শিরোনাম: প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে যশোরে কর্মশালা অনুষ্ঠিত        বাংলাদেশে আসা হলো না ম্যারাডোনার       খুলনাকে হারিয়ে রাজশাহীর দুইয়ে দুই       জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ-ডেনমার্ক একসঙ্গে কাজ করবে       তিতুমীরের সেই শম্পা মারা গেছেন       করোনা: চট্টগ্রামে নতুন আক্রান্ত ২২৩ জন       ভারতজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট শুরু       ভারতের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় নিভার       ব্রাজিলে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৪১ জন নিহত        ম্যারাডোনা যে কারণে দুই হাতে ঘড়ি পড়তেন      
রেজাউলের মুখে হাসি ফুটিয়েছে ‘হাঁস’
এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর (মাগুরা)
Published : Thursday, 29 October, 2020 at 2:18 PM
রেজাউলের মুখে হাসি ফুটিয়েছে ‘হাঁস’দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি মিলেছে। দূর হয়েছে অভাব-হতাশা আর অনিশ্চয়তা। এখন সফলতার পথে হাঁটছেন। নিত্য উপার্জনে হাসির ঝিলিক তার মুখে। এই সফল মানুষের নাম রেজাউল করিম। হাঁসের খামার করে তিনি স্বাবলম্বী। রেজাউলের মুখে হাসি ফুটিয়েছে হাঁস। তার বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নৈহাটি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রউফ মোল্লার ছেলে। খামারে গেলে তিনি তার সাফল্যের কথা শোনান।
চলতি বছরের মার্চ মাসের কথা। করোনাকালীন সময়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন বেকার রেজাউল করিম। দুর্যোগকালীন সময়ে উপজেলার ওমেদপুর গ্রামের কাজী তৈয়েবুর রহমান ও মহম্মদপুর উপজেলা সদরের সাদিক হাসান নামের দু’ বন্ধু তাকে হাঁসের খামার করার পরামর্শ দেন। বাড়ির আঙিনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা থাকায় বন্ধুদের পরামর্শে উদ্বুদ্ধ হন রেজাউল। এরপর তিনি বাড়ির আঙিনায় ঘের কাটান এবং তৈরি করেন হাঁস রাখার ঘর। এতে তার ব্যয় হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। এরপর ওমেদপুর ও কানুটিয়া থেকে পাঁচ মাস বয়সী আটশ’ ক্যাম্বেল জাতের হাঁস কেনেন। প্রতিটি হাঁসের মূল্য তিনশ’ টাকা করে মোট দু’ লাখ ৪০ হাজার টাকার হাঁস কেনেন তিনি। এরপর তিনি হাঁস লালন-পালনে নিরন্তর সময় ও পরিশ্রম দিতে থাকেন। কঠোর পরিশ্রম ও নিবিড় পরিচর্যায় তার সাফল্য আসে। এ কাজে সহায়তা দেন তার স্ত্রী মনিরা পারভীন।
চলতি বছরের মে মাস থেকে রেজাউল করিমের খামারের অর্ধেক হাঁস ডিম দিতে শুরু করে। এখন প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চারশ’ থেকে পাঁচশ’ হাঁসে ডিম দিচ্ছে। প্রতি একশ’ ডিম বিক্রি করছেন এক হাজার একশ’ টাকা দরে। ওই হিসেব অনুযায়ী প্রতিদিন তার চার হাজার চারশ’ টাকা থেকে পাঁচ হাজার পাঁচশ’ টাকার ডিম বিক্রি করেন। প্রতিমাসে এক লাখ ৩২ হাজার থেকে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করেন খামারি রেজাউল করিম। বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা তার বাড়ি এসে ডিম কিনে নিয়ে যান। প্রতিমাসে ফিড, শামুক ও ওষুধ কেনাসহ তার আনুষঙ্গিক ব্যয় হয় ৯৫ হাজার থেকে এক লাখ ২৩ হাজার টাকা। খরচ বাদে প্রতিমাসে তার লাভ থাকে ৩৭ হাজার থেকে ৪২ হাজার টাকা। রেজাউল করিম এখন স্বচ্ছল-স্বাবলম্বী। হাঁসের খামার করে তিনি অভাবকে জয় করেছেন। পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে তিনি এখন সুখে শান্তিতে আছেন। সংসারে এসেছে স্বচ্ছলতা। পরিবারের সবার মুখে হাসি ফুটেছে।
এর আগে রেজাউল করিম বেকার ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এছাড়া তিনি আড়মাঝি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দূর-দূরান্তের মানুষ রেজাউল করিমের হাঁসের খামার দেখতে আসনে। তার সাফল্যে এরই মধ্যে পাশর্^বর্তী আড়মাঝি ও চরপাচুড়িয়া গ্রামের দু’ যুবক হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন।
এ বিষয়ে সফল খামারি রেজাউল করিম বলেন, ‘দু’ বন্ধুর উৎসাহে হাঁসের খামার করে এখন আমি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। প্রতিমাসে ৩৭ হাজার থেকে ৪২ হাজার টাকা লাভ থাকে। সংসারে এখন আর অভাব-অনাটন নেই’।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft