মতামত
শিরোনাম: খুলনা বিভাগে ছাড়িয়েছে তিন লাখ        যশোরসহ ১৬ নার্সিং ইনস্টিটিউটকে কলেজ ঘোষণা       প্রতারণা মামলায় এক ব্যবসায়ীর দুই বছরের কারাদন্ড       যমেক হাসপাতালে ডায়াবেটিস পরীক্ষা ফ্রি        বেনাপোলে র‌্যাবের হাতে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক        সাত শর্তে দু’বোনকে প্রবেশনে মুক্তি       যশোরে ডাক্তার ছেলের বিরুদ্ধে অসহায় বৃদ্ধা মায়ের মামলা       ৮ কোটি টাকার সম্পত্তি জবরদখলে রেখেছে সাড়াপোলের বিল্লাল চক্র       জড়িতদের আটক ও শাস্তির দাবিতে ঝাটা মিছিল       নৌকার বিজয় হলে শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী হবে: কেশবপুরে মোজাম্মেল হক       
সত্যেরে লও সহজে
মিজানুর রহমান
Published : Tuesday, 16 February, 2021 at 10:55 PM, Update: 16.02.2021 10:58:11 PM, Count : 96
সত্যেরে লও সহজেমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ চলাকালে একদিন কথাচ্ছলে একজন ধর্মযাজক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনকে বললেন, আসুন আমরা জাতির এ দুঃসময়ে মহান ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের পক্ষে থাকেন। প্রেসিডেন্ট মুচকি হেসে বললেন, ঈশ্বরকে নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই। আমি জানি, ঈশ্বর সব সময় ন্যায় আর সত্যের পক্ষে থাকেন। বরং আসুন, আমরা সবাই প্রার্থনা করি, এ জাতিটা যেন সবসময় ঈশ্বরের পক্ষে থাকে। ঈশ্বরের পক্ষে থাকা মানে সত্যের পক্ষে থাকা।
সত্য মানুষকে পথ দেখায়, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়, বাধার পাহাড় ডিঙাতে শক্তি দেয় আর কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর রাস্তা সুগম করে দেয়। সত্যের পথে থেকেই যেমন বহু জাতি পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করছে, তেমনি সত্যের পথ থেকে দূরে সরে গিয়ে বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।
আজকের পৃথিবীতে সত্য কোথায়? সে কি পথ হারিয়েছে? আমরা তো দেখছি চারদিকে অসত্যের ও মিথ্যা ছড়ানো। মিথ্যা ভাইরাসের মতো ছড়ায় চারদিকে দ্রুতগতিতে, আক্রমণ করে সবাইকে সমহারে, লণ্ডভণ্ড করে দেয় ব্যক্তি-সমাজকে, গড়ে তোলে অসত্যের শিক্ষায় অবগাহিত এক ভঙ্গুর জাতি। সমাজ থেকে পালিয়ে যাওয়া সত্যের অভাবে একদিন সমাজ সত্য-না-জানা লোকজনে ভরে যাবে।
সত্য নিরুদ্দেশের পথে প্রায় সব দেশে। রুশ লেখক পিতার পোমারানসেভ একটা বই লিখেছেন এ বিষয়ে : 'Nothing is True and Everything is Possible.' বিশ্বআদৃত লেখক পিটার ড্রাকার বলেছেন : আমরা মানব ইতিহাসে সবচেয়ে আলোড়িত সামাজিক পরিবর্তনের মধ্যে বসবাস করছি। দুঃখজনক হল, আমরা অভাবনীয় সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হচ্ছি। আমরা কোনো পরিবর্তনকে বন্ধ যেমন করতে পারি না, তেমনি এটাকে মন্থরও করে দিতে পারি না। আমরা সত্যের চেয়ে ‘অভিমত’কে অগ্রাধিকার দিচ্ছি, যার ফলে আমরা নিজের সুবিধা মতো অবস্থান বদল করতে পারছি। এটি সত্য থেকে দূরে সরে যাওয়ার অন্যতম কারণ। সত্যের ওপরে আমাদের ভাবাবেগ আর অভিমত স্থান দখল করে আছে। আমরা এ কাজটি করে ফেলেছি। আমরা সত্যের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। নিজের ভাবাবেগ দ্বারা মোহিত হয়ে আমরা পরস্পর বিরোধী বিষয় কামনা করি।
আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি; কিন্তু কেউ আমাদের পথ দেখাক তা চাই না। আমরা বিচার চাই, রায় চাই না। আমরা ফলাফল চাই, শৃঙ্খলা চাই না। আমরা ভালোবাসা নিতে চাই, দিতে চাইনা। আমরা সহনশীলতা চাই, মতপার্থক্য পছন্দ করি না। আমরা ঐক্য চাই, আবার এক হতে পছন্দ করি না। আমরা সমাধান চাই, আবার মনে করি কোনো কিছুই অকাট্য নয়। আমরা সত্য বলতেই শুধু ভয় পাই না, সত্য শুনলে অনেক সময় তা বেয়াদবি মনে করি। যারা সত্য বলেন তাদেরকে আমরা মন্দ-রূঢ়-অভদ্র বলতে দ্বিধা করি না।
মূলত সত্যের পরিধি অনেক ব্যাপক। এর মধ্যে রয়েছে শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা, চরিত্র, বিশ্বাস আর নীতি। স্বাভাবিক কারণেই এগুলো খুবই কঠিন বিষয়। সত্য দেয় নির্মলতা আর স্পষ্টতা। আমাদের চারপাশে যা কিছুই ঘটুক না কেন, ভরসার পাত্র হিসেবে, সত্য আমাদের রাস্তা দেখায়। সত্য কাটে, রক্ত ঝরায়, আঘাত করে ঠিকই; কিন্তু এ সত্যই আমাদের এমন বন্ধনে আবদ্ধ করে যা ‘ভাবাবেগ আর অভিমত’ কখনও পারে না।
আমরা যখন সত্য বলার পর ‘কিন্তু’ শব্দটি দিয়ে আরও কিছু বলার করার চেষ্টা করি, তখন আমরা নিজের অজান্তেই ভাবাবেগ আর অভিমতকে সত্যের ওপরে স্থান দিয়ে ফেলি।
উন্নয়নের অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দুতে সত্যকে অধিষ্ঠিত করতে না পারলে সভ্যতার বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। গণতন্ত্রের আবশ্যকীয় সম্পদও হল সত্য চর্চা। সত্য আবিষ্কারের বিষয় নয়; উদ্ঘাটনের বিষয়। সত্য তো সত্যই। সত্য আছে আমাদের চারপাশে, ঠিক অক্সিজেন-আলো-আঁধারের মতো। একে খুঁজে বের করা আমাদের কাজ, দায়িত্ব।
মাধ্যাকর্ষণের বিষয়টি যখন মানুষের গোচরে আসে তখন তা চিরসত্য বলে আমরা মেনে নিয়েছি। যতদিন মাধ্যাকর্ষণ সম্পর্কে আমরা জানতাম না, তখনও যে মাধ্যাকর্ষণ ছিল এটাই সত্য। নিউটন শুধু সত্যটা উদ্ঘাটন করেছিলেন। এ সত্যকে লুকানোর কিছু নেই। সত্য সদা সত্য, সর্বত্র একইভাবে সত্য। দুই আর দুই যোগ করলে চার হয়, তা আজ যেমন সত্য কালও তেমনি সত্য ছিল, আগামীতেও সত্য হিসেবেই বিরাজ করবে মানবসমাজে।
যখন মানুষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে উদ্ঘাটন করল পৃথিবী গোলাকার, তখন তা সত্য হিসেবে মেনে নিল সবাই, সর্ব সমাজে, সর্ব দেশে। যখন সমতল মনে করা হতো, তখনও পৃথিবী গোলাকারই ছিল, কারণ সত্য সর্বকালেই সত্য।
আবার, সত্য নির্দিষ্ট কোনো সমাজ বা দেশের জন্য নয়, সবার জন্য। যদি কোনো কিছু সত্য হয়, তা সব জায়গার সব মানুষের এবং সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে, এ কথা সত্য সব দেশের সব মানুষের জন্য, সব সময়ের জন্য।
এখন আমরা দেখছি, সত্য প্রায় সর্বত্র পরাজিত হচ্ছে। সত্যের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন চলছে। ফেসবুক, টুইটার, ইমো, ভাইবার, হোয়াটসআপসহ সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বিচারে আবেগতাড়িত মতামত আর নিজ নিজ মনোভাব যথেচ্ছভাবে ছড়িয়ে দিয়ে সত্যের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে অহরহ। অথচ সত্যটা হচ্ছে, আবেগ আর নিজস্ব বিশ্বাস কোনো ঘটনাকে পরিবর্তন করতে পারে না।
অপরাধী মন আর চিন্তা নিয়ে সত্যকথন কখনও সম্ভব নয়। অপরাধগ্রস্ত সমাজে সত্য রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে; সমতা ঢুকতে পারে না সত্যের জগতে। ধীরে ধীরে সত্য যেন আমাদের কাছে অচেনার মতো হয়ে যায়।
সত্যকথনের গুরুত্ব দিন দিন কমে যাচ্ছে। তার স্থান দখল করে নিচ্ছে আবেগ আর ব্যক্তিগত বিশ্বাস। সত্যকথনের চেয়ে মানুষ যেন ‘ফলাফলের যৌক্তিকতা’কে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
সত্য বলার জন্য নির্মল মন যেমন চাই, তেমনি নির্জলা চিন্তাও প্রয়োজন। প্রাতিষ্ঠানিক সুস্বাস্থ্যের জন্য যেমন সত্যকথন প্রয়োজন, তেমনি তা ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর জন্যও প্রয়োজন। ধর্মগ্রন্থগুলোতেও আমরা দেখি, সত্যের ওপর সব ধর্মই বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে।
মানুষের হাতেই সত্য বিকৃত কিংবা বিড়ম্বিত। এ কাজটি কৌশলে অনেক মিডিয়া কর্মীও করে থাকেন। একবার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্মেলনে এক বিকালের পরিবেশটাকে আনন্দময় করার জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় আমন্ত্রণ জানালেন। দু’জনে রাজি হয়ে ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় দৌড়ালেন। পরদিন লন্ডনের টাইমস পত্রিকা ওই দৌড় সম্পর্কে রিপোর্ট দিল : ব্রিটিশ ও রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের দৌড় প্রতিযোগিতায় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত বিজয়ী হয়েছেন। একই দিন একই বিষয়ে রাশিয়ার ইজভেসতিয়া পত্রিকা রিপোর্ট করল : বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতের মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতায় রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সর্বশেষ স্থানটির আগের স্থান অধিকার করেন। কথার প্যাঁচে সত্যকে কীভাবে বিভ্রান্তির বেড়াজালে আটকে ফেলা হল! হরদম হচ্ছে এসব।
পৃথিবীজুড়ে চলছে তথ্যযুদ্ধ। এখানে সত্য হারিয়ে যাচ্ছে। সত্যকে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হবে। কীভাবে এ যুদ্ধে সত্য জয়ী হবে? শুধু ঘটনাভিত্তিক-ঘটনানির্ভর তথ্য বৈশ্বিক তথ্যযুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নয়। নতুন কিছু ভাবতে হবে।
এখন সোশ্যাল মিডিয়া সবাইকে সুযোগ দিচ্ছে নিজের মতো করে বাস্তবতাকে তুলে ধরতে। সাবধান হতে হবে সবাইকে। সত্যকে আড়াল করার কাজটি এসব মিডিয়া করে খুবই সূক্ষ্মভাবে।
ধোঁকাবাজি মিথ্যারই নামান্তর। সমসাময়িক জীবনে ধোঁকাবাজি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি তথ্যসূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় পাঁচ লাখ আমেরিকান জাল ডিগ্রি নিয়ে চাকরি করছে। জেনারেল অ্যাকাউন্টিং অফিসের এক তদন্তে দেখা যায়, ২৮ জন ফেডারেল কর্মকর্তা চাকরিতে ঢোকার সময় যেসব ডিগ্রির কথা উল্লেখ করেছিলেন, তারা তা সত্যিকার অর্থে অর্জনই করেননি।
এ ধরনের বিষয় উল্লেখ করে মোহলার নামের একজন গবেষক তার বিখ্যাত একটি বইয়ে একটি অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়েছেন : ওয়েলকাম টু দি এজ অব ডিজঅনেস্টি। আর আমরা তো জানি, ডিজঅনেস্টি হয় সত্যের অভাবে।
সত্য ও ন্যায় হচ্ছে জীবনের আলোকবর্তিকা। সত্যের স্পর্শে জীবন হয়ে ওঠে সুন্দর। এই চলমান সত্য চিরকালীন এবং চিরব্যাপ্তি। যুগ থেকে যুগান্তরে অন্তহীন এর যাত্রা। মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে লড়াই হয়েছে প্রতিনিয়ত। সত্য ও মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়-এর মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়েছে। লড়াই ও দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে সত্যের জয় হয়েছে। আমরা জানি, সত্য ও মিথ্যা-এই দুই বিপরীত শক্তির মধ্যদিয়ে মানুষকে পথ চলতে হয়। সত্যের শক্তি মানুষকে সৎ, নির্লোভ ও ত্যাগী জীবনের দিকে চালিত করে। মিথ্যার শক্তি মানুষকে নিয়ে যায় লালসা, পরিভোগ ও স্বার্থপরতার পথে। আজকের দুনিয়ায় মানুষ সততা ও অসততার দ্বন্দ্বে প্রচন্ডভাবে দোদুল্যমান। আমাদের চারপাশে অসততা এমন শক্তি নিয়ে সমাজকে গ্রাস করছে যে-সৎ ও সরল মানুষ ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছে। সততার আদর্শ ও মহিমা থেকে বিচ্যুত হওয়ার লক্ষণ মানুষের মধ্যে ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।
সততা একটি শক্তি। কখনো অসততার জয় হলেও চূড়ান্ত বিচারে সততার জয় অবশ্যম্ভাবী। সততাই মানুষকে মুক্তি ও কল্যাণের পথ দেখায়। যে অসৎ সে হয়তো কখনো ভোগে, সম্পদে ও বিলাসিতায় অনেক বড় হয়ে ওঠে, কিন্তু সে ভোগের মধ্যে কখনো প্রকৃত শান্তি বা প্রশান্তি থাকে না। সে সর্বত্র অসততার পীড়ন অনুভব করে। অসৎ মানুষের মৃত্যু কেউ মনে রাখে না। পক্ষান্তরে সৎ যাঁরা-তারা যদিও সাময়িক কষ্টভোগ করেন- কিন্তু তাদের ঠাঁই হয় মহাকালের বুকে। এরই ধারাবাহিকতায় সংসার পালনে, সামাজিক জীবনযাপনে কতকগুলো সত্য চিহ্ন পরিস্ফুটিত হয়েছে যা মানুষের চলার পথকে সুন্দর করেছে। সত্যে ও ন্যায়ের পথ দেখিয়েছে। সত্যের সে কথাগুলো, শব্দগুলো মানুষের ভাবনার জগতকে বিকশিত করেছে- সমাজকে নতুন ভাবনায়, সত্যের অবগাহনে উচ্চকিত করেছে- সেই কথাগুলো, উপদেশগুলো মেনে চললে আমরা বর্তমান ঝঞ্চা-বিক্ষুব্ধ পৃথিবীকে নিশ্চয়ই অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসতে সক্ষম হবো, খুঁজে পাবো স্বর্গীয় সুখ জীবনের পরতে পরতে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft