সম্পাদকীয়
শিরোনাম: শংকরপুরের অনিক হত্যা চেষ্টা মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট       এগিয়ে চলেছে হাউজিং এস্টেটের প্লট বরাদ্দের বিশাল প্রকল্প       পল্লী বিদ্যুতের উপহারের ঘর পেলেন ঝিকরগাছার জাহানারা       চেরাগ কনে পাইলো উরা!       যশোরে র‌্যাবের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার       মণিরামপুরে নৌকার সমর্থনে পথসভা       যশোরে বিপুল পরিমাণ ডলারসহ চার হুন্ডি ব্যবসায়ী আটক        যশোরে পূজা পরিষদের কম্বল বিতরণ        চাঁদা না পেয়ে এসি খুলে নিলেন দু’ ভাই!        জিন্নাতুল বাকিয়া ছবি’র চেহলাম অনুষ্ঠিত      
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও এগিয়ে চলা
Published : Saturday, 9 January, 2021 at 9:44 PM, Count : 79
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও এগিয়ে চলাস্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পরেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তানের অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ প্রহণ করে।
বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। বিকাল ৫টায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। স্বশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন।
সেদিন তিনি বলেন, ‘আজ থেকে আমার অনুরোধ, আজ থেকে আমার আদেশ, আজ থেকে আমার হুকুম ভাই হিসেবে, নেতা হিসেবে নয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, আমি তোমাদের ভাই, তোমরা আমার ভাই, এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না পায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি আমার বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়, এই স্বাধীনতা পূর্ণ হবে না। যদি এ দেশের মা- বোনেরা ইজ্জত ও কাপড় না পায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণতা হবে না যদি এ দেশের মানুষ, যারা আমার যুবক শ্রেণি আছে তারা চাকরি না পায় বা কাজ না পায়।’
স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে দেশ অনেকদূর এগিয়েছে। জাতির পিতার হত্যার মধ্য দিয়ে পেছন দিকে হাঁটছিল দেশ। সেখান থেকে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন বহির্বিশ্বে। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার করেও কলঙ্কমোচনের পথে অনেকদূর এগিয়েছে দেশ। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু হচ্ছে। মাতৃ-মৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। শিক্ষা ব্যবস্থায়ও হয়েছে অগ্রগতি। কিন্তু এখনো অনেক সমস্যা রয়েই গেছে। বেকারত্ব, দারিদ্র্যের সাথে চলছে সংগ্রাম। ধর্মীয় উগ্রবাদ এক বিরাট সমস্যা। এসব উড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথে শপথ নিতে হবে। স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বাঙালি জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি রইলো আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft