শিরোনাম: উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে চট্টগ্রামের জয়       কোটচাঁদপুরে মহিলার নির্মাণ কাজে বাধা, তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে শ্রমিক       যশোরে ব্যাডমিন্টন খেলা নিয়ে যুবককে ছুরিকাঘাত       সরাসরি টিকা কেনায় সায়       যশোরের বারান্দীপাড়ায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা       কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের ১০ দিন পর মামলা       বাঘারপাড়ায় ডিবির অভিযান, ৬ পিস ইয়াবাসহ দুই কারবারী আটক        নেগেটিব পজিটিব রঙ্গ!       মণিরামপুরের ‘সেই’ মাদ্রাসা সম্পর্কে খোঁজ নেয়ার নির্দেশ ডিসির       সোনা পাচার মামলায় আটক পঙ্কজ রিমান্ডে      
বিজয়া দশমী আজ
স্বপ্না দেবনাথ
Published : Sunday, 25 October, 2020 at 11:48 PM
বিজয়া দশমী আজবাঙালি সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের মহা উৎসবের আজ শেষ দিন। আজ বিজয়া দশমী। নবমীর নিশি কেটে পরের দিনের সূর্য উদয় হওয়া মানেই পুজো শেষের ঘণ্টা বাজা। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। তারপরই মা দুর্গা বিদায় নেবেন। বাবার বাড়ি ছেড়ে ফিরবেন কৈলাসে। আবার এক বছরের অপেক্ষা। আজ বিজয়া দশমীর সকালে দশমী পুজো। শাস্ত্রীয় রীতি অনুসারে সকাল ৯টা ৫৭ এর মধ্যে হবে দর্পণ বিসর্জন। ভোর থেকে মÐপে মÐপে হাজির হবেন ভক্তরা। টানা মন্ত্রপাঠ। উলুধ্বনি আর অঞ্জলি। শঙ্খধ্বনির সাথে ঢাকের বাদ্য, আরতি নাচ, সিঁদুর খেলা। ধান, দুর্বা, মিষ্টি আর আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা। গজে চড়ে কৈলাসে ফিরবেন মা উমা।
দুর্গা পূজার শেষ দিন হিসেবে বিজয়া দশমী মায়ের ভক্তদের কাছে শোকাবহ হলেও শাস্ত্রে বিষয়টিকে সেইভাবে দেখা হচ্ছে না। দশমীতে দেবীর বিদায় যে শিক্ষা দেয় তা  রামকৃষ্ণদেবের একটি কাহিনী থেকে বিশেষ স্মরণীয়। রানি রাসমণীর জামাতা মথুরবাবু আবেগবশীভূত হয়ে বিজয়ার দিনেও দেবীকে বিসর্জন দেবেন না বলে জেদ ধরে বসেন। তখন ঠাকুর রামকৃষ্ণ তাকে বোঝান যে, বিজয়ার অর্থ দেবী বা মা এবং তার সন্তানের বিচ্ছেদ নয়। মা কখনোই সন্তানকে ছেড়ে থাকতে পারেন না। ঠাকুর বলেন, ‘একদিন বাইরের দালানে বসে মা পূজা নিয়েছেন, আজ থেকে মা হৃদয়মন্দিরে বসে পূজা নেবেন।’ । ‘প্রাধানিক রহস্য’ গ্রন্থে বলা হয়েছে ‘নিরাকারা চ সাকারা সৈব...।’ অর্থাৎ যিনি নিরাকার, তিনিই সাকার। দেবী সাকার রূপে মর্ত্যে পূজা গ্রহণ করেছেন, তারপর নিরাকার রূপে ফিরে গিয়েছেন কৈলাসে। তার অর্থ সন্তানের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ নয়।
এদিকে রোববার নবমীতে সম্পূর্ণ আবহাওয়া ভালো ছিল যশোরে। উৎসব উদযাপনের নানা বিধী নিষেধ মাথায় রেখে তাই সকাল থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত দেবী দর্শনে বেরিয়েছিলেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভক্ত ও পূর্ণার্থী। রাত পোহালেই বিজয়া। সেকথা নবমীতে ক্ষণে ক্ষণে একটু বেশি করেই মনে পড়ে সবার। করোনা মহামারীতে মায়ের আগমনে সব ভুলে ভালোর আশায় আনন্দে মাতা নবমীর রাত পোহালে যে শেষ সে জন্য সকলের আরও বেশি আনন্দে থাকার চেষ্টা। যদিও দর্পণ বিসর্জনের পরও অনেকে প্রতীমা দর্শন করেন তবে সেই উৎসাহটা থাকে না। যা বিজয়ার আগে পর্যন্ত বজায় থাকে।
সারা বছরের যাবতীয় দুঃখ, কষ্ট, ক্লান্তি ভুলে এ পাঁচদিনে সনাতন বাঙালি মেতে ওঠে দুর্গাপুজোর আনন্দে। পুজোর নিয়ম। উপোস, ভোগ, পুষ্পাঞ্জলি, আরতি। আনন্দ আড্ডা খাওয়া দাওয়া। কোনো সময়ের ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। মুছে যায় মলিনতা। তাই আট থেকে আশি সকলের জন্যই দুর্গাপুজো একটা অপেক্ষা। সেই প্রাণের পুজোর এবছরের মত ইতি হল বিজয়া দিয়ে। মঙ্গল যাত্রার সকল চাওয়া মা উমা পূর্ণ করবেন এখন একটাই চাওয়া।
দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জন মানে একদিকে বিদায়ের সুর, অন্যদিকে উৎসবের আমেজ।  তবে এবছর তা হচ্ছে না। কারণ উৎসব আমেজে এবার প্রতিমা বিসর্জনের কোনো অনুমতি নেই। হবে না শোভাযাত্রা। যশোরে পূজা উদযাপন পরিষদ এবং পৌর কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে বিজয়া শোভাযাত্রা ছাড়াই অনানুষ্ঠানিকভাবে লালদিঘীতে হবে প্রতিমা বিসর্জন।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft