মতামত
শিরোনাম: ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন কে?       যশোরে দেড় লাখ টাকা ছিনতাই ও ছুরিকাঘাত ঘটনায় মামলা       কৃষির মাধ্যমে সমবায়কে এগিয়ে নিতে হবে : এমএ মান্নান       যশোরে ভেড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব        শরণখোলায় হরিণের ১৯টি চামড়াসহ দু’জন আটক       পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ৫ ফেব্রুয়ারি       মোংলা বন্দরে ক্ষতির শিকার হচ্ছে বিদেশি জাহাজ, আসতে অনীহা প্রকাশ       উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে চৌগাছার জয়       মেয়র প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ       শেষ ওয়ানডে খেলতে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ      
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে শেখ মফিজুর রহমানের যুগান্তকারী আদেশ
অ্যাডভোকেট এখলেছার বাচ্চু
Published : Wednesday, 13 January, 2021 at 11:04 PM, Count : 148
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে শেখ মফিজুর রহমানের যুগান্তকারী আদেশসাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা জজ শেখ মফিজুর রহমানের আদালতে ৩১/২০ নং মিস আপিল মোকদ্দমায় গত ১৪ ডিসেম্বর এক যুগান্তরকারী (Landmark) আদেশ দেয়া হয়েছে। মূল আপিল শুনানি শেষে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নিয়ে সাতক্ষীরা সদর সহকারী জজ আদালতের ২৩/২০২০ নম্বর মামলায় প্রদত্ত ৭/৯/২০২০ তারিখের তর্কিত আদেশটি পরিবর্তিত আকারে বহাল রেখে প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে তিনি অত্যন্ত ন্যায়পরায়ন অবস্থানে থেকে উক্ত দিকনির্দেশনাপূর্ণ আদেশটি প্রদান করেছেন বলে আমি মনে করি।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটি কর্তৃক গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলাকালে কিছু সাংবাদিক হঠাৎ বল প্রয়োগে প্রেসক্লাবের দখল ও নিয়ন্ত্রণ নেন। সংগত কারণে জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটি  সাতক্ষীরা সদর সহকারী জজ আদালতে ২৩/২০ নম্বর দেওয়ানী আদেশাত্মক নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা করেন এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে অন্তর্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রাপ্ত হন। ওই আদেশ দ্বারা ক্ষুব্ধ হয়ে জবরদখলকারীপক্ষ সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতে ৩১/২০ নম্বর মিস আপিলটি দায়ের করেন।
বিজ্ঞ জেলা জজ উক্ত মিস আপিল মোকদ্দমায় দু’পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে ১৪ ডিসেম্বর যে আদেশটি প্রদান করেছেন তা নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী।
তিনি তাঁর আদেশে ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও নতুন নির্বাচন পরিচালনার জন্য সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন। যার কাঠামো হলো- কমিটি প্রধান পুলিশ সুপার, সদস্য জেলা প্রশাসক প্রতিনিধি, এনএসআই প্রতিনিধি, ডিজিএফআই প্রতিনিধি, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মমতাজ আহমেদ।
কমিটিকে আদেশ প্রাপ্তির ৪০ দিনের মধ্যে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবকে গতিশীল করার লক্ষ্যে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্নের মাধ্যমে কার্যকরী কমিটি উপহার দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি তাঁর আদেশে সংবাদপত্র রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং প্রেসক্লাব একটি সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান বলে উল্লেখ করেছেন। এবং কোনোভাবেই এই প্রতিষ্ঠানের গতিরোধ করা সমীচিন নয় বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি প্রেসক্লাবের ভোটার তালিকায় অযোগ্য ব্যক্তিদের সদস্যপদ রোধে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্দেশনাও দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র মোতাবেক সদস্যপদ প্রাপ্তির আবেদন এবং সে সংক্রান্ত আপত্তি (যদি থাকে) গ্রহণপূর্বক যাচাই বাছাই সাপেক্ষে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্যপদ পুনঃনির্ধারণ করাসহ সে অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গঠিত কমিটির প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি তাঁর আদেশে আরও উল্লেখ করেছেন যে, ‘কমিটি নিশ্চিত করবেন যে, সাংবাদিকতার
সাথে প্রকৃতপক্ষে জড়িত ব্যক্তিরাই যেন প্রেসক্লাবের সদস্যপদ প্রাপ্ত হয়। তবে অত্র কমিটির কোন সদস্য পরবর্তী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে ভোটার তালিকা প্রণয়ন কাজে অংশ গ্রহণ করলেও নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে তাদের (সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব) মনোনীত বাকী সদস্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে অন্তুর্ভূক্ত হবেন’। পর্যবেক্ষনে আদালত আরও বলেন যে, ‘এই মামলার সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রতিপক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীর আরগুমেন্ট এর ফোর্সকে উপেক্ষা করা সমীচিন নয়, বিজ্ঞ বিচারিক আদালত প্রয়োগযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ অভিমতের ওপর নির্ভর করে আদেশ প্রদান করে নীতিগতভাবে তথ্য ও আইনগত কোনো ভুল করেননি। ফলশ্রুতিতে এই মিস আপীল নামঞ্জুরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো’।
এ কথা ঐতিহাসিক ভাবে সত্য যে, দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে সংবাদপত্র অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এই মাধ্যমের দ্বারা সমাজের নেতিবাচক দিকগুলোকে যেমন বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় তেমনি ইতিবাচক বিষয়ের প্রতি মানুষের সচেতনা সৃষ্টিসহ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে চলার পথ দেখিয়ে দেয়। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচার বিরোধী  আন্দোলন বিষয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্রগুলির পক্ষপাতহীন চরিত্রসহ ঐতিহাসিক একটি মর্যাদা রয়েছে। এবং এই সব সংবাদপত্রের নেপথ্যে যাঁরা কাজ করেন তাদেরকে বলা হয় সংবাদ কর্মী বা সাংবাদিক।
প্রকৃত সাংবাদিকদের নির্ভীকতা সংবাদপত্রের মূল চালিকা শক্তি। এই পেশায় নিয়োজিত থেকে প্রতিনিয়ত অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে কলম যুদ্ধ করতে হয় বিধায় অন্যায়কারীদের লক্ষ্য থাকে কলম যোদ্ধার কলম এবং জীবনকে থামিয়ে দেয়া। এ দেশের বহু সাংবাদিককে এ পথে কাজ করতে গিয়ে অকালে জীবন দিতে হয়েছে। তাই নিজেদের জীবন সুরক্ষার স্বার্থে
সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বড় একটি প্লাটফর্মের নাম হলো ‘প্রেসক্লাব’।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা প্রবাদ পুরুষদের মধ্যে অনেককে এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশাদারিত্বে থাকা অবস্থায় প্রাণ দিতে হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দিন তার অন্যতম উদাহরণ। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব একটি ঐতিহাসিক মর্যাদা বহন করলেও বেশ কিছু বছর এই ক্লাবের কিছু সদস্যের আত্মকেন্দ্রিকতা এবং আমিত্বের পরস্পর দ্বন্দ্ব এই প্রতিষ্ঠানকে অনেক দুর্বল করে ফেলেছে। আমার দেখা মতে ২০০০ সালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্যরা তিন ভাগে বিভক্ত ছিলেন। শুধু বিভক্ত নয়, সব সময় সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে নিমজ্জিত ছিলেন। এহেন নিমজ্জিত অবস্থা থেকে তৎকালীন সাতক্ষীরার এনডিসি জনাব জাকির হোসেন কামাল তাদেরকে উদ্ধার করে হাতে হাত মিলিয়ে একসাথে চলতে শিখিয়েছিলেন। সেই শিক্ষা দীর্ঘদিন বজায় থাকলেও পরবর্তীতে তা আর তারা ধরে রাখতে পারেননি। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনো সংবাদকর্মীদের বিভাজন প্রত্যাশা করিনা। তবুও চোখের সামনে আমাদেরকে তা মাঝে মাঝে দেখতে হয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে বিভাজনের কারণ খুঁজতে গিয়ে যা পেয়েছি তা হলো বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংবাদকর্মীদেরকে নিজেদের স্বার্থে মুঠোবন্দী রাখতে চায়। আর এই চাওয়া পাওয়াকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির অশিক্ষিত এবং সুবিধাবাদীদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রবেশ ঘটছে। ফলশ্রুতিস্বরূপ স্বচ্ছ সাংবাদিকতা পেশাদারিত্বের ওপর বার বার আঘাত আসছে। সংগত কারণে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অতীত গৌরবগাঁথা ঐতিহ্য থেকে বার বার চ্যুত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর সহকারী জজ আদালতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে যে মামলাটি হয়েছিল তার সত্যতা সাতক্ষীরার সচেতন মানুষের কাছে খুবই স্বচ্ছ। সদর সহকারী জজ আদালত প্রদত্ত জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে আদেশাত্মক নিষেধাজ্ঞা আদেশটির মধ্যে কিছুটা আইনগত স্বচ্ছতার অভাব থাকলেও উল্লেখিত মিস আপিল মামলায় বিজ্ঞ জেলা জজ সাহেব তাঁর আদেশের দ্বারা পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা দান করেছেন বলে আমি মনে করি। অর্থাৎ
বস্তুনিষ্ঠ যুক্তি এবং পর্যবেক্ষণ দ্বারা বিজ্ঞ জেলা জজ মহোদয়ের আদেশটি একটি যুগান্তকারী আদেশের মর্যাদা পেয়েছে।
একজন ভালো বিচারককে অবশ্যই প্রচন্ডভাবে অনুভূতিশীল হতে হয় বলে আমি মনে করি। অনুভূতিশীল না হলে বিচার প্রার্থীর ব্যথা বেদনা তাঁর পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব হয় না। অর্থাৎ বিচারকের মধ্যে এক ধরনের স্পর্শকাতরা এবং যন্ত্রণা থাকতে হবে। যা তিনি আইনের কষ্ঠিপাথরে যাচাই করে শৃজনশীল ভাবনার মিশ্রনে প্রকাশ ঘটাতে পারেন। এবং সেটাই হবে ভালো আদেশ। যা সকল স্থানে সব সময় অনুসরণীয় হয়ে থাকে।
আইনের কষ্ঠিপাথরে যাচাই করে সৃজনশীন ভাবনা ও যুক্তির মিশ্রনে প্রদত্ত একটি রায় বা আদেশকে আমি উন্নত সাহিত্যের সাথে তুলনা করতে পারি। উন্নত সাহিত্য চর্চায় মানুষ যেমন তাঁর মননকে জাগ্রত করতে পারে, পরিশিলিত করতে পারে ঠিক অনুরূপভাবে একটি উন্নত রায় বা আদেশের দ্বারা মানুষ তাঁর সঠিক চলার পথ খুঁজে পেতে পারে। পরিশেষে বলবো সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নিয়ে উদ্ভুত মিস আপিল মামলায় তিনি যে আদেশটি দিয়েছেন তা শুধু সাতক্ষীরার প্রেসক্লাবের জন্য নয় বরং সকল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি একটি Landmark আদেশ হিসাবে অনুকরণীয় এবং অনুসরণীয় হতে পারে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft