সারাদেশ
শিরোনাম: ইউপি নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড়        অখ্যাত অনলাইনের কার্ড কিনে ভুয়া সাংবাদিকদের যথেচ্ছা       চার কর্মকর্তাসহ আটজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট       কেশবপুর, কালীগঞ্জ ও মহেশপুরসহ ৩০ পৌরসভায় ভোট রোববার       মোরেলগঞ্জে হাত-পা বেঁধে যুবককে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল        মণিরামপুরে গুলিভর্তি পিস্তলসহ যুবক আটক       শেখ হাসিনার উন্নয়নের জাদু দেশপ্রেম: শাহীন চাকলাদার এমপি       সাত বছরেও মেলেনি চৌগাছায় নিখোঁজ ৭ জনের খবর       যশোরে স্কপের সভায় শ্রমজীবীদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান       উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকা মার্কায় ভোট দিন : জাহাঙ্গীর কবির নানক      
মানিকগঞ্জে মধু আহরনে ব্যস্ত মৌচাষিরা
জালাল উদ্দিন ভিকু, মানিকগঞ্জ থেকে :
Published : Monday, 25 January, 2021 at 7:32 PM, Count : 156
মানিকগঞ্জে মধু আহরনে ব্যস্ত মৌচাষিরা  মানিকগঞ্জে এখন সরিষার ভরা মৌসুম। এই সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌ-চাষিরা। সরিষার আবাদ হয়েছে চোখে পড়ার মতো। মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে চলতি মৌসুমে ৬০ থেকে ৭০ মেঃ টন মধু সরিষা ফুল থেকে সংগ্রহ করার টার্গেট করে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে মৌ-চাষিরা। সাড়ে  এক দেড় কোটি টাকা মধু বিক্রয় হবে বলে ধারনা করছে মৌচাষিরা। ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, সাটুরিয়া, সিংগাইর, হরিরামপুর, এলাকার বিভিন্ন স্থানে ৪ শতাধিক মৌয়ালরা সরিষা ক্ষেতে কাঠের বাস্ক মৌমাছি পালন করে মধু উৎপাদন মাঠে নেমে পরেছে।
মৌচাষিরা সকালে তাদের বাস্ক থেকে মৌমাছি ছেড়ে দেয়। সন্ধ্যার সময় দল বেধেঁ মৌমাছি মধু আহরন করে আবার ফিরে আসে। মধু ভারত, মালেশিয়া,কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে এলাকার অনেক যুবক। বেকার যুবকের অনেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষন নিয়ে অর্থ উদ্ধাম্বনী  চিন্তা ও আত্মবিশ^াসকে বিনিয়োগ করেছে সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি পালন ও মধু উৎপাদন খাতে। মানিকগঞ্জে এবার ৩৬ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য ৪ শতাধীক মৌখামারী সরিষা ক্ষেতের আশে পাশে ৪ হাজার ৭৩৮টি বাস্ক বসিয়েছেন। ফরিদপুর, যশোহর, গাজিপুর, পাবনা, নারায়নগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, সাতক্ষিরা ও খুলনা থেকে অনেক মৌচাষিরা মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মধু সংগ্রহের জন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়েছে। শুধু মধু সংগ্রহের পরে সরিষা যেমন দিচ্ছে তেল, সঙ্গে দিচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এসব এলাকাগুলোতে এখন সৌখিন প্রকৃতি প্রেমিরা বেড়াতে আসছে প্রতিদিন।  তারা অপরুপ সোন্দর্য ধরে রাখার জন্য ক্যামেরা বন্দি করে রাখছেন। যুবক যুবতি, কিশোর কিশোরি থেকে শুরু করে প্রকৃতিপ্রেমি সকল শ্রেণির এই অপরুপ দুশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে। এছাড়া ষরিসা  চাষে রয়েছে দ্বিগুন লাভ।  জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির জন্য এর ফুল ও পাতা ঝরে জৈব সার তৈরি হয়। ফলে মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলার অনেক কৃষক ধানের পাশাপাশি সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকে পরেছে। চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকুলে থাকার দরুন সরিষা আবাদ করে অনেক কৃষক বেশি লাভবান হয়েছে। মানিকগঞ্জে সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে পুরো মাঠ। সরিষা ফুলের মনমাতানো গন্ধে সবাইবে আকৃষ্ট করে। মৌমাছি ফুলে ফুলে করছে পরাগায়ন। সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌমাছি পালনের কারনে ক্ষেতে কোন কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছেনা। ফসল তুলনামূলোক ভাল হয়। এছাড়া ক্ষেতের পাশে বাস্কে মৌমাছি পালন করে মধু উৎপাদনও হচ্ছে নির্বিঘেœ। এ বছর পরিবেশ ও আবহাওয়া ভাল থাকার দরুন সরিষা চাষ করে গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি লাভবান হবেন বলে কৃষকেরা আশাবাদী। তারা ভাল বীজ সনাক্ত করে সঠিক সময়ে রোপনকরে। রোগ প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন ধরনের সারের পাশাপাশি কীটনাশক প্রয়োগ করেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আগাম ফলন ফলিয়ে তা বাজারজাত  করতে পারলে উচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে অধিক লাভ করতে পারবে। এক বিঘা জমিতে চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে খরচ হয়ছে এক থেকে দের হাজার টাকা। ফলন ভাল হলে প্রতি বিঘাতে চার থেকে পাঁচ মন সরিষা আবাদ হবে। বর্তমানে বিভিন্ন হাট বাজারে প্রতিমন সরিষা ১৮শ’ টাকা থেকে ২২শ’ টাকা। বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে সরিষা অবাদ করলে লাভ দ্বিগুন হয়। কাজেই সরিষা চাষে কৃষকেরা বেশি আগ্রহ থাকে। প্রতি বছর মৌচাষিরা নভেম্বর মাস থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য বেড়িয়ে পরে।
 মৌচাষি হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিদিন তাদের একটি খামারে প্রায় ১০ থেকে ১২ টন মধু আহরন হয়। তাদের মধু স্কয়ার, বেক্সিমকোসহ বিভিন্ন কোম্পানীতে বিক্রিয় করা হয়। তবে মানিকগঞ্জে গত বছরে প্রায় ৬০ মেঃ টন মধু আহরন করা হয়েছে। সাতক্ষীরা  জেলার শ্যামনগর এলাকার  মৌচাষী সিরাজুল ইসলাম জানান,আমরা মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলাতে তিন থেকে সাড়ে তিন শতাধিক খামারির প্রায় এক হাজার লোক এসেছি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য। ঘিওর উপজেলাতে দেড় শতাধিক বাস্ক বসিয়েছি। প্রতি সপ্তাহে এক বার বাস্ক থেকে মধু বের করা হয়। প্রতিটি বাস্ক থেকে তিন চার কেজি মধু পাওয়া যায়। মানিকগঞ্জে দুই মাস মধু সংগ্রহের পরে তারা আবার গোপালগঞ্জ  যাবে মধু সংগ্রহের জন্য। বছরে তারা ছয় মাস মধু সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত থাকেন। খুচরা প্রতি কেজি মধু তারা ২৫০ টাকা থেকে ৩শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। কোম্পানীর কাছে তারা ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কেজি মধু বিক্রি করেন। সরকার যদি মূল্য ঠিক করে দিতেন তাহলে মৌয়ালরা লাভবান হতেন। বাবুল নামের এক মৌচাষি জানান, সাতক্ষীরা থেকে অষ্ট্রেলিয়ান ম্যালেফিয়ান জাতের মৌমাছি বাস্ক নিয়ে সদর উপজেলার মুলজান এলাকায় বিভিন্ন সরিষা ক্ষেতের পাশে বসিয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৫ হাজার টাকার খুচরা মধু বিক্রি করেছে। এ মৌসুমে তিনি ২ লাখ টাকার মধু বিক্রির আশা করছেন।  
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে সরিষা ফুল থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টন মধু আহরনের সম্ভবনা রয়েছে। ফসলি জমিতে মধু আহরনে জমির কোন ক্ষতি হবার সম্ভবনা নেই। গত বছরে প্রায় ৬০ মেঃ টন মধু আহরন করা হয়েছে।  যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় এক কোটি টাকা। তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি জানান।  




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft