দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
শিরোনাম: সরিষার আবাদ বাড়ানোর আহ্বান এমপি আফিলের        গাছ থেকে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার       জালিয়াতি করে জমির নামপত্তনের চেষ্টা, ৩ জনকে কারাদন্ড       দুই মেম্বার প্রার্থীকে জরিমানা       বেনাপোলের বিস্ফোরক মামলায় দু’জন রিমান্ডে       ওয়াল্টন গ্রুপের উপনির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে যশোরে মামলা       ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা       চুতায় আছে, বাস্তবায়ন করবে কিডা!       বিজয় দিবসে স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রীর শপথ       মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস কাজ ব্যাহত      
যশোরে ছাত্রদলের ১৭ ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটি গঠন
ত্যাগীরা বাদ পড়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া
শিমুল ভূইয়া
Published : Wednesday, 13 January, 2021 at 10:00 PM, Count : 834

ত্যাগীরা বাদ পড়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়াযশোর জেলা ছাত্রদলের ১৭টি ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। প্রত্যেক কমিটিতে ২১ জন করে রয়েছেন। কোনো কোনো ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটিতে ত্যাগীদের বাদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, টাকার বিনিময়ে ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিবাহিত, অছাত্র ও আন্দোলন সংগ্রামে না থাকাদের কমিটিতে আনা হয়েছে। এবারো বাদ দেয়া হয়েছে বঞ্চিতদের। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন উপায়ে কমিটিতে ঠাঁই হয়েছে ছাত্রদলের রাজনীতি করেননি এমন অনেকের। অভিযোগ উঠেছে, জুনিয়রদের বড় পদ দিয়ে সিনিয়রদের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে অসম্মান করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, কেশবপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি হোসাইন মজনুকে বাদ দিয়ে উপজেলা কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অথচ ছাত্রদলের এই নেতার নামে রয়েছে একাধিক মামলা। আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেয়ায় একাধিকবার কারাবরণ করেন তিনি। এমনকি কেন্দ্রে পাঠানো জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। অথচ তাকে কমিটিতে স্থান না দিয়ে মোহাম্মদ আজিজুর রহমান আজিজকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। যিনি ছাত্রদলের এ পদের যোগ্য না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। শুধু তাই না, এ কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফিজকে। যিনি বিবাহিত বলে অভিযোগ করছেন জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা। এক মেয়ের সাথে মোস্তাফিজের একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। কেশবপুর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদুজ্জামানকেও কোথাও স্থান না দিয়ে পদ বঞ্চিত করা হয়েছে।
এসব বিষয়ে নেতাকর্মীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের হস্তক্ষেপে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। শ্রাবণ নাকি কেন্দ্রীয় কমিটিকে এটি করতে বাধ্য করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, কমিটি দেয়া নিয়ে আর্থিক লেনদেনের।
অভয়নগর উপজেলা ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মারুফ আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে দাবি এখানকার নেতাকর্মীদের। তার নামে রয়েছে ডজন খানিক রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক মামলা। গত কমিটির সহসভাপতি ছিলেন তিনি। সেখানে তাকে আহ্বায়ক না করে আহ্বায়ক করা হয়েছে নাঈম উদ্দীন বিজয়কে। মারুফকে করা হয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক-৩। এর আগের দু’জন যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফের থেকে জুনিয়র বলে সূত্র জানিয়েছে। এই কমিটির সদস্য সচিব করা নিয়েও একই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি অনেক নেতাকর্মীর। তুহিন হোসেনকে সদস্য সচিবের জন্য জেলা কমিটি ও অভয়নগরে ছাত্রদলের নেতারা সুপারিশ করলেও এ পদে আনা হয়েছে তকিবুর রহমানকে। যিনি একজন ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তকিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছাত্রলীগের সাথে মিশে নিজেকে রক্ষা করে চলেছেন। এছাড়া, নওয়াপাড়া পৌর কমিটিতে নয়ন হোসেন ও রাজু আহম্মেদকে উপযুক্ত পদ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।
যশোর নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক প্রার্থী রেজওয়ান বাশার সোহানকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আরেক প্রার্থী রাজু আহম্মেদকে সদস্য করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আব্দুল আহাদ গাজী সাংগঠনিক হলেও তাকে কোনো পদে রাখা হয়নি। সরকারি সিটি কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পাওয়া মফিজুল ইসলাম বুলবুল ছিলেন আহ্বায়ক প্রার্থী। এমএম কলেজ ছাত্রদলের রিয়াদ হোসেনকে কোনো পদেই রাখা হয়নি।
শার্শা উপজেলা ছাত্রদলে মোহাইমিনুল সাগরকে বঞ্চিত করে শরিফুল ইসলাম চয়নকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। চয়ন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী। বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের তোফাজ্জেল হোসেন তুহিনকে উপযুক্ত পদে রাখা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। যশোর নগর ছাত্রদলের শীর্ষপদে আলোচনায় থাকা গোলাম হোসেন সনিকে কমিটিতে রাখা হয়নি। বঞ্চিতরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘সংগঠনের জন্য জেল খেটেছি। হয়রানিমূলক মামলায় আসামি হয়েছি। অথচ মূল্যায়ন করা হলো না।’
এ বিষয়ে যশোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর বলেন, কোনো কোনো কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগীদের বাদ দেয়া হয়েছে। যা অনাকাঙ্খিত। কেন্দ্রে যে সুপারিশ করা হয়েছিল অনেক জায়গায় তা মানা হয়নি। এটি কেন্দ্র থেকে করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পী বলেন,কমিটিতে অনেকে এসেছেন যাদের আন্দোলন সংগ্রামে কোনোদিন দেখা যায়নি। তবে,  কোনো কোনো ইউনিট যোগ্য নেতৃত্বের হাতে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, যশোরে ছাত্রদলের কমিটিতে তার কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। একটি  মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কোনো অর্থ লেনদেনের প্রশ্নই ওঠেনা। এ বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও খুলনা বিভাগীয় টিম লিডার মিজানুর রহমান সজিবের সাথে কথা বলতে বলেন। মিজানুর রহমান সজিব জানান,জেলা ছাত্রদলের সুপার ফোর নেতাদের নিয়ে, কেন্দ্রীয় কমিটির পাঁচজন ও বিভাগীয় টিমের চারজনের সমন্বয়ে যাচাই বাছাই করে কমিটি দেয়া হয়েছে। ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে বলা হয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগ  প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft