শিরোনাম: শুক্রবার যশোরের বিভিন্ন এলাকায় দুপুর একটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে       দুক্কির কতা কবো কারে !       যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যানকে শিক্ষক সমিতির সংবর্ধনা       ফের রিমান্ডে পুলিশ কনস্টেবল দেব প্রসাদ       যশোরে হামলা মারপিট ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে পৃথক মামলা       বিনামূল্যে করোনার ভ্যাকসিন প্রত্যেককে দিতে হবে : জিএম কাদের       যশোরে মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন        যশোরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমাবেশ ও মানববন্ধন        মামার জোরে আশাশুনির বাগালী স্কুলের নৈশপ্রহরী বহাল তবিয়তে        করোনা নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে : টিআইবি      
অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অ্যাকশান শুরু
যশোরে ৫৩ প্রতিষ্ঠানকে শোকজ
দেওয়ান মোর্শেদ আলম
Published : Wednesday, 28 October, 2020 at 10:08 PM
যশোরে ৫৩ প্রতিষ্ঠানকে শোকজনতুন লাইসেন্স গ্রহণ ও পুরাতন লাইসেন্স নবায়নে বেধে দেয়া সময়ে সাড়া না দেয়ায় যশোরের ৫৩টি বেসরকারি ক্লিনিক ও  ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অ্যাকশানে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন আবেদন পর্যন্ত করেননি। সরকারি আদেশ ও নির্দেশনার প্রতি বৃধাঙ্গুলী প্রদর্শন করায় তাদেরকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির সাতদিনের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, গত জুন মাস থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে জেলার ২৩২টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মধ্যে ১৩৩টি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা আসে যশোর সিভিল সার্জন অফিসে। ওই নির্দেশনায় গত জুলাই থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীনের নেতৃত্বে যশোর জেলা শহর ছাড়াও ৮ উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও অভিযান চলে। যশোর সদর, মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর, বাঘারপাড়া, চৌগাছা, ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলায় গত আগস্ট পর্যন্ত ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয় টিম। নানা অনিয়ম মধ্য দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় ৫০টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অবৈধভাবে পরিচালিত প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিকদের নতুন লাইসেন্স গ্রহণ, যাদের লাইসেন্স আছে তাদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য শেষ সময় বেধে দেয়া হয় গত ২৩ আগস্ট। জেলার আট উপজেলার প্রাইভেট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত করে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে যশোর সদর উপজেলার ১৬টি, বাঘারপাড়ার ৫টি, শার্শায় ৬টি,  ঝিকরগাছায় ১২ টি, মণিরামপুরে ৮টি, কেশবপুরে ১টি, চৌগাছায় ১টি, অভয়নগরে ৪টি প্রতিষ্ঠান রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন পর্যন্ত করেনি।
সরকারি দির্শেনা ভুলুণ্ঠিত করা বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে যশোর শহরের নতুর খয়েরতলা পালবাড়ির হাসিনা ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোম, মুজিব সড়কের রোটারি হেল্থ সেন্টার, গরীবশাহ রোডের ফাতেমা হাসপাতাল, চাঁচড়া মোড়ের সূর্যের হাসি ক্লিনিক, বালিয়াডাঙ্গার আহাদ ডায়াবেটিক এন্ড হেল্থ কমপ্লেক্স, এমএম আলী রোডের নিরাময় ক্লিনিক, জেল রোডের ডিজিটাল হাসপাতাল, ইউনাইটেড আই এন্ড জেনারেল হাসপাতাল, ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের যশোর ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, সেন্ট্রাল রোডের যশোর আধুনিক হাসপাতাল, গাড়িখানা রোডের পিয়ারলেস হাসপতাল, বাঘারপাড়ার মা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, মনোয়ারা ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, রহিমা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার,  কেশবপুরের মহাকবি মাইকেল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, শার্শার বাগআঁচড়া নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, সেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক চেম্বার, ল্যাব জোন ডায়াগনোস্টিক সেন্টার এন্ড ডক্টর চেম্বার, অভয়নগরের ল্যাবওয়েব মেডিকেল সেন্টার, মেডিকেয়ার ডায়াগনোস্টিক,  ঝিকরগাছার আনিকা ক্লিনিক,  সিগমা মেডিকেয়ার ডায়াগনোস্টিক, সেবা ক্লিনিক, ডক্টর এক্সরে এন্ড প্যাথলজি, ছুটিপুর বাজারের মা মনি হসপিটাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক, মণিরামপুরের ফাতেমা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক, জিনিয়া প্যাথলজি ল্যাবরেটরি, কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিক, চৌগাছার ডক্টরস প্যাথলজি। 
উপরুক্তসহ আট উপজেলায় মোট ৫৩টি প্রতিষ্ঠানকে গত ২২ অক্টোবর সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। যার স্মারক সংখ্যা সিএসজে/এস-১/প্রাঃকি/২০২০/৫৬৯৩/৫৬(১০)। ওই স্মারকপত্র প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে লাইসেন্স নাবায়ন কিংবা নতুন লাইসেন্সের জন্য কেন আবেদন করা হয়নি, সে ব্যাপারে সন্তোষজনক জবাব চেয়েছেন সিভিল সার্জন।  
এদিকে, যশোর সিভিল সার্জন অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ অসাধু চক্র যশোর শহরসহ অনেক স্পটে অবৈধভাবে হাসপাতাল ক্লিনিক ডায়াগনোস্টিক সেন্টার খুলে অনৈতিকতা চালিয়ে যাচ্ছে এমন অনেক অভিযোগ আসে স্বাস্থ্য বিভাগে। নোটিশ দেয়া হলেও তারা সতর্ক না হয়ে উল্টো রোগী সেবার নামে প্রতারণায় নামা, স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো অনুমোদন ছাড়াই শয্যা খোলা, ডাক্তার নার্স প্যাথলজিস্ট রেডিওটেকনিশিয়ান না থাকলেও  প্রতিদিন রোগী দেখা, রোগী ভর্তি রাখা, প্যাথলজিক্যাল নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার নানা ভয়ংকর তথ্য যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক এ যুগে চিকিৎসা প্রতারণা করতে দেয়া হবেনা, এ জন্য সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে মাঠ পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান চলমান থাকবে।
এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, নতুন লাইসেন্স গ্রহণ ও পুরাতন লাইসেন্স নবায়নে বেধে দেয়া সময়ে সাড়া না দেয়ায় যশোরের ৫৩টি প্রাইভট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অ্যাকশানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের শোকজ করা হয়েছে। ৭ দিন পর থেকেই ব্যবস্থা নেয়া শুরু হবে। এর আগে প্যাথলজি সমস্যা, ডাক্তার-নার্স না থাকা, টেকনিশিয়ান না থাকা ও অনুমোদন না থাকার বিষয় নিয়ে সিল করা হয়েছিল ৫০টি। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্যাথলজি সমস্যা থাকায় ওই বিভাগটি বন্ধ করা হয়েছে। রোগী নিয়ে প্রতারণা করা যাবে না। নয় ভুল চিকিৎসা, নয় ভুল পরীক্ষা।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft