মতামত
শিরোনাম: ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন কে?       যশোরে দেড় লাখ টাকা ছিনতাই ও ছুরিকাঘাত ঘটনায় মামলা       কৃষির মাধ্যমে সমবায়কে এগিয়ে নিতে হবে : এমএ মান্নান       যশোরে ভেড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব        শরণখোলায় হরিণের ১৯টি চামড়াসহ দু’জন আটক       পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ৫ ফেব্রুয়ারি       মোংলা বন্দরে ক্ষতির শিকার হচ্ছে বিদেশি জাহাজ, আসতে অনীহা প্রকাশ       উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে চৌগাছার জয়       মেয়র প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ       শেষ ওয়ানডে খেলতে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ      
যত বেশি নীরব হবেন, তত বেশি শুনতে পাবেন
মিজানুর রহমান
Published : Wednesday, 13 January, 2021 at 8:52 PM, Count : 219
যত বেশি নীরব হবেন, তত বেশি শুনতে পাবেনজর্জ বার্নার্ডশ বলেছিলেন, জীবনে দুটি দুঃখ আছে। একটি হল-তোমার ইচ্ছা অপূর্ণ থাকা, অন্যটি হল-ইচ্ছাপূরণ হলে আরেকটির প্রত্যাশা করা। আমরা জীবনে সুখের হরিণের পেছনে ছুটে বেড়াই। সবাই সুখপাখিটা ধরতে চায়। তবে যারা সুখ কি তা বোঝার চেষ্টা করেন তাদের অনুসন্ধানটা ভিন্ন। তারা সুখকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টায় যদিও বলবেন শরীরে এন্ডরফিন, ডোপামিন ও সেরোটোনিন নামক হরমোন নিঃসৃত হলে মানুষ সুখানুভূতি পায়। কিন্তু কাজের সাথেও যে সুখানুভূতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তা আমরা অনেকেই জানিনা।
বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় তার মেয়ে একবার সিনেমা দেখার বায়না ধরে। সে সময় তিনি জটিল একটি গাণিতিক সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এদিকে মেয়ে নাছোড়বান্দা। শেষে মেয়ের জেদের কাছে হার মেনে ঘোড়ার গাড়িতে করে মেয়েকে নিয়ে গেলেন মুকুল সিনেমা হলে। সেখানে পৌঁছে দেখেন তিনি বাসায় টাকা ফেলে এসেছেন। মেয়েকে সেখানে রেখে গাড়োয়ানকে নিয়ে বাসায় ফিরলেন টাকা নিতে। বাসায় পৌঁছে টাকা নেয়ার সময় টেবিলে দেখেন অসমাপ্ত গাণিতিক সমস্যাটা পড়ে আছে। তখন তিনি মেয়ের কথা ভুলে সেখানেই বসে পড়েন সমস্যা সমাধানে। এদিকে গাড়োয়ান যখন দেখলেন অনেকক্ষণ সময় পার হয়েছে তখন আর অপেক্ষা না করে বাড়িতে ঢুকে পড়লেন। ঢুকে দেখেন, সত্যেন বসু টেবিল-চেয়ারে নিমগ্নভাবে অঙ্ক কষে চলছেন। গাড়োয়ান সত্যেন বসুকে মেয়ের কথা মনে করিয়ে দিলে তিনি সম্বিত ফিরে পান।
এরকম আরো অনেক গল্প আছে। যেমন আইনস্টাইন হোটেলের ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছিলেন। আর্কিমিডিস গোসল করতে নেমে স্বর্ণ-খাদের সমস্যা সমাধান খুঁজে পেয়ে দিগম্বর অবস্থায় রাস্তায় বের হয়ে পড়েন “ইউরেকা ইউরেকা” চিৎকার করতে করতে। মুখরোচক এই গল্পগুলো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এর কারণ হলো আমরা বিজ্ঞানীদের আত্মভোলা মানুষ হিসেবে ভাবতে পছন্দ করি। তবে বিজ্ঞানী ও সৃষ্টিশীল মানুষদের এভাবে চিহ্নিত করায় একটা সমস্যা রয়েছে। তাঁরা আসলে আত্মভোলা নন। অনেক সময় তাঁরা গভীরে এতোটাই নিমজ্জিত হয়ে যান যে অন্য কোন কিছুর কথা তাদের মনেই থাকে না।
আপনি কখনো কি এমন কোনো কাজে ডুবে গিয়েছিলেন যে সবকিছু কথা ভুলেই গিয়েছিলেন? বেলা গড়িয়ে কখন সন্ধ্যা হয়েছে টের পাননি? কিংবা রাত্রে খাবার পর কাজে বসে হঠাৎ টের পেয়েছেন যে ভোর হয়ে গেছে? কাজে এতটাই বিভোর হয়ে গিয়েছিলেন যে সময় পার হওয়ার অনুভূতি লোপ পেয়েছিলো, ক্ষুধা অনুভব করেন নি? এরকম অভিজ্ঞতা আমাদের সবার জীবনেই একবার না একবার হবার কথা। বিশেষ করে যখন হাতের কাজটি হয় চ্যালেঞ্জিং আর আগ্রহ হয়ে থাকে ভেতর থেকে। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ কোনো খেলা দেখার সময়েও এরকম একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাই আমরা। যারা কম্পিউটারে গেম খেলেন, অনেক সময় মজার অথচ জটিল কোন গেম খেলার মধ্যে ডুবে গেলেও এই অবস্থা তৈরি হয়। অনেক প্রোগ্রামার কম্পিউটারে রাত্রে কাজ করতে পছন্দ করেন। কারণ রাত্রে সাধারণত অন্য কেউ কথা বলে না, ডাক দেয় না, বিরক্ত করে না। তখন তারা ঘন্টার পর ঘন্টা কোন সমস্যা সমাধানে কাটিয়ে দিতে পারেন। এ সমস্ত ক্ষেত্রে একটা বিশেষ মানসিক অবস্থা তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘ফ্লো‘ (ঋষড়)ি। তবে বাংলায় একে আমরা নিবিষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা নিমগ্নতা বলতে পারি। কিন্তু নিমগ্নতার সাথে সুখের সম্পর্কটা কি, এই প্রসঙ্গে ‘ফ্লো’ তত্ত্বের জনক মনোবিজ্ঞানী মিহাইল চিকসেন্ট মিহাইয়ের গবেষণা সম্পর্কে একটু জানা যেতে পারে।
বহু বছর আগে ১৯৫৬ সালে এক জরিপে প্রায় ৩০ শতাংশ আমেরিকান উল্লেখ করেন যে তারা জীবন নিয়ে অত্যন্ত সুখী। তখন থেকে কয়েক বছর পরপর নিয়মিত এ জরিপটি করা হয়েছে। দেখা গেছে ১৯৫৬-এর পরে আমেরিকানদের গড়পড়তা আয় দুই থেকে তিনগুন বাড়লেও ‘সুখী’ আমেরিকানদের অনুপাত বাড়ে নি। তার মানে, দারিদ্রসীমার নিচে আয় থাকলে তা অবশ্যই দুঃখের কারণ হবে। কিন্তু আয় অনেক বাড়লে সুখানুভূতি যে বাড়বেই এমন কোন কথা নেই। অর্থাৎ অধিক উপার্জন মানুষকে অধিক সুখী করে তুলতে পারে না। এ প্রেক্ষিতে মনোবিজ্ঞানী মিহাইল ‘সুখ’ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ‘দৈনন্দিন জীবনে আমরা কি আসলেই সুখের অভিজ্ঞতা লাভ করি?’ এটাই ছিলো তার অনুসন্ধানের মূল প্রশ্ন। তিনি প্রথমে সৃজনশীল ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেয়া শুরু করেন। এদের মধ্যে ছিলেন শিল্পী, বিজ্ঞানী ও অন্যান্য নানান পেশার মানুষজন। তাদের সাক্ষাৎকারে বার বার একটি অনুভূতির কথা উঠে আসে যখন তারা নৈমিত্তিক জীবনের বাইরে অন্যরকম ভাবাবেশের কথা উল্লেখ করেন। সেটা হলো তাদের সৃজনশীল কাজের মধ্যে একটি উচ্ছসিত আনন্দের অনুভূতির কথা তারা ব্যক্ত করেন। সৃজনশীল কাজটি সহজে অর্থাৎ তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে এরকম অবস্থায় আনন্দময় অবস্থাটি তৈরি হওয়ার কথা উঠে আসে তাদের সবার কথায়। সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি মিহাইল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজের মধ্যে থাকা অবস্থায় প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার অনুভূতি কিরকম সে তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করেন। তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের পেজার নামক একটি যন্ত্র সরবরাহ করা হয়। পেজার মূলত মোবাইল ফোনের পূর্বপুরুষ জাতীয় যন্ত্র। অংশগ্রহণকারীদের নিত্যদিনের কাজের মাঝে বিভিন্ন সময়ে এ পেজারটি বেজে উঠতো। অংশগ্রহণকারী ঐ মুহূর্তে কি কাজ করছেন, কাজ করতে কেমন লাগছে, কাজটি কোথায় করা হচ্ছে, কাজ করার সময় কি নিয়ে চিন্তা করছেন এসব তথ্য লিপিবদ্ধ করা হতো। এ ছাড়াও দুইটি পরিমাপ নেয়া হয়। প্রথমত, অংশগ্রহণকারী যে কাজটি করছেন তা কতটুকু কঠিন। দ্বিতীয়ত, কাজটি সম্পন্ন করার জন্য অংশগ্রহণকারী কতটুকু দক্ষ। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন সময়ে করা বিভিন্ন কাজের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা হয়। এভাবে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে মিহাইল একটি ডায়াগ্রাম তৈরি করেন। প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর কাছে দিনভর কাজ কতটুকু সহজ বা কঠিন মনে হয় এবং বিভিন্ন কাজের জন্য তার কতটুকু দক্ষতা আছে, এ দুইটি পরিমাপের মাঝামাঝি একটা বিন্দু ঠিক করা যায়। এ কেন্দ্রবিন্দু থেকে বোঝা সম্ভব কখন একজন অংশগ্রহণকারী ‘মগ্নতা’ দশায় প্রবেশ করবেন।
যখন আমাদের হাতের কাজটা খুব কঠিন এবং সে কাজে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি থাকে তখন আমরা উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা অনুভব করি আর যখন কাজটা খুব সহজ হয় আর কাজের জন্য দরকারী দক্ষতা পর্যাপ্ত থাকে, তখন আমরা বেশ আরামে থাকি। তবে যখন কাজটা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয় আর সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দরকারী দক্ষতাও উপস্থিত থাকে তখন আমরা মগ্ন দশায় প্রবেশ করি। এ নিমগ্ন অবস্থায় কাজের চ্যালেঞ্জ টক্কর দেয়ার সাথে সাথে একধরনের ভাবাবেশ ও উচ্ছ্বাস তৈরি হয়। তখন ক্ষুধা, সময় ইত্যাদির অনুভূতি থাকে না, আমরা ডুবে যাই কাজের ধারায়, লাভ করি চ্যালেঞ্জ খন্ডনের তৃপ্তিময় আনন্দ। যখন হাতের কাজটা খুবই সোজা, আর সেটা করতেও তেমন কোন দক্ষতা লাগে না, তখন মানুষ অনীহা ঔদাসিন্য বিরক্তি অনুভব করে। দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে টেলিভিশন দেখার সময় মানুষ এই অনুভূতির মধ্য দিয়ে যায়। কেউ কেউ ফেসবুক ঘাঁটার সময়েও আমরা এরকম বোধ করি।
নিমগ্নতার মূল বৈশিষ্ট্য হলো আমরা যে কাজটি করছি তাতে সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত হয়ে পড়া। মনোযোগে সম্পূর্ণভাবে নিবদ্ধ থাকা। এছাড়া এ অবস্থার আরো কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন:
.নৈমিত্তিক জীবনের বাইরে তৃপ্তিময় ভাবাবেশের অন্যরকম অনুভূতি পাওয়া যায়।
.মনের ভেতরে স্বচ্ছতার অনুভূতি থাকে। আপনি জানতে পারবেন কি করা দরকার। আর আপনি কাজটা ঠিক মতো করছেন কি না, তা নিজে
থেকেই বুঝতে পারেন।
. আপনি জানবেন কাজটি শেষ করা সম্ভব। এবং কর্মসম্পাদনের দরকারী দক্ষতা আপনারও আছে।
. নিজের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক অনুভুতি  থাকবে না। আপনার সকল উদ্বেগ ও ভাবনা দূরে সরে যাবে।
.আপনি সময়ের মাঝে হারিয়ে যেতে পারবেন আর  বর্তমানের মাঝে সম্পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করতে পারবেন।
. কাজের মধ্যে একটা প্রণোদনা লুকানো থাকে। নিমগ্ন অবস্থাটি যে কাজের মাধ্যমেই তৈরি হোক না কেন, কাজ করাটাই তখন পুরস্কার হিসেবে
আবির্ভূত হয়।
মানুষের মনোনিবেশ করার ক্ষমতা সীমিত। মনোবিজ্ঞানী মিহাইল চিকসেন্ট মিহাই গবেষণায় বের করেছেন যে, মানব মস্তিষ্ক সেকেন্ডে ১১০ বিট তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। যেমন কথার অর্থ উদ্ধার করতে প্রতি সেকেন্ডে ৬০ বিট তথ্য লেগে যায়। এ কারণে কারো সাথে কথা বলার সময় অন্য কোন বিষয়ে খেয়াল রাখা যায় না। ক্ষুধাবোধ, সময়জ্ঞান এগুলোও তথ্য যা বিভিন্ন ইন্দ্রিয় ও স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। কিন্তু এগুলোকে প্রক্রিয়াজাত না করলে এ সম্পর্কে আমরা সচেতন হই না। নিমগ্ন অবস্থায় আমাদের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা পুরোটাই ব্যবহৃত হয় হাতের কাজটি সম্পন্ন করার জন্য। তাই নাওয়া-খাওয়া ও সময়ের কথা আমাদের খেয়াল থাকে না। এরকম অবস্থায় দেহের অনুভূতি বোঝার জন্য কোন মনোযোগ অবশিষ্ট থাকে না।
নিমগ্নতা একটা চমৎকার মানসিক অবস্থা এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই অবস্থায় ইচ্ছে হলেই প্রবেশ করা যায় না। এ পর্যায়ে পৌঁছতে পারলে কর্মদক্ষতা অনেকগুন বাড়ানো সম্ভব। যে কোনো দুরূহ চ্যলেঞ্জিং কাজ হাতে নিয়ে তা সম্পন্ন করার মতো মানসিক যোগ্যতা আপনি অর্জন করতে পারবেন। শুধুই অর্থ-বিত্ত-খ্যাতি ইত্যাদির পেছনে না ছুটে মানবকল্যাণমুখী সৃষ্টিশীল চ্যালেঞ্জিং কাজে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে আনন্দময় সুখ লাভের নিশ্চিত উপায় বের করা সম্ভব। বিষয়ভিত্তিক নিমগ্নতা বা আত্মনিমগ্নতা কখনও মানুষকে অ-সুখী বা ব্যর্থ হতে দেয়না। মহামানবদের জীবনের নিমগ্নতা বা আত্মনিমগ্নতা তাঁদের জীবনকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের পরম উচ্চতায়। তাঁরা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজের অস্তিত্বের ভেতরের ‘আমি’র চালক হিসেবে। নিজের গভীরে নিমগ্ন হওয়া এবং অন্তরতম ‘আমি’র সাথে সংযুক্ত হলেই মানুষের অনুভবের দরজা খুলে যায় এবং সে নতুন সত্যকে অনুভব করে, আবিস্কার করে। মনে রাখবেন যত বেশি নীরব হবেন, তত বেশি শুনতে পাবেন, শুনতে পাবেন নিজেকে গভীরভাবে!
* অংশবিশেষ সংগৃহীত
লেখক ও সমাজকর্মী





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft