শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। সাবেক এই উপাচার্য মহোদয় ২৯/১০/২০১৪ তারিখের সিন্ডিকেট সভায় তাঁর কন্যার এসএসসি, এইচএসসি ও ¯œাতক ( সম্মান )-শ্নাতকোত্তর পরীক্ষায প্রাপ্ত জিপিএ  কে ভিত্তি ধরে শুধুমাত্র ইংরেজি বিভাগের নিয়োগ যোগ্যতা পুনর্নির্ধারণ করেন ( সংযুক্তি -৩ ও ৪ )।
এই যোতাতেই ইংরেজী বিভাগের অর্গানোগ্রামে প্রভাষক পদ না থাকলেও ২ টি প্রভাষক পদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ট প্রভাষক পদের বিপরীতে মাত্র ২ জন প্রার্থীর সাক্ষাক্তার নিয়ে রজী বিভাগে শুধুমাত্র তাঁর কন্যা রিদিতা মিজান  কে ২১/০৪/২০১৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে নিয়োন (সংযুক্তি -৫,৬,৭ ও ৮)। প্রভাষক পদ না থাকা সত্বেও প্রভাষক পদ বিজ্ঞপ্তি প্রদানের মাধ্যমে নিযােগদান যে বৈধ ও আইনসিদ্ধ হযনি তা ৬ মাস পর নজরে এলে সাবেক উপাচার্যের (মুহম্মদ মিজান উদ্দীন  এর) নির্বাহী আদেশে তাকে ১১/১১/২০১৫ তারিখে দ্বিতীয়র নিয়োত্র ইসু করা হয় (সংযুক্তি- ৯ ও ১০) । কিন্তু এটিও আইনসিদ্ধ হযনি। উচিৎ ছিল অর্গানােগ্রামে বর্ণিত সহকারী অধ্যাপক / প্রভাষক পদ বিজ্ঞাপিত করে পুনরায সাক্ষাকারের ভিত্তিতে তাকে নিয়োান করা। কিন্তু তা হযনি , রিদিতা মিজানের নিয়োগ তাই আইনত : অবৈধ । এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, রিদিতা মিজান  কে ২০১৪ সালের নিযয়োাগ নীতিমালা অনুযায়ী দ্বিতীয় নিয়োাগপত্র ইস্যুর (১১/১১/২০১৫) মাত্র ১০ দিনের মাথায় ২১/১১/২০১৫ তারিখের সিন্ডিকেট সভায সকল বিভাগ ইনস্টিটিউটের জন্য অতি উচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন নিয়োগ নীতিমালা অনুমোদিত হয় (সংযুক্তি -১১)।
২০১৫ নীতিমালা ( ইংরেজী বিভাগ - SSC – 4.50 , HSC – 4.50 , Hons . & MA, একটিতে ৩৫০ অন্যটিতে ৩২৫ ) অনুযায়ী বিদিতা মিজান ( SSC – 4.19 , HSC – 4.30 , Hons . 3.25 & MA – 3.50) নিয়োগের জন্য কোন আবেদনই করতে পারতোা না । সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মিজান উদ্দীনের সময় প্রণীত ২০১৫ সালের নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী আইন বিভাগ এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয় ( সংযুক্তি -১২ ও ১৩ ) । এই বিজ্ঞপ্তির আলোাকে আইন বিভাগের তিনটি বিজ্ঞাপ্তি পদের বিপরীতে মাত্র ৫ টি আবেদন এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে ২ টি বিজ্ঞাপ্তি পদের বিপরীতে ৫ টি আবেদন পাওয়া যায় ।
উপযুক্ত বিজ্ঞাপ্তি পদের বিপরীতে অতি স্বল্পসংখ্যক আবেদনের কারণে উভয় বিভাগের সভাপতিদ্বয বিভাগীয় পরিকল্পনা কমিটির বরাত দিয়ে ২০১৫ সালের শিক্ষক নিয়োাগের শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার জন্য রাবি কর্তৃপক্ষ বরাবরর পত্র প্রেরণ করেন (সংযুক্তি ১৪ ও ১৫)। এ ছাড়া অন্যান্য অনেক বিভাগও ২০১৫ নীতিমালায় বর্ণিত শিক্ষাগত যোাগ্যতা শিথিল করা না হলে সেসব বিভাগে শিক্ষক নিয়োগদান সম্ভব হবে না বলে মৌখিকভাবে জানায়। এসব অবস্থার প্রেক্ষিতে রাবি শিক্ষক সমিতি ২০ জুলাই ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২০১৫ সালের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা বাতিল হয়।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft